বার্সেলোনার সুদিন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন লিওনেল মেসি।
বার্সেলোনার সুদিন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন লিওনেল মেসি।ছবি: টুইটার

বার্সেলোনা! কীভাবে?

ঋণ, ঋণ আর ঋণ। গত মৌসুম থেকে বার্সেলোনাকে ঘিরে তো এ কথাই শোনা যাচ্ছে। নতুন সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা বার্সার গদীনশিন হওয়ার পর সামনে চলে এসেছে বিশাল অঙ্কের ঋণ। গত মাসেও তা নিয়ে কম কথা হয়নি।

লিওনেল মেসিকে তাঁর চাহিদানুযায়ী বেতন দিয়ে ধরে রাখতে পারবে কি না বার্সা—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছিল কাতালান ক্লাবটির ঋণের অঙ্ক। ১.৪ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১১ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা)! এরপরও বার্সা বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবল ক্লাব হয় কীভাবে?

বিজ্ঞাপন

অতিকায় এই ঋণের অঙ্ক দেখে তাই ফোর্বসের জরিপ অবিশ্বাস্য লাগতেই পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সাময়িকীর সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকায় রিয়াল মাদ্রিদকে দুইয়ে ঠেলে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবল ক্লাবের আসন প্রথমবারের মতো অলংকৃত করেছে বার্সেলোনা।

ফোর্বসের হিসাবে, কাতালান ক্লাবটির বাজারমূল্য ৪৭৬ কোটি ডলার (প্রায় ৪০,৩৬২ কোটি টাকা)। শীর্ষস্থান থেকে দুইয়ে নেমে আসা রিয়াল মাদ্রিদের বাজারমূল্য ৪৭৫ কোটি ডলার (প্রায় ৪০,২৭৭ কোটি টাকা)। ১৬ বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবল ক্লাবের সিংহাসন অনেকটাই ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ করে নিয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল। এ সময় ইংলিশ ক্লাবটি ১১ বার ও স্প্যানিশ ক্লাবটি ৫ বার শীর্ষস্থান দখল করেছে।

দামি ফুটবল ক্লাব জরিপে কিছু মানদণ্ড ব্যবহার করেছে ফোর্বস। ক্লাবের বিভিন্ন খাত থেকে আয়, বার্ষিক রাজস্ব আয়, স্কোয়াডের সব খেলোয়াড়দের প্রাক্কলিত বাজারমূল্য, স্টেডিয়ামের প্রাক্কলিত মূল্য হিসাব করা হয়েছে। কিন্তু হিসেবে সুদযুক্ত ঋণ ছাড়া বার্সার আর কোনো ঋণ আমলে নেয়নি ফোর্বস। সম্ভবত পাহাড়সমান ঋণ নিয়েও তাদের জরিপে বার্সার সবচেয়ে দামি ক্লাব হিসেবে উঠে আসার এটা কারণ হতে পারে।

আয়ের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়েছে কর দেওয়ার আগের অঙ্কটি, খেলোয়াড় কেনাবেচা, নিবন্ধন ব্যয় ও ঋণ পরিশোধে জমানো অর্থ আমলে নেয়নি ফোর্বস।

তালিকায় শীর্ষ ২০ ক্লাবের গড় মূল্য ২.২৮ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৯,৩৩৩ কোটি টাকা)। গত দুই বছর বিবেচনায় ক্লাবগুলোর গড় দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশ। গত মৌসুমে এই শীর্ষ ২০ ক্লাবের গড় রাজস্ব আয় ছিল ৪৪৪ মিলিয়ন ডলার করে।

২০১৭–১৮ মৌসুমের তুলনায় রাজস্ব আয়ের হার কমেছে ৯.৬ শতাংশ। গত বছর করোনা মহামারি শুরুর পর স্টেডিয়ামে দর্শকদের আসা বন্ধ করা এবং বিশ্বব্যাপী ক্লাবগুলোর আয়ের নানা পথ বন্ধ হওয়া এর অন্যতম কারণ।

এ সময়ে নানা রকম ব্যয় নির্বাহের পর নিট আয় গড়ে ৭০ শতাংশ কমে (শীর্ষ ২০ ক্লাবের) নেমে এসেছে গড়ে ২৩ মিলিয়ন করে। তবে সমস্যার এখানেই শেষ নয়। এ মৌসুমেও করোনার কারণে ইউরোপিয়ান লিগগুলোয় মাঠে দর্শক আসতে দেওয়া হচ্ছে না। অতএব সামনে আয়ের অঙ্ক আরও কমাই স্বাভাবিক।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন