কত কোটি কোটি টাকা আয় করেন তাঁরা! দেশে দেশে ক্লাবগুলো তাঁদের বেতন কাটছে, এর মধ্যেও ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকে অনেক কিছু করছেন। ইংল্যান্ডে প্রিমিয়ার লিগের ফুটবলাররা নিয়েছেন ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ।
default-image

কদিন আগেও ব্রিটিশ স্বাস্থ্যসচিবের কাছ থেকে বেশ কটু কথা শুনতে হয়েছিল তাঁদের। করোনাভাইরাসে চারদিকে মানুষ যখন ধুঁকছে, তখন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা কামাই করা ফুটবলাররা কেন কিছু করছেন না, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন স্বাস্থ্য সচিব ম্যাট হ্যানকক। প্রিমিয়ার লিগের ১৬৫ জন খেলোয়াড়ের উদ্যোগ বুঝি সেটির জবাব হয়ে এল!

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ২০ ক্লাবের ১৬৫ জন খেলোয়াড়ের নানা অঙ্কের অনুদান দিয়ে বড় একটা তহবিল গঠন করেছেন, যা দিয়ে দেওয়া হবে দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার (এনএইচএস) দাতব্য তহবিলে (এনএইচএসসিটি)। উদ্যোগটার নাম—প্লেয়ার্স টুগেদার। ধারণা করা হচ্ছে, করোনার বিরুদ্ধে খেলোয়াড়েরা হাতে হাত মিলিয়ে গড়া এ তহবিলে প্রায় ৪০ লাখ পাউন্ড যোগ হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪২ কোটি টাকারও বেশি!

উদ্যোগটা মূলত লিভারপুল অধিনায়ক জর্ডান হেন্ডারসনের, এবং উদ্যোগটা তিনি নিয়েছিলেন স্বাস্থ্যসচিব ম্যাট হ্যানকক খেলোয়াড়দের সমালোচনা করার আগেই। গত কদিনে ২০ ক্লাবের অধিনায়কেরা বারবার বৈঠকে বসেছেন, তাতে বিভিন্ন ঝামেলা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দলের অন্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের রাজি করানোর ব্যাপারও ছিল।

খেলোয়াড়দের সঙ্গে এই তহবিলে দান করতে সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার গ্যারি লিনেকার, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিলসহ আরও পাঁচজন এগিয়ে এসেছেন। তহবিল সামলানোর দায়িত্ব হেন্ডারসনের সঙ্গে ভাগাভাগি করছেন আরও তিনজন—ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হ্যারি ম্যাগুয়ার, ওয়াটফোর্ডের ট্রয় ডিনি ও ওয়েস্ট হামের মার্ক নোবেল।

‘করোনার বিরুদ্ধে সামনে দাঁড়িয়ে যাঁরা লড়াই করছেন, এই উদ্যোগ থেকে পাওয়া অনুদান দিয়ে এনএইচএসসিটি শিগগিরই তাঁদের নানাভাবে সাহায্য করবেন। সেটা হতে পারে এনএইচএসের ডাক্তার ও চিকিৎসাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী ও কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্তদের নিরাপত্তা বাড়িয়ে’— বিবৃতিতে লিখেছেন খেলোয়াড়েরা।

ইংলিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানাচ্ছে, প্রতিটি দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা অধিনায়কেরা গত কয়েক দিনে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন, সর্বশেষ বৈঠক হয়েছে বুধবার। সেখানে অনেক জটিলতাই উঠে এসেছে। এর একটা ছিল ন্যূনতম অনুদানের পরিমাণ। একেক ক্লাবে একেক খেলোয়াড় একেক রকম আয় করেন, সে কারণে পরিমাণ নির্ধারণ করে দিলে সেটা কারও জন্য কম, কারও জন্য বেশি হতে পারত। পরে সিদ্ধান্ত এসেছে, নাম গোপন রেখে অনুদান গ্রহণ করা হবে।

প্রত্যেক অধিনায়ক চেষ্টা করেছেন, অঙ্ক ঠিক করে না দিয়ে খেলোয়াড়দের মাসের বেতনের একটা নির্দিষ্ট শতাংশ দিতে রাজি করাতে। এখন পর্যন্ত এপ্রিল ও মে মাসের কর পরবর্তী আয়ের নির্দিষ্ট পার্সেন্টেজ দেওয়ার পরিকল্পনা আছে তাঁদের। এর বাইরেও কেউ দান করতে চাইলে সেটাকে স্বাগত জানানো হবে।

খেলোয়াড়দের অনেকেই নিজ নিজ ক্লাবের অঞ্চলেই অনুদানটা কাজে লাগাতে চেয়েছেন। ইংল্যান্ডের নন—এমন খেলোয়াড়েরা আবার চেয়েছেন এখানে অর্থ না দিয়ে নিজ দেশে সেটি কাজে লাগাতে। সব দিক বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত হয়েছে, অনুদানের অঙ্কটা জাতীয় তহবিলে যোগ হবে, সেখান থেকে সমন্বয় করা হবে।

স্পেন, ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্সে অনেক ক্লাবে খেলোয়াড়দের বেতন কাটায় রাজি হলেও প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো এখনো সে পথে হাঁটেনি। তবে টটেনহামসহ কয়েকটি ক্লাবের মালিকপক্ষ খেলোয়াড়দের চাপ দিচ্ছেন। খেলোয়াড়দের চাওয়া, মালিকপক্ষকে বেতন কাটতে না দিয়ে বাড়তি অঙ্কটা অনুদান করবেন। যাতে টাকাটা কোথায় যাচ্ছে, কীভাবে খরচ হচ্ছে, সেই হিসাব থাকে।

খেলোয়াড়দের এই উদ্যোগের বাইরেও স্প্যানিশ প্লেমেকার হুয়ান মাতার তৈরি করা ‘কমন গোল’ কর্মসূচিও করোনার বিরুদ্ধে একটা তহবিল খুলেছে। সমাজের অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়াতে নিজেদের বেতনের ১ শতাংশ দিয়ে এই কর্মসূচিতে সদস্য হিসেবে আছেন লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ, যুক্তরাষ্ট্রের নারী ফুটবল তারকা মেগান র‍্যাপিনোর মতো অনেকে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0