বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চলতি মৌসুমে প্রথম ম্যাচে নৌবাহিনীকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দেয় কিংস। ১৭ ম্যাচ পর আবার তাঁরা ৬-০ গোলে জিতল। চলতি লিগে এটি সর্বোচ্চ ব্যাবধানে জয় চ্যাম্পিয়নদের। আজ দলের মূল অস্ত্র রবসন গোল পাননি। ৬ গোলের পঞ্চমটি আত্মঘাতী। বাকি পাঁচ গোল মিগুয়েল ফেরেইরা, সোহেল রানা, নুহা মারং, তৌহিদুল ও সুমন রেজার।

তবে অন্য দিন কিংস অ্যারেনায় যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায় আজ তেমন ছিল না। ঈদের ছুটির আমেজ শুরু হয়েছে। গ্যালারির অর্ধেকটাই ছিল ফাঁকা। সমর্থক যাঁরা এসেছেন (কিংসের উদ্যোগে বাসে করে সমর্থক আনা হয়) গরম উপেক্ষা করেও তাঁদের ম্যাচ দেখা সার্থক। ছয় গোলের উৎসব দেখে খুশি মনেই ফিরেছেন সমর্থকেরা।

default-image

কিন্তু বারিধারার কোচ, খেলোয়াড়েরা ছিলেন হতাশ। ম্যাচ শেষে ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মন খারাপ করে মাঠের এক কোনায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। নিজ দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তিনি, ‘শেষ দিকে আমাদের দুই স্টপার রক্ষণ ফাঁকা রেখে চলে গেল গোল করতে। আমরা কী কিংসকে হারাব নাকি? আমাদের ডিফেন্ডারদের এমন ভাব ছিল যে ওরা গোল করবে। ফলে শেষ দিকে এভাবে বাজে সব গোল খেতে হলো। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তবে কিংস আজ গোল উৎসব করতে পেরে দারুণ খুশি। কোচ অস্কার ব্রুজোন বলেন, ‘এটাই কিংসের শক্তি। প্রতিপক্ষকে দুমড়েমুচড়ে দিতে পারে। আজ আমরা সেটাই করেছি।’

কিংসের গোল উৎসবে অবশ্য বারিধারার অবদানও কম নয়। পয়েন্ট তালিকার নিচের দিকের দলটি ঠিক কী লক্ষ্য নিয়ে আজ চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হয়েছিল, বোঝা কঠিন। না ভালোভাবে তারা রক্ষণ সামলেছে, না আক্রমণ। কোনোটাই ঠিকভাবে হয়নি।

অথচ চলতি লিগের প্রথম পর্বে মুন্সিগঞ্জের মাঠে কিংসকে এক গোলের বেশি করতে দেয়নি বারিধারা। চলতি লিগে আজই তারা সবচেয়ে বেশি গোল হজম করেছে। এর আগে সিলেটে আবাহনীর কাছে হেরেছে ৫-২ গোলে। এটি তাদের টানা পঞ্চম হার।
আজ ২৬ মিনিটে কিংসকে এগিয়ে দিয়েই চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার মিগুয়েল ফেরেইরা। ইয়াছিন আরাফাতের পাস বক্সের ওপর থেকে মাপা প্লেসিংয়ে পাঠিয়েছেন জালে। শট নেওয়ার সময়ই ব্যথা পান। অভিষেক ম্যাচে দুই গোলের পর আজ এক গোল। দুই ম্যাচে তিন গোল হয়ে গেল মিগুয়েলের।

default-image

কিংসের দ্বিতীয় গোল মিডফিল্ডার সোহেল রানার। রবসনের পাস থেকে মাপা শটে চলতি মৌসুমে পেয়েছেন নিজের প্রথম গোল। ব্যবধান ৩-০ করেন নবাগত গাম্বিয়ান স্ট্রাইকার নুহা মারং। তিনি বারিধারার গোলকিপারকে একা পেয়েও গোল করতে না পারার ব্যর্থতা ভুলেছেন এই গোল করে। কিংসের জার্সিতে এটি তাঁর প্রথম গোলও।

দ্বিতীয়ার্ধে মনে হয়েছে কিংস আর গোল করতে তেমন উৎসাহী নয়। ম্যাচ চলছিল দুলকি চালে। তবে বারিধারা যদি গোল মুখ খুলে রেখে গোল খেতে চায়, কিংস গোল না করে পারে!

বারিধারার ডিফেন্ডারা কেউ জায়গামতো ছিলেন না শেষ দিকে। একজন ওপরে গেলে রক্ষণে কেউ ফাঁকা জায়গাটা পূরণ করেননি। ফলে রক্ষণ হয়ে পড়ে ছন্নছাড়া। ৮৪ মিনিটে গোলকিপার সাইফুল ইসলাম খানকে তুলে বারিধারা মাঠে পাঠায় আজাদ হোসেনকে।

৮৮ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে বদলি স্ট্রাইকার তৌহিদুল আলম প্লেসিং করেন ৪-০। অতিরিক্ত ৫ মিনিটে ভেঙে চুরমার বারিধারা। এই সময় আরও দুটি গোল করেছে কিংস। প্রথমটি আত্মঘাতী, খোকন বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই পাঠান বল। দ্বিতীয় গোলটি অর্থাৎ কিংসের ষষ্ঠ গোল বদলি স্ট্রাইকার গোল সুমন রেজার। আলতো টোকায় গোলটা পেয়েছেন তিনি। বারিধারাকে তখন মনে হচ্ছিল তৃতীয় বিভাগের কোনো দল!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন