বিজ্ঞাপন

কিয়েসো পরিবারের সঙ্গে বুফনের যোগসূত্র আজকের নয়। পার্মার হয়ে ১৯৯৯ সালে প্রথম ইতালিয়ান কাপ জিতেছিলেন বুফন। ফিওরেন্তিনার বিপক্ষে দুই লেগের সেই ফাইনালে পার্মার জার্সিতে বুফনের সতীর্থ ছিলেন এনরিকো কিয়েসা। নামটা পরিচিত লাগছে?

সাম্পদোরিয়া ও ফিওরেন্তিনার হয়ে ইতালিয়ান ফুটবলে সাফল্যের পাশাপাশি বেশ সুনাম কামিয়েছেন এনরিকো। ২২ বছর পর এনরিকো কিয়েসারই ছেলে ফেদেরিকোর সঙ্গেও ইতালিয়ান কাপ জিতলেন বুফন।

default-image

১৯৯৯ সালে পার্মার সেই দলের সবাই অবসর নিয়ে কোচিং থেকে নানা পেশায় জড়িয়েছেন বহু আগেই। লিলিয়ান থুরাম, ফাবিও ক্যানাভারো, দিনো ব্যাজ্জিও, হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন ও হারনান ক্রেসপোরা এখন মাঠের বাইরে। কিন্তু বুফন—এই ৪৩ বছর বয়সেও গোলপোস্ট আগলে জিতে যাচ্ছেন শিরোপা।

জুভেন্টাসের হয়ে কাল রাতের শিরোপাটা বুফনের জন্য এমনিতেই বিশেষ কিছু। মৌসুম শেষেই ভালোবাসার জুভেন্টাস ছাড়ার ঘোষণাটা তিনি দিয়েছেন এর আগেই। ইতালিয়ান কাপের ফাইনাল দিয়ে ‘তুরিনের বুড়ি’দের হয়ে শেষ ম্যাচটা খেলে ফেললেন তিনি। আর এই শেষ ম্যাচেই শিরোপা জিতে তিনি মনে করিয়ে দিলেন দুই প্রজন্মের দুই কিয়েসাকে—বাবা এবং ছেলের সঙ্গে শিরোপা জয়ের সৌভাগ্য কী খুব বেশি ফুটবলারের হয়!

বলা ভালো, ফেদেরিকো কিয়েসা বুফনের জন্য ম্যাচটা বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রাখলেন। ২২ বছর আগের সেই ফাইনালে দুই লেগে খেলেও গোল পাননি এনরিকো কিয়েসা।

কিন্তু কাল রাতে তাঁর ছেলে ফেদেরিকো গোলের দেখা পেয়েছেন। তার আগে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ব্যাকহিল থেকে পাওয়া বল তিনি আতালান্তার জালে পাঠাতে পারেননি গোলপোস্ট বাধা হয়ে দাঁড়ানোয়। ম্যাচ শুরুর আগে বুফনকে ফেদেরিকো কিয়েসা বলেছিলেন, ‘তুমি অনেক ট্রফি জিতেছ। কিন্তু তোমার হয়তো মনে আছে, আমার বাবার সঙ্গে এই ট্রফি জিতেছ। আজ রাতে এসো একসঙ্গে জয়ের চেষ্টা করি।’

রেকর্ড–ছোঁয়া ষষ্টবারের মতো ইতালিয়ান কাপ জয়ের পর বুফন বলেন, ‘আমার বয়স ৪৩ বছর এবং এই বয়সে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয় যা অনেকের পছন্দ নাও হতে পারে। পাগলাটে মনে হয়। কিন্তু খানিকটা পাগলামিই আমাকে সীমানা ডিঙিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। জীবনের প্রতি মুহূর্তে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। আমার এখনো নিজেকে চ্যালেঞ্জ জানানোর বাকি আছে, শরীরের সামর্থ্যের শেষ কোথায় তা দেখার বাকি আছে। গত সপ্তাহেই বলেছি, জানি না কী করব। অবসরও নিতে পারি। কিন্তু আমার চেয়েও পাগলাটে কেউ এসে যদি স্বপ্ন দেখায়, তাহলে তাকে অনুসরণ করতে পারি, এটাই তো জীবনের মানে!’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন