বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে সব মিলিয়ে হাজার দশেক দর্শক সমানে উৎসাহ জুগিয়েছেন দুই দলকে। চোটজর্জর বসুন্ধরা কিংসে ছিলেন না তপু বর্মণ, তারিক কাজী ও জোনাথন ফার্নান্দেজ। আজ জোনাথনের জায়গায় কোচ অস্কার ব্রুজোন খেলিয়েছেন মাহবুবুর রহমানকে। কিন্তু ব্রাজিলিয়ানের অভাব হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে বসুন্ধরা কিংস। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো চোট পেয়ে ৩০ মিনিটে মাঠ থেকে উঠে গেছেন আতিকুর রহমান। সেই সুযোগে বসুন্ধরা কিংসের রক্ষণে মুহুর্মুহু আক্রমণ শাণিয়েছেন আবাহনীর ফরোয়ার্ডরা।

প্রথমার্ধে বসুন্ধরার চেয়ে আবাহনীই বেশি আক্রমণে উঠেছে। ২৫ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও রাফায়েল অগুস্তো বল তুলে দেন বসুন্ধরা কিংসের গোলরক্ষক আনিসুর রহমানের হাতে। প্রথমার্ধে বলার মতো একটা আক্রমণই ছিল বসুন্ধরা কিংসের। প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে স্তোয়ান ভ্রানিয়েসের নেওয়া আচমকা শট ফিস্ট করে ফেরান আবাহনীর গোলরক্ষক মাহফুজ।

default-image

দ্বিতীয়ার্ধে আবাহনী আক্রমণগুলো গোলে রূপ দেয়। ম্যাচের ৫২ মিনিটে রাফায়েল ডিফেন্স চেরা থ্রু পাস বাড়িয়ে দেন রাকিব হোসেনের উদ্দেশে। ঠান্ডা মাথায় দারুণ ফিনিশিংয়ে বসুন্ধরা কিংসের গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দেন রাকিব ১-০। আবাহনী কোচ মারিও লেমোস আজ নাবিব নেওয়াজের বদলে একাদশে রাখেন ডরিয়েলতনকে। আর কোচকে আস্থার প্রতিদানও দিয়েছেন দারুণভাবে এই ব্রাজিলিয়ান।

৬১ মিনিটে পেনাল্টি পায় আবাহনী। বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠা দানিয়েল কলিনদ্রেসকে বক্সের মধ্যে ফেলে দেন রিমন হোসেন। পেনাল্টি দেওয়ার কারণে রেফারি সায়মন সানিকে ঘিরে ধরেন বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলাররা। পেনাল্টি বাতিলের দাবি করেন তাঁরা। মাঠে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও সিদ্ধান্ত বদলাননি রেফারি। পেনাল্টি থেকে গোল করেন ডরিয়েলতন (২-০)।

default-image

গোল শোধে আক্রমণে উঠবে কি, উল্টো ৭১ মিনিটে তৃতীয় গোল খেয়ে বসে বসুন্ধরা কিংস। রাফায়েল অগুস্তোর কর্নার থেকে মিলাদ শেখ সোলাইমানির দারুণ এক হেড, বল এসে পড়ে ডরিয়েলতনের সামনে। ডান পায়ের জোরালো শটে স্কোর ৩-০ করেন ব্রাজিলিয়ান। ৮১ মিনিটে একটা গোল শোধের সুযোগ পেয়েছিল বসুন্ধরা কিংস। কিন্তু ভ্রানিয়েসের শট এবারও ফিস্ট করেন আবাহনীর গোলরক্ষক মাহফুজ হাসান।

আজ প্রাণতোষ বিদায় নেবেন, আগেই জানা ছিল। মূল একাদশে না থাকলেও ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে দারুণ উপায়ে বিদায় জানিয়েছে আবাহনী। ফাইনালে নামার আগে প্রাণতোষের বাহুতেই ছিল আবাহনীর অধিনায়কত্বের বন্ধনী। তাঁকে সম্মান জানিয়ে আবাহনীর সব ফুটবলারই পরে এসেছিলেন প্রাণতোষের ৮ নম্বর জার্সি। মাঠে নামার আগে পাওয়া এই আনন্দ ম্যাচ শেষে বেড়ে হয়েছে বহুগুণ। বিদায়ী উপহার হিসেবে একমাত্র আক্ষেপটাও যে দূর করে যেতে পারলেন প্রাণতোষ।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন