default-image

ম্যাচের ৫৮ মিনিট তখন। স্কোরলাইনে লেখা বাংলাদেশ পুলিশ ক্লাব ০-৩ চট্টগ্রাম আবাহনী। ম্যাচ শেষে সেখানেই লেখা পুলিশ ক্লাব ৩-৩ চট্টগ্রাম আবাহনী।

স্কোরলাইনই বলে দিচ্ছে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে কী এক পাগলাটে ম্যাচই না হয়েছে। ৩ গোলে এগিয়ে গিয়েও ম্যাচটি যে শেষ পর্যন্ত হারতে হয়নি চট্টগ্রামের ক্লাবটিকে, এটাই তাদের জন্য স্বস্তির বিষয়। শেষের দিকে যেভাবে একচেটিয়া খেলেছে পুলিশ, তাতে আরও অল্প কিছুক্ষণ সময় পেলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারত তারা।

বিজ্ঞাপন
default-image

৩-০ গোলে পিছিয়ে যাওয়ার পর ভোজবাজির মতো বদলে যায় পাকির আলীর পুলিশ ক্লাব। ৩-১ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় ৭০ মিনিটের পর প্রায় একই সময় দুটি বদল আনেন পুলিশের শ্রীলঙ্কান কোচ। স্ট্রাইকার মোহাম্মাদ জুয়েলের জায়গায় কামাল বড়ুয়া ও লেফট উইঙ্গার জমির উদ্দিনের জায়গায় ফয়সাল আহমেদ। ফয়সালকে রাইট উইংয়ে দিয়ে সেখানে খেলতে থাকা এম এস বাবলুকে প্রান্ত বদল করে পাঠানো হয় লেফট উইংয়ে। বদলি হিসেবে নামা দুই ফরোয়ার্ডের প্রেসিংয়ে নড়বড়ে হয়ে ওঠে আবাহনীর রক্ষণভাগ।

মারুফুল হক ও পাকির আলী দুজনই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলান। প্রথমার্ধ ছিল মারুফুলের আর দ্বিতীয়ার্ধ পাকিরের দলের। প্রথমার্ধের ২০ মিনিটেই চট্টগ্রামের নামের পাশে ২-০। ১৮ মিনিটে চট্টগ্রামকে এগিয়ে নেন ব্রাজিলের স্ট্রাইকার নিক্সন গিয়াহামে। লেফটব্যাক মনির আলম প্রান্ত বদল করে রাইট উইঙ্গার মান্নাফ রাব্বির উদ্দেশে থ্রু দিয়েছিলেন। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সে প্রবেশ করে মান্নাফ কাট ব্যাক করলে প্রথম স্পর্শেই জালে জড়িয়ে দেন নিক্সন। লিগে এটি তাঁর ষষ্ঠ গোল। দুই মিনিট পরেই নিক্সনের থ্রু থেকে দুর্দান্ত গোল করেন রাকিব হোসেন। মাঝমাঠ থেকে নিক্সনের রক্ষণ চেরা থ্রু দ্রুতগতিতে উঠে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সে ঢুকে জোরালো শটে ২-০ করেন রাকিব।

default-image

জাতীয় দলের এই উইঙ্গারকে আজ আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে খেলিয়েছেন মারুফুল। লিগে আজই প্রথম গোল পেয়েছেন। গোলসংখ্যা আজই দুই করে নিয়েছেন একটু পর। ৪৯ মিনিটে চট্টগ্রাম আবাহনীকে ৩-০ গোলে এগিয়ে নেন তিনি। তাঁর দ্বিতীয় গোলটি পুলিশ গোলরক্ষক মোহাম্মদ নেহালের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে। নেহাল তাঁর সতীর্থর উদ্দেশে হাত দিয়ে বল বাড়ালে রাকিব পেছন থেকে দৌড়ে এসে বক্সের বাইরে থেকে প্রথম স্পর্শেই বুলেট গতির শটে জালে জড়িয়ে দেন।

ম্যাচটি সেখানেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এর পরের গল্পটি চট্টগ্রামের ওপর পুলিশের দাপটের। দীর্ঘদেহী স্ট্রাইকার বাল্লো ফামুসা ও মিডফিল্ডার ফ্রেডেরিক পুদাকে বক্সে রেখে লম্বা বল ফেলতে থাকে পুলিশের খেলোয়াড়েরা। ওপেন প্লেতে এই পরিকল্পনা কাজে না এলেও সেট পিসে তারা সফল। ৫৮ ও ৭৫ মিনিটে প্রথম দুটি গোলই এসেছে কিরগিজস্তানের মিডফিল্ডার মুরোলিমজন আখমেদভের কর্নার থেকে। মুরোলিমজন আখমেদভের কর্নারে বক্সের মধ্যে লাফিয়ে উঠে হেডে প্রথম গোলটি করেন ফ্রেডরিক পুদা। দ্বিতীয় গোলটি হেডে সেন্টারব্যাক ল্যান্সিন তোরের।

বিজ্ঞাপন
default-image

পুলিশের চাপে পড়ে রক্ষণভাগে সৈন্য বাড়ান মারুফুল। ৮৬ মিনিটে এক ফরোয়ার্ডকে উঠিয়ে সেন্টারব্যাক শওকত রাসেলকে পাঠানো হয়। ৪-৩-৩ ফরমেশন ভেঙে করা হয় ৫-৪-১। তবুও শেষ রক্ষা হলো না। যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে ৩-৩ করেন বাল্লো ফামুসা। এর আগে জটলা থেকে বদলি কামাল বড়ুয়ার শট গোল লাইন থেকে হাত দিয়ে ঠেকালে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় সেন্টারব্যাক মনজুরুর রহমানকে। সঙ্গে পেনাল্টি পায় পুলিশ। স্পট কিক থেকে বল জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি ফামুসা।

৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়া ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ৩-৩ গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়া। তবুও ম্যাচ শেষে পাকির আলীর আফসোস, ‘নিজেদের ভুলে দুটি গোল হজম করেছি। কিন্তু আবার দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছি আমরা। জিততে পারলে দারুণ হতো। আরও ৫ মিনিট থাকলে ম্যাচটি জিততেও পারতাম আমরা। ওরা ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল।’ এই ড্রয়ে ৭ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের অষ্টম স্থানে পুলিশ। এক ম্যাচ বেশি খেলে ৯ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে চট্টগ্রাম আবাহনী।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন