আতলেতিকোর হয়ে প্রথম গোলের পর।
আতলেতিকোর হয়ে প্রথম গোলের পর।ছবি: রয়টার্স

লুইস সুয়ারেজকে ছাড়ার সিদ্ধান্তটা আসলে কার ছিল? রোনাল্ড কোমান নাকি বার্সেলোনা বোর্ডের?

এই মৌসুমে বার্সেলোনার ডাগআউটে এসেই কোমান ঘোষণা করেন, লুইস সুয়ারেজ তাঁর পরিকল্পনায় নেই। শেষ পর্যন্ত অনেক নাটকের শেষে বার্সেলোনা ছেড়ে লিগ প্রতিদ্বন্দ্বী আতলেতিকো মাদ্রিদে গেছেন সুয়ারেজ। বার্সার ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেও তাঁর বিদায়ের আগে বার্সা যেভাবে জল ঘোলা করেছে, তাতে সুয়ারেজের বিদায়টা মোটেও কিংবদন্তিসুলভ হয়নি। তা কাল আবার সংবাদ সম্মেলনে এসে বার্সা কোচ কোমান জানালেন, সুয়ারেজকে ক্লাবে আর না রাখার সিদ্ধান্ত তাঁর নয়, তিনি আসার আগেই নাকি সিদ্ধান্তটা হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

তবে সিদ্ধান্তটা কোমানেরই হোক বা বার্সেলোনার বোর্ডের, সেটি যে ভুল হয়েছে তা প্রমাণ করাকে যেন পণ হিসেবে নিয়েছেন সুয়ারেজ। আতলেতিকোর জার্সিতে আজ অভিষেকেই সেটি বুঝিয়ে দিয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার। ২০ মিনিট খেলেছেন, তাতেই দুটি গোল করেছেন সুয়ারেজ, করিয়েছেন আরেকটি। একবার তাঁর শট বারে লেগেছে। একটা পেনাল্টিও আদায় করে দিয়েছিলেন আতলেতিকোকে, যদিও ভিএআরে সেটি বাতিল হয়েছে। নিজেদের মাঠে গ্রানাদাকে শেষ পর্যন্ত আজ ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে আতলেতিকো।

গ্রানাদা গত মৌসুমে বেশ চমকই দেখিয়েছে। মৌসুমের অনেকটা সময় সেরা চারের আশপাশে থেকে শেষ পর্যন্ত লিগ শেষ করেছে সপ্তম হিসেবে। সেই গ্রানাদাকে এভাবে উড়িয়ে দেওয়া যেন আরেকবার বুঝিয়ে দিল, সুয়ারেজকে পেয়ে এই মৌসুমে লিগ শিরোপার দৌড়ে আসলেই রিয়াল-বার্সার সঙ্গে বেশ ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে আতলেতিকো।

বিজ্ঞাপন

সে পথে বার্সার ক্ষতিটাই যেন আতলেতিকোর লাভ। বলতে গেলে মুফতেই সুয়ারেজকে আতলেতিকোর কাছে ছেড়ে দিয়েছে বার্সা। কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ৪০ লাখ ইউরো পাবে কাতালান ক্লাবটি। গত এক দশকে বিশ্ব ফুটবলে সেরাদের একজন সুয়ারেজের জন্য এ আর এমন কী! এর আগে ২০১৩/১৪ মৌসুমে এমনই কম দামে সে সময়ের ভয়ংকরতম স্ট্রাইকারদের একজন দাভিদ ভিয়াকে এনেছিল আতলেতিকো, সেই মৌসুমে লিগও জিতেছিল। এবার সুয়ারেজও ‘ভিয়া’ হবেন?

শুরুর ইঙ্গিতটা তো সেরকমই। মাত্রই দুদিন আগে আতলেতিকোতে গেছেন সুয়ারেজ, দলের সঙ্গে সেভাবে অনুশীলনও করা হয়নি। সে কারণে তাঁকে বেঞ্চে রেখেই নামে আতলেতিকো। ৯ মিনিটে আক্রমণে সুয়ারেজের সঙ্গী দিয়েগো কস্তার গোলে এগিয়ে যাওয়া, প্রথমার্ধে ওই একটিই গোল। দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটেই গোল আনহেল কোরেয়ার। ৬৫ মিনিটে গোল করেন জোয়াও ফেলিক্স। দল ৩-০ গোলে এগিয়ে, সুয়ারেজকে নামানোর এর চেয়ে ভালো মঞ্চ আর কী হতে পারে!

বিজ্ঞাপন
default-image

৭০ মিনিটে কস্তার বদলে সুয়ারেজকে নামান আতলেতিকো কোচ দিয়েগো সিমিওনে। তার এক মিনিট পর বদলি নামেন গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে আতলেতিকোতে আসা মিডফিল্ডার মার্কোস ইয়োরেন্তে। ৭২ মিনিটেই আতলেতিকোর গোল রিয়াল ও বার্সার সাবেক দুই খেলোয়াড়ের সমন্বয়ে। সুয়ারেজের পাসে গোল ইয়োরেন্তের। আট মিনিট পর আবার গোলের সুযোগ প্রায় তৈরি করে দিয়েছিলেন সুয়ারেজ, পেনাল্টি আদায় করেন। কিন্তু ভিএআরে দেখে সিদ্ধান্ত বদলান রেফারি।

পেনাল্টিটা পেলে হয়তো তখনই সুয়ারেজের গোল হয়ে যেত, কিন্তু সে জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষাও করতে হয়নি। পাঁচ মিনিট পরই সুয়ারেজের গোল, আবার রিয়াল-বার্সার সাবেক দুজনের সমন্বয়ে। বক্সের ডান দিক থেকে ইয়োরেন্তের ক্রস, দারুণ হেডে সেটিকে জালে পাঠিয়ে দেন সুয়ারেজ। গোল করে, করিয়ে অভিষেক ততক্ষণেই রাঙানো হয়ে গেছে সুয়ারেজের। কিন্তু ওই যে, বার্সাকে ভুল প্রমাণের একটা জেদ আছে না তাঁর! মাঝে ৮৭ মিনিটে গ্রানাদা এক গোল ফেরত দিয়েছিল, যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে আবার গোল সুয়ারেজের। বক্সের ভেতর থেকে তাঁর ডান পায়ের শট প্রথমে বাঁ দিকের পোস্টে লেগে ফেরত আসে, সেটিকেই আবার বাঁ পায়ের শটে ডান দিকের পোস্টে জালে জড়ান সুয়ারেজ।

কোমান বা বার্সার বোর্ডের কর্তারা ম্যাচটা দেখে থাকলে হয়তো মুখ লুকানোর জায়গা খুঁজেছেন!

মন্তব্য পড়ুন 0