বয়স ৩০ হওয়ার পর দ্বিগুণ গোল পেয়েছেন রোনালদো
বয়স ৩০ হওয়ার পর দ্বিগুণ গোল পেয়েছেন রোনালদোছবি: এএফপি

৩০ বছর। ফুটবলারের ক্যারিয়ারে শেষের ডাক শুনিয়ে যাওয়া বয়স। ত্রিশ পেরিয়ে যাওয়া মানেই অবসরের চিন্তা আস্তে আস্তে মাথায় ঢুকে যাওয়া। পা জোড়ায় আগের গতি থাকে না, ফুসফুস আগের মতো আর মাঠজুড়ে দৌড়ানোয় সায় দেয় না। ফুটবলারের ৩০ পেরোনো মানে যেন ফুরিয়ে যাওয়ার দিন গোনা।

এসব ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে বলতে যাবেন না যেন! বয়স তাঁকে ছাড় দেয়নি সত্যি, কিন্তু বয়সকে হার মানিয়েও কীভাবে ফুটবল মাঠে আগের চেয়েও ভয়ংকর হয়ে ওঠা যায়, রোনালদোর ক্যারিয়ার যেন সেটিরই উপাখ্যান। পর্তুগালের জার্সিতে কাল ১০০ গোলের মাইলফলক পেরোনো কিংবদন্তির ৩০ পেরোনোর আগের আর পরিসংখ্যানও এতে সাক্ষ্য দেয়। ৩০-এর পর পর্তুগালের জার্সিতে রোনালদোর গোলের হার যে ৩০-এর আগের গোলের হারের দ্বিগুণেরও বেশি! ৩০-এর আগে যেখানে রোনালদো পর্তুগালের জার্সিতে এক গোল করতে গড়ে দুই ম্যাচের বেশি লাগত, ৩০-এর ম্যাচপ্রতি গোলই একটির বেশি!

বিজ্ঞাপন

রোনালদোর এই বদল তাঁর ক্যারিয়ারের দারুণ এক সিদ্ধান্তেরই প্রতিফলন। তখন রিয়াল মাদ্রিদে ছিলেন রোনালদো। বয়স তো আর রোনালদোর মতো কিংবদন্তির জন্যও থেমে থাকে না, তবে বয়সকে হার মানিয়ে নতুনভাবে দেখা দেওয়ার পথ জানেন বলেই হয়তো রোনালদোরা কিংবদন্তি। বয়সের কারণে গতি কিছুটা কমেছে, চাইলেও আগের মতো ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষকে যখন-তখন পেরিয়ে যেতে পারেন না। রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদানের সঙ্গে পরামর্শ করে রোনালদোর তাই সিদ্ধান্ত, উইংয়ের চেয়ে বেশি মনোযোগ দেবেন গোল করায়।

রোনালদোর উচ্চতা ৬ ফুট ১ ইঞ্চিরও বেশি। লাফিয়ে রোনালদোর ওপরে ওঠার ক্ষমতা বাস্কেটবল খেলোয়াড়দের টেক্কা দেওয়ার মতো। ক্ষিপ্রতা আছে। ডি-বক্সে দারুণ মুভমেন্টে প্রতিপক্ষকে ফাঁকি দিয়ে গোল করার জায়গায় চলে যাওয়া—ফুটবলে যেটিকে অফ দ্য বল মুভমেন্ট বলে, সেখানে রোনালদো অনন্য। দু পায়ে শট নিতে পারেন। গোল করায় মনোযোগ দিতে যা যা লাগে, রোনালদোর কোনো কিছুরই অভাব নেই।

default-image
বিজ্ঞাপন

তার ওপর আধুনিক উইঙ্গারকে যেখানে রক্ষণে বারবার নামতে হয়, বয়সের কারণে রোনালদোর সে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব ছিল না। সে বিবেচনায় উইং ছেড়ে রোনালদোর ‘ইনসাইড ফরোয়ার্ড’ বনে যাওয়া, প্রতিপক্ষ বক্সেই আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠা—দল আর রোনালদো দুই পক্ষেরই লাভ তাতে। খেলার ধরন তাই বদলেছেন রোনালদো। ফল? তাঁর পায়ে গোলের বান। কাল পর্তুগালের জার্সিতে ১০০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়া রোনালদোর ৩০-এর আগের আর পরের রেকর্ডই দেখুন। বয়স ৩০ ছোঁয়ার আগে রোনালদো পর্তুগালের জার্সিতে খেলেছিলেন ১১৮ ম্যাচ, তাতে গোল ছিল ‘মাত্র’ ৫২টি। ম্যাচপ্রতি গড়ে ০.৪৪ গোল। বা এভাবে বলা যায়, এক গোল পেতে দুই ম্যাচেরও বেশি লাগত রোনালদোর। সেখানে ৩০-এর পরের রেকর্ড? ৪৭ ম্যাচ, ৪৮ গোল! ম্যাচপ্রতি একটিরও বেশি গোল!

রোনালদো ডি-বক্সের দিকে চলে আসার নেপথ্যে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ দিক, তখন রিয়াল মাদ্রিদে আর এখন পর্তুগাল দলে উইং-মিডফিল্ডে প্রতিভার অভাব ছিল না। রোনালদোর বর্তমান ক্লাব জুভেন্টাসে অবশ্য মাঝমাঠে সৃষ্টিশীলতার একটু অভাব আছে। কিন্তু পর্তুগালে? নিজেদের ফুটবল নিয়ে পর্তুগালের পরিকল্পনার ফল এই যে, পর্তুগালে বের্নার্দো সিলভা, জোয়াও ফেলিক্স, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, জোয়াও কানসেলো, দানিলো পেরেইরা, উইলিয়াম কারভালিও, রুবেন নেভেসদের মতো একের পর এক প্রতিভা ছয়-সাত বছর ধরে উঠে এসেছে। পর্তুগাল দলের ভারসাম্য দুর্দান্ত, গোল করার ভারটা নিজের কাঁধে নিয়ে রোনালদো দলটাকে আরও ভয়ংকর বানিয়ে রেখেছেন।

পর্তুগালের দলে সিলভা-ফার্নান্দেজ-কানসেলোদের মতো প্রতিভারা আসতে শুরু করেছেন ২০১৪ বিশ্বকাপের পর থেকে। তাঁকে সাহায্য করার মতো, তাঁর মানের কাছাকাছি ফুটবলার পেয়ে রোনালদোর জ্বলে ওঠার শুরুও তখন থেকেই। রোনালদোর ১০৯ গোলের ৬৪টিই যে ২০১৩ সালের পর! এ সময়ে ম্যাচ খেলেছেন ৬৪টি। ২০১৪ বিশ্বকাপের পর ৫০ ম্যাচে ৫১ গোল।

এ সময়ে জন্মদিনের কেকে ৩০টির বেশি মোমবাতি লেগেছে তাঁর। প্রতি বছরে একটি করে বেশি। মোমবাতির সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়েছে রোনালদোর ধার!

মন্তব্য পড়ুন 0