প্রায় দুই বছর পর মাঠে ফিরলেন এমিলি।
প্রায় দুই বছর পর মাঠে ফিরলেন এমিলি।ছবি: বাফুফে

মাঠে বারবার দৃষ্টি কেড়ে নিচ্ছিলেন ব্রাদার্স ইউনিয়নের ৯০ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড়। বেঢপ শরীর ও শ্লথগতিতে নড়াচড়া করছিলেন। তিনি জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও স্ট্রাইকার জাহিদ হাসান এমিলি।

প্রায় দুই বছর পর আজ ব্রাদার্স ইউনিয়নের জার্সিতে মাঠে ফিরলেন এমিলি। লিগে তাঁর ফেরার ম্যাচে আবাহনী লিমিটেডের কাছে ৫-২ গোলে হেরেছে ব্রাদার্স। আবাহনীর হয়ে একটি করে গোল করেন সানডে সিজোবা, নাসিরউদ্দিন চৌধুরী, জুয়েল রানা, কারভেন্স বেলফোর্ট ও রুবেল মিয়া। জোড়া গোল করে ব্যবধান কমিয়েছেন ব্রাদার্সের উগুচুকু আওয়ালা মাগালান।

আগের ম্যাচে অনুশীলন ছাড়াই শেখ রাসেলের বিপক্ষে লড়াই করে ১-০ গোলে হেরেছিল ব্রাদার্স ইউনিয়ন। মাঝে দুই দিন অনুশীলন করা ব্রাদার্সকে আজ আবাহনীর সামনে খুঁজেই পাওয়া গেল না। প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় আবাহনী।
৫-৪-১ ফরমেশনে লেফট উইঙ্গার হিসেবে মাঠে নামানো হয়েছিল এমিলিকে।

বিজ্ঞাপন

অধিনায়কত্বের বাহুবন্ধনীও ছিল তাঁর হাতে। আজকের আগে লিগে মোহামেডান স্পোর্টিংয়ের হয়ে শেষ ম্যাচটি খেলেছিলেন ২০১৯ সালের ১ আগস্টে। সেদিন রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির বিপক্ষে ২-২ গোলের ড্রয়ের ম্যাচে পুরো ম্যাচই খেলেছিলেন তিনি। সর্বশেষ মৌসুমে কোনো ক্লাব পাননি।

এবার লিগের দ্বিতীয় পর্বে ব্রাদার্সে নাম লিখিয়ে আজই খেললেন প্রথম ম্যাচ। সে হিসাবে ৬৪২ দিন পর মাঠে নামা। খেলতে পারলেন মাত্র ২৩ মিনিট। এরপরই বদলি করা হয় তাঁকে।

default-image

তিন সেন্টারব্যাক খেলিয়ে রক্ষণভাগটা জমাট রাখতে চেয়েছিল ব্রাদার্স। কিন্তু স্পষ্টত অল্প অনুশীলন করায় খেলোয়াড়েরা আনফিট। দলের মধ্যে নেই সমন্বয়ও। ২২ মিনিটেই সানডের গোলে আবাহনীর এগিয়ে যাওয়া। রায়হান হাসানের লম্বা থ্রো-ইন থেকে মাথা ছুঁয়েছিলেন কারভেন্স বেলফোর্ট।

সেই বল গোলমুখ থেকে পা লাগিয়ে জালে পাঠান সানডে। প্রিমিয়ার লিগে দ্বিতীয় পর্বে ফিরে এটি তাঁর দ্বিতীয় গোল।

আবাহনীর দ্বিতীয় গোলটিও রাইটব্যাক রায়হানের লম্বা থ্রো-ইন থেকে। এবার গোলদাতা সেন্টারব্যাক নাসিরউদ্দিন। রায়হানের থ্রো-ইনে কাছের পোস্ট থেকে মাসিহ সাইগানির ফ্লিক করলে দূরের পোস্ট থেকে হেডে জালে পাঠিয়ে দেন নাসিরউদ্দিন।

অগোছালো রক্ষণভাগের সুযোগ নিয়ে বিরতিতে যাওয়ার আগেই ৩-০ করে আবাহনী। রাফায়েল আগুস্তোর কর্নারে বেলফোর্টের হেড ডান দিকে ঝাঁপিয়ে ‘সেভ’ করেছিলেন ব্রাদার্স গোলরক্ষক জাফর সরদার। বল গিয়ে পড়ে গোলমুখে থাকা ‘আনমার্কড’ জুয়েলের পায়ে। গোল করতে কোনো ভুল করেননি এই উইঙ্গার।

default-image

আবাহনী ফরোয়ার্ডরা ইচ্ছা করলেই গোল করতে পারছিলেন অনায়াসে। ৬২ মিনিটে ৪-০ করেন বেলফোর্ট। সানডের রক্ষণচেরা পাস থেকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে জালে পাঠিয়েছেন বেলফোর্ট।

৭৮ মিনিটে আবাহনী পঞ্চম ও শেষ গোলটি বদলি রুবেলের। বেলফোর্টের এরিয়াল থ্রুতে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে প্রথম স্পর্শেই পোস্টে পাঠিয়ে দেন রুবেল।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ৭৭ মিনিটে ব্যবধান ৪-১ করেছেন মাগালান। বাঁ প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে একক প্রচেষ্টার গোলটি করেন তিনি। তাঁর দ্বিতীয় গোলটি ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগে পেনাল্টি থেকে।

ফুরকাত কাসানোভকে বক্সের মধ্যে মামুন মিয়া ফেলে দিলে পেনাল্টি পায় ব্রাদার্স। স্পট কিক থেকে বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি লিগের দ্বিতীয় পর্বে ব্রাদার্সে নাম লেখানো নাইজেরিয়ান এই স্ট্রাইকার।

আগের ম্যাচে বাংলাদেশ পুলিশ ক্লাবের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছিল আবাহনী। এই জয়ে ১৪ ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে আবাহনী। সমানসংখ্যাক ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে ১৩ দলের টেবিলে ১২ নম্বরে ব্রাদার্স।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন