বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

১৯৯৫ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হয়েছিল ‘সার্ক গোল্ডকাপ’ নামে। প্রথম আসরের স্বাগতিক দেশ ছিল শ্রীলঙ্কা। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হেরে প্রতিযোগিতায় যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালকে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেও তীব্র লড়াইয়ের পর ভারতের কাছে হেরে যায় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে নির্ধারিত হয়েছিল সে ম্যাচের ভাগ্য। সেবার অধিনায়ক ছিলেন সত্যজিৎ দাস রূপু, কোচ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যান ইয়ং ক্যাং। এরপর সেমিফাইনালে বাংলাদেশের অভিযান থেমেছে আরও একবার, ঢাকায় ২০০৯ সালে।

default-image

১৯৯৭ থেকে দক্ষিণ এশীয় শ্রেষ্ঠত্বের এ প্রতিযোগিতার নাম হয়ে যায় ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ’। এ নামে প্রথম আসরটি আয়োজন করে নেপাল। বাংলাদেশ সেবার বাদ পড়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই। প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপের সঙ্গে ড্র করার পর ভারতের কাছে বাংলাদেশ হারে ৩-০ গোলে। গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ হতে হয়েছে ২০০৮ সালে কলম্বো, ২০১১ সালে দিল্লি, ২০১৩ সালে কাঠমান্ডু, ২০১৫ সালে কেরালা ও ২০১৮ সালে ঘরের মাঠে। সবশেষ ১৩ বছরে গ্রুপ পর্বের বাধাই পার হতে পারেনি বাংলাদেশ।

২০০৩ সালে ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দাপটের সঙ্গে খেলেই শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ হারিয়েছিল নেপাল (১-০), মালদ্বীপ (১-০) ও ভুটানকে (৩-০)। সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে গোল্ডেন গোলে জয় পায় বাংলাদেশ (২-১)। ফাইনালে মালদ্বীপের বিপক্ষে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ গোলে অমীমাংসিত থাকলে টাইব্রেকারে গিয়ে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। সেবার বাংলাদেশের কোচ ছিলেন অস্ট্রিয়ার জর্জ কোটান। অধিনায়ক ছিলেন রজনী কান্ত বর্মণ। যদিও ফাইনালে দুই হলুদ কার্ডের কারণে নিষিদ্ধ ছিলেন রজনী। ফাইনালে অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড ছিল রাইটব্যাক হাসান আল মামুনের হাতে।

default-image

১৯৯৯ সালে ইরাকি কোচ সামির শাকিরের অধীনে দারুণ খেলেই ফাইনালে যায় বাংলাদেশ। একইভাবে আর্জেন্টাইন কোচ দিয়েগো ক্রুসিয়ানির অধীনেও বাংলাদেশ ছিল দুর্দান্ত। ১৯৯৯ সালে ভারতের গোয়ায় বাংলাদেশ সাফের সূচনাটা করেছিল ভারতের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে। এরপর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে ৪-০ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত হয়। সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশ জেতে ২-১ গোলে। তবে ফাইনালে বাইচুং ভুটিয়ার কাছে হারতে হয় জুয়েল রানার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশকে। শিরোপার লড়াইয়ে ভারত বাংলাদেশকে হারিয়েছিল ২-০ গোলে।

২০০৫ সালে পাকিস্তানের করাচিতেও গ্রুপ পর্বে ভুটান (৩-০) ও নেপালের (২-১) বিপক্ষে জয়ের ভারতের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছায় আরিফ খানের বাংলাদেশ। ফাইনালে ৯৯ সালের মতোই প্রায় একাই বাংলাদেশকে হারান বাইচুং ভুটিয়া। ভারত জেতে ২-০ গোলে।

সাফে শেষবার বাংলাদেশ ফেবারিটের মতো খেলেছে ২০০৯ সালে, ঢাকায়। সেমিফাইনালে ওঠার আগে গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কাকে ৩-১, ভুটানকে ৩-১ গোলে হারালেও পাকিস্তানের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে বাংলাদেশ। ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরেই আর ফাইনালে খেলা হয়নি শহীদুর রহমান শান্টুর কোচিংয়ে খেলা বাংলাদেশ দলের। কিন্তু সেবার কে ভেবেছিল যে পরের চারটি আসরে বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বের বাধাই পার হতে পারবে না!

default-image

২০০৮ সালে কলম্বোর সাফে বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচ ড্রয়ের পর শ্রীলঙ্কার কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয়। ভুটানের সঙ্গে ১-১ ড্রটা ছিল বড় ধাক্কা। লঙ্কানদের বিপক্ষে হারটা ছিল রীতিমতো আঘাত। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটিতেও প্রথমে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। পরে ২ গোল শোধ করে ঘুরে দাঁড়ালেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। এরপর ২০১১ সালে নেপাল, মালদ্বীপের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে হার, ২০১৩ সালে আবার নেপাল ও পাকিস্তানের কাছে হার বাংলাদেশের ফুটবলের ক্রমাবনতিকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। ২০১৫ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৪-০ গোলে উড়ে যায় মারুফুল হকের বাংলাদেশ। মালদ্বীপের কাছে হার ৩-১ গোলে। ২০১৮ সালে গ্রুপে প্রথম দুই ম্যাচে ভুটান ও পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতলেও শেষ ম্যাচে গোলকিপার শহীদুল আলম সোহেলের মারাত্মক ভুলের খেসারত দিয়ে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয় জেমি ডের দলকে।

default-image

এবার জেমি ডেকে অব্যাহতি দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ অস্কার ব্রুজোনের হাতে বাংলাদেশের দায়িত্ব। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আরও একটি আসরে কি বাংলাদেশ ব্যর্থ হবে? কোচ জানিয়ে গেছেন রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতির এ আসরে ন্যূনতম ফাইনালে খেলা নাকি তাঁর লক্ষ্য। একসময় দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের ‘শক্তি’ হলেও বাংলাদেশেই সেই শক্তি এখন ক্ষয়িষ্ণু। ভারতের বিপক্ষে ১৮ বছর ধরে জয়হীন বাংলাদেশ; নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কাও এখন বাংলাদেশের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী। ফাইনালে খেলতে হলে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের যে নিজেদের ছাড়িয়ে যেতে হবে, সেটি না বললেও চলছে। তারপরেও আশায় বুক বাঁধতে তো ক্ষতি নেই।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন