বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

এবারও মৌসুমের সবগুলো শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই শুরু করেছিল কিংস। কিছু সংযোজন ও বিয়োজনে দল সাজানো হয়েছিল সেভাবেই। কিন্তু সে দলটিই কিনা কাল আবাহনীর সামনে মুখ থুবড়ে পড়ল। তা–ও আবার হারল নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে।


এর পেছনের কারণ কী? আবাহনীর ম্যাচ জেতার যোগ্যতাকে সবার ওপরে রেখে বাকি কয়েকটা বড় কারণ তো চোখের সামনেই দেখা যাচ্ছে। কাল আবাহনীর বিপক্ষে স্বাধীনতা কাপের ফাইনালের আগে চোট সমস্যায় পড়েছিল বসুন্ধরা। নিয়মিত একাদশের তিন খেলোয়াড় তপু বর্মণ, তারিক কাজী ও জোনাথন ফার্নান্দেজ চোটে ছিটকে গিয়েছিলেন। তবে আবাহনীর বিপক্ষে বসুন্ধরাকে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে মাসিক প্রায় ১৮ হাজার ডলার দামের ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার জোনাথনের না থাকাটা।

default-image

বসুন্ধরা স্থানীয় ও বিদেশি খেলোয়াড়ে সমৃদ্ধ একটা দল। বড় ম্যাচ বের করে নেওয়ার মতো খেলোয়াড়ের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু বড় ম্যাচে প্রতিপক্ষের মাঝমাঠের দাপট ঠেকাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এই জোনাথনই।


বসুন্ধরায় নাম লেখানোর আগে সবশেষ ব্রাজিলের বিখ্যাত ক্লাব বোতাফোগোর জার্সিতে খেলেছেন এই মিডফিল্ডার। বরাবর শান্ত, মাঠে নীরবে নিজের কাজ করে যান। শিল্পী হয়তো বলা যাবে না, কিন্তু তাঁর নামের সঙ্গে শ্রমিক কথাটি বেশ যায়। স্থিরতা যে খেলার মাঠে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে পারে, তা গত মৌসুম থেকে চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন জোনাথন। সেমিফাইনালে বাংলাদেশ পুলিশ ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচে হাঁটুর চোটে ছিটকে গেছেন তিনি।

default-image

জোনাথনের জন্য সেভাবে প্রশংসার বান কখনোই প্রায় ছোটেনি। কিন্তু অনুপস্থিতিতে হয়ে উঠলেন পরম প্রার্থিত। প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নেবেন কে? জোনাথন নেই। আবার স্বদেশী রবসন দা সিলভা কার সঙ্গে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ করে বক্সে ঢুকবেন? সেখানেই জোনাথনের অনুপস্থিতিটা অনুভূত হলো।


জোনাথনের অনুপস্থিতিতে মাসুক মিয়া ও বিপলু আহমেদের সঙ্গে মিডফিল্ডার হিসেবে খেলানো হয়েছে প্রথাগত ফরোয়ার্ড মাহবুবুর রহমানকে। তাঁরা যেন কাল পড়ে গেলেন মহাসমুদ্রে। আবাহনীর মাঝমাঠ হয়ে উঠেছিল আবাহনীর অধিনায়ক ও মিডফিল্ডার রাফায়েল আগুস্তো, ইমন বাবু ও মোহাম্মদ হৃদয়দের নিজের বাড়ির উঠান। বিশেষ করে, রাফায়েল যা ইচ্ছা তাই করে গেলেন। তাঁর পা থেকে বল কেড়ে নেওয়ার মতো কেউ নেই। প্রথম গোলটি তো কোনো বাধা ছাড়াই করালেন রাকিব হোসেনকে দিয়ে। পুরো ম্যাচের নাটাই থাকল তাঁর হাতে। রাফায়েল শেষ পর্যন্ত হয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ও।

default-image

ফাইনালে আবাহনীর বিপক্ষে ক্লান্তও মনে হয়েছে অস্কার ব্রুজোনের দলকে। ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাস্ট্রো টার্ফে ফাইনালে খেলার আগে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে কিংস। ফাইনালে উঠতে খেলতে হয়েছে ১২০ মিনিটের সেমিফাইনাল। গ্রুপে একটি দল কম থাকায় এক ম্যাচ কম খেলেছে আবাহনী। বেশ ফুরফুরে অবস্থায় সেরা দলটিকেই ফাইনালে পেয়েছিলেন মারিও লেমোস। চোট কাটিয়ে ফিরেছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ডোরিয়েলটন গোমেজ। দুটি গোল করে হয়েছেন ম্যাচ সেরা ও টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

এবার লেমোসের হাতে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ছিল বসুন্ধরা থেকে বাতিল হয়ে আসা তিন খেলোয়াড়ও। গেল দুই মৌসুমে বসুন্ধরার হয়ে তেমন খেলার সুযোগ পাননি মিডফিল্ডার ইমন বাবু, ডিফেন্ডার নুরুল নাঈম ও সুশান্ত ত্রিপুরা। এবার আবাহনীতে নাম লিখিয়ে তাঁরা নিয়মিত হয়েছেন। নিজেদের প্রমাণ করার তাড়নাও ছিল তাঁদের মধ্যে। ফাইনালে তিনজন দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে পুরোনো দলের বিপক্ষে লড়ে গেলেন। দুই ফুলব্যাক নুরুল ও সুশান্ত দলকে গোল না খাওয়ার পেছনে রাখলেন বড় অবদান। বসুন্ধরার সেই ‘বাতিল’ খেলোয়াড়েরাও হয়ে উঠলেন আবাহনীর তুরুপের তাস।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন