default-image

বিশ্ব ফুটবলে সাকিব আল হাসানের সবচেয়ে প্রিয় খেলোয়াড় কে, তা বোধ হয় এখন কারও অজানা নয়। বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লিওনেল মেসির প্রতি নিজের মুগ্ধতার কথা কখনো গোপন করেননি বাংলাদেশের বাঁহাতি অলরাউন্ডার। সেই মেসির সঙ্গেই একটা জায়গায় নিজের মিল খুঁজে পেলে কেমন লাগবে সাকিবের?

মিলটা অবশ্য একটু জোর করেই টেনে আনা। বাংলাদেশে সাকিব আল হাসান যা, স্পেনে লিওনেল মেসিও যে ঠিক তা-ই হয়েছেন। কীভাবে? কর দেওয়ার দিক থেকে। এই কদিন আগেই বাংলাদেশে গত বছরের করদাতাদের তালিকা প্রকাশিত হলো। সেখানে দেখা যায়, টানা তৃতীয়বারের মতো ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের মধ্যে খেলোয়াড় শ্রেণিতে সেরা করদাতা হয়েছেন সাকিব। স্পেনে মেসিও তো তা-ই। বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড অবশ্য শুধু খেলোয়াড় শ্রেণি নয়, সব মিলিয়েই স্পেনের সর্বোচ্চ করদাতা বলে জানাচ্ছে স্প্যানিশ দৈনিক এল পিরিওদিকোর এক প্রতিবেদন।

এল পিরিওদিকোর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বার্সেলোনাভিত্তিক স্প্যানিশ দৈনিক স্পোর্ত লিখেছে, ২০১৭ সালে বার্সেলোনার সঙ্গে সর্বশেষ যে চুক্তি করেছেন মেসি, সেটির বিপরীতে এ পর্যন্ত স্পেনের সরকারকে কর বাবদ ৩৭ কোটি ইউরো দিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যে অঙ্কটা দাঁড়ায় ৩ হাজার ৮০২ কোটি টাকারও বেশি!

default-image
বিজ্ঞাপন

বার্সার সঙ্গে মেসির চুক্তিটা শেষ হয়ে যাবে আগামী জুনে। সেই চুক্তি নবায়ন মেসি করবেন কি না, এ নিয়ে ইউরোপে গুঞ্জনের শেষ নেই। এর মধ্যে তাঁর চুক্তির অন্য একটা দিকই তুলে আনল এল পিরিওদিকো। চার বছরে যে ৩৭ কোটি ইউরো রাজস্ব হিসেবে দিয়েছেন মেসি, এর মধ্যে ২৭ কোটি ৫০ লাখই হচ্ছে তাঁর বেতন-বোনাসের বিপরীতে আয়কর।

গতকাল প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে এল পিরিওদিকো লিখেছে, ‘কর হিসেবে সব মিলিয়ে যে অর্থ পরিশোধ করেছেন মেসি, তার মধ্যে আছে সম্পত্তির ওপর কর, নেট সম্পদের (সম্পত্তি থেকে দায় বাদ দিয়ে যে অঙ্ক পাওয়া যায়) ওপর কর এবং এর পাশাপাশি ইমেজস্বত্ব ও অন্যান্য ব্যবসার ওপর করপোরেট কর। (মেসির করের) অঙ্কগুলোর ব্যাপারে জানাশোনা আছে, এমন এক সূত্র জানিয়েছে, ব্যবসায়িক করের মধ্যে মেসি যেসব ব্যবসায় অংশ নেন এবং বিজ্ঞাপনী চুক্তি বাবদ যে টাকা আয় করেন, সেগুলো হিসাবে নেওয়া হয়েছে।’

পাশাপাশি এল পিরিওদিকো নিশ্চিত করেছে মেসির বেতনের অঙ্কও, ‘ (মেসির দেওয়া করের মধ্যে) সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে তাঁর নির্দিষ্ট বেতন ও শর্তসাপেক্ষ বেতন-বোনাস থেকে। নির্দিষ্ট ও শর্তসাপেক্ষ বেতন মিলিয়ে বছরে মেসির সর্বমোট বেতন দাঁড়ায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ ইউরো, যার মধ্যে নেট বেতন ৭ কোটি ২০ লাখ ইউরো।’

মেসির বেতন-বোনাসের অঙ্কটা অবশ্য কদিন আগেই ফাঁস হয়ে গেছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে। ক্লাবের সঙ্গে কোনো খেলোয়াড়ের চুক্তি চূড়ান্ত গোপনীয় বিষয় ঠিকই, কিন্তু বার্সেলোনার কোনো সূত্র ব্যবহার করে কদিন আগে ২০১৭ সালে বার্সার সঙ্গে মেসির সর্বশেষ চুক্তির খুঁটিনাটি ফাঁস করে দেয় স্প্যানিশ দৈনিক এল মুন্দো। সেখান থেকে জানা যায়, চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে মেসিকে ৫৫ কোটি ৫০ লাখ ইউরো দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বার্সা।

যদিও এর মধ্যে অনেক আয় ছিল শর্তসাপেক্ষ, যেগুলো পূরণ না হওয়ায় পুরো অর্থ পাননি মেসি। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ পর্যায় পর্যন্ত বার্সা যাবে কি না, মেসি ব্যালন ডি’অর জিতবেন কি না—এসবের ওপর শর্তসাপেক্ষ কিছু আয় ছিল, যে শর্তগুলো প্রতিবছর পূরণ হয়নি। পাশাপাশি করোনা হানা দেওয়ার পর গত মার্চে ৭০ শতাংশ বেতন কমিয়ে নিতে রাজি হন মেসি।

বেতনের পর যেকোনো ফুটবলারেরই আয়ের সবচেয়ে বড় অঙ্কটা আসে ইমেজস্বত্ব, পণ্যের দূতিয়ালি আর বিজ্ঞাপনী আয় থেকে। মেসির ক্ষেত্রেও সেটি ব্যতিক্রম নয় বলেই জানাচ্ছে এল পিরিওদিকো, ‘করের অঙ্কের আরেকটি বড় উৎস ইমেজস্বত্ব, যেটি মোট করের ১৫ শতাংশের বেশি হয় না। আর এই সময়ে (২০১৭-২১ মেসির চুক্তির বিপরীতে ইমেজস্বত্বের ওপর কর বাবদ) মোট অঙ্কটা হয়েছে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ইউরো।’

তা মেসি এই যে ৩৭ কোটি ইউরো কর দিলেন, সেই অঙ্কটা স্পেনের সাধারণ করদাতাদের তুলনায় কয় গুণ? সেই হিসাবও দিয়েছে এল পিরিওদিকো। গড় আয়করের হিসাব কষে পত্রিকাটি লিখেছে, ‘আয়করের হিসাবে মেসির সব মিলিয়ে যে অঙ্কটা হলো, সেটি ১ লাখ ২০ হাজারের চেয়েও বেশি করদাতার দেওয়া করের সমান।’

ভাবা যায়!

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন