বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

একসময় চেলসিরই ছিলেন লুকাকু। কিন্তু দলে অন্য স্ট্রাইকার থাকায় তরুণ লুকাকুর সুযোগ মিলত না বলে ধারে চলে গিয়েছিলেন ওয়েস্ট ব্রমে। সেখান থেকে আবার ধারে এভারটনে যাওয়াটাই তাঁর ক্যারিয়ারের গতিপথ বদলে দিয়েছে। চেলসি থেকে এভারটন কিনে নেয় তাঁকে। কিন্তু এভারটনে আলো ছড়ানোর পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে গিয়ে আর স্বস্তি পাননি লুকাকু। পরে কন্তে তাঁকে ইন্টার মিলানে নিয়ে যান।

লুকাকুর পুনর্জন্ম হয়েছে কন্তের অধীনেই। ২০১৬ সালে চেলসির দায়িত্ব পেয়েই যাঁকে কিনতে চেয়েছিলেন, তাঁকে তিন বছর পর হাতে পেয়েই সেরাটা বের করে নিয়েছেন কন্তে। মাত্র দুই মৌসুমেই লুকাকু ইন্টার মিলানে ৬৪ গোল করেছেন। লুকাকু ও কন্তে মিলে ইন্টারকে ১০ বছর পর ইতালিয়ান লিগের শিরোপা এনে দিয়েছেন। সফল সেই মৌসুম শেষে ক্লাবের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় বিদায় নিয়েছেন কন্তে। ওদিকে লুকাকুও ক্লাব ছেড়ে ফিরেছেন নিজের সাবেক ক্লাবে।

default-image

চেলসিতে দ্বিতীয় পর্ব শুরু করেছিলেন দুর্দান্তভাবে। লন্ডন ডার্বিতে আর্সেনালের বিপক্ষে গোল করেছেন। এরপর আরও তিন গোল করার পরই তাঁর গোলে ‘বিতৃষ্ণা’র দেখা মিলছে। চার ম্যাচ ধরে গোল পাচ্ছেন না। স্কাই স্পোর্ট ইতালিয়াকে কন্তে বলেছেন, লুকাকুর এই খরার পেছনে টুখেলের ব্যর্থতা কাজ করছে, ‘আমার ধারণা, সে (লুকাকু) আরও ভালো হতে পারে, বিশেষ করে ওর টেকনিকে। সে এমনিতেই অনেক উঁচু মানের। কিন্তু অবসরের আগপর্যন্ত একজন খেলোয়াড়কে নিজের উন্নতি করতে হয়। ম্যাচে মাঝেমধ্যে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন লুকাকুর জ্বলে ওঠা উচিত। না হলে সে তেমন স্ট্রাইকারদের একজন, যাদের বিপক্ষে খেলা কঠিন। কারণ, সে মাঠের যেকোনো জায়গায় ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। যখন এমন কাউকে আপনি মূল স্ট্রাইকার হিসেবে পাবেন, তাকে ব্যবহার করতে হবে। আমার মনে হয় না ওকে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটা চেলসি এখনো বুঝতে পেরেছে।’

টুখেলের কৌশলে ভুলটা কোথায়, সেটাও বের করে দেখিয়েছেন কন্তে, ‘গত মৌসুমে ওদের একজন পরিপূর্ণ সেন্টার ফরোয়ার্ড ছিল না, এ কারণে ওরা মাঠে জায়গা বদল করত। কিন্তু রোমেলু এমন একজন, যাকে ঘিরে আক্রমণ গড়া যায়। তারা যদি বুঝতে পারে লুকাকুকে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, তাহলে চ্যাম্পিয়নস লিগে এবার চেলসিকে আটকানোই অন্যদের মূল কাজ হয়ে দাঁড়াবে।’

default-image

চেলসির সমর্থকেরা আশায় আছেন, টুখেল দলের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়কে কাজে লাগানোর উপায় খুঁজে পাবেন। কন্তেও সে আশায় আছেন, ‘একজন কোচ তখনই ভালো কোচ, যখন তিনি খেলোয়াড়দের মধ্যে উন্নতি আনতে পারেন। আমার ধারণা, দুই বছরে রোমেলুকে নিয়ে দারুণ কাজ দেখিয়েছি আমরা। সে একটা নির্দিষ্ট ঘরানার স্ট্রাইকার। বক্সে লুকাকুকে আনতে পারলে ও ভয়ংকর। কিন্তু সে যদি মাঝমাঠে দৌড় শুরু করে, সেখানেও দুর্দান্ত গতির। বক্সে দুর্দান্ত এবং মাঝমাঠ থেকেও দৌড়াতে পারে। এমন খেলোয়াড় পাওয়া কঠিন।’

বর্তমান ফুটবলে লুকাকুর মতো আর একজনকে দেখছেন কন্তে। মজার ব্যাপার, তাঁকে পেতেও চেষ্টা করছে চেলসি, ‘আর্লিং হরলান্ডের মধ্যেও এই গুণ দেখতে পাই। আমি বহুদিন ধরেই লুকাকুকে দেখেছি। যখন চেলসিতে ছিলাম, তখন ওকে দলে চেয়েছিলাম। সে যখন ওয়েস্ট ব্রমে খেলত (২০১৩ সালে), তখনো লুকাকুর খোঁজ রাখতাম।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন