দিলশদ ভাসিয়েভের (১৭ নম্বর জার্সি) গোলে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ রহমতগঞ্জের।
দিলশদ ভাসিয়েভের (১৭ নম্বর জার্সি) গোলে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ রহমতগঞ্জের। ছবি: বাফুফে

প্রিমিয়ার লিগের আজকের একমাত্র ম্যাচে ব্রাদার্সকে ২-০ গোলে হারিয়েছে রহমতগঞ্জ। হারতে হারতে ক্রমেই হতাশায় ডুবছে ব্রাদার্স। সামনে নেই কোনো আশার আলো। অন্যদিকে নিচ থেকে ওপরের দিকে উঠে আসছে রহমতগঞ্জ।

৭ ম্যাচে ২ জয়, ২ ড্রয়ে রহমতগঞ্জের পয়েন্ট ৮। ৬ ম্যাচে ব্রাদার্সের সংগ্রহ মাত্র ১। চতুর্থ ম্যাচে উত্তর বারিধারার সঙ্গে ৩-৩ ড্রয়ে আসে ব্রাদার্সের একমাত্র পয়েন্ট। প্রিমিয়ার লিগে প্রতি দলের ম্যাচ সংখ্যা ২৪টি। এখনো অনেক পথ বাকি এবং ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

তবে ব্রাদার্স যেভাবে ধুঁকছে, তাতে দলটির পক্ষে চলতি মৌসুমে দেশের শীর্ষ লিগ থেকে অবনমন বাঁচানো কঠিনই হয়ে পড়বে মনে হচ্ছে। ফেডারেশন কাপে ৩ ম্যাচে ব্রাদার্স হজম করে ১১ গোল। লিগে এখন পর্যন্ত খেয়েছে ১৩ গোল। ফেডারেশন কাপের ৩টিসহ এ পর্যন্ত মৌসুমের ৯ ম্যাচের ৮টিতেই হেরেছে গোপীবাগের দলটি।

বিজ্ঞাপন

ব্রাদার্স খেলতে পারছে না জেতার মতো ফুটবল। মৌসুম শুরুর আগে দলটির ছিল না কোনো প্রস্তুতি। ফলে খেলোয়াড়দের ফিটনেস তুলনামূলক কম। আর্থিকসহ নানা সংকটে জেরবার এককালের ‘গোপীবাগের সিংহ’দের, যার প্রভাব পড়ছে মাঠের খেলায়ও।

default-image

রহমতগঞ্জ আজ জিতেছে যোগ্যতর দল হিসেবেই। তিন বিদেশির দারুণ সমন্বয়ে ৩৩ মিনিটে এসেছে প্রথম গোল। মিসরীয় ডিফেন্ডার আলয়েলদিন ইসা হাওয়ায় ভাসিয়ে বল ফেলেন রহমতগঞ্জের বক্সে। সেই বল হেডে পেনাল্টি স্পটের ওপর নামিয়ে দেন আইভরি কোস্টের স্ট্রাইকার ক্রিস্ট রেমি। বলের কাছেই থাকা তাজিক ফরোয়ার্ড দিলশদ ভাসিয়েভের গড়ানো শট ব্রাদার্স গোলকিপার মহিউদ্দিনের গায়ে লেগে জালে।

দিলশদ তাজিকিস্তান জাতীয় দলে খেলেছেন। ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় চলে এলেও এখনো খেলায় আছে যথেষ্ঠ ধার। তবে দিলশদের খেলার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যা হয় অন্যদের। রহমতগঞ্জের ম্যানেজার ইমতিয়াজ হামিদ বলছিলেন, ‘দিলশদের পাসগুলো অনেক সময় বুঝতে পারে না আমাদের ফুটবলাররা। সে ভালো মানের ফুটবলার।’

দিলশদের স্বদেশি ডিফেন্ডার খোরশেদও খেলেন রহমতগঞ্জে। খোরশেদ বর্তমান তাজিকিস্তান জাতীয় দলের ফুটবলার। দুজনই ম্যাচ শেষে বললেন, রহমতগঞ্জকে ভালো একটা অবস্থানে নেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য এখন। লক্ষ্য পূরণে আজকের জয় রহমতগঞ্জকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।

default-image

আজ বিরতির পরপর ৪৮ মিনিটে রহমতগঞ্জ পেয়ে যায় দ্বিতীয় গোল। মাহমুদুল হাসানের কর্নারে আইভরি কোস্টের স্ট্রাইকার ক্রিস্ট রেমির হেড জালে। তাঁকে ঠিকঠাক পাহারায় রাখতে না পারার খেসারতই দিয়েছে ব্রাদার্স। এরপর তৃতীয় গোলের খোঁজে আক্রমণে এসেছে রহমতগঞ্জ। কিন্তু গোল আর পায়নি। ব্রাদার্স চেষ্টা করেছে ম্যাচে ফিরতে।

অধিনায়ক সিও জুনাপিউ দু-তিনবার রহমতগঞ্জের রক্ষণে চিড় ধরিয়েছেন। কিন্তু শেষ কাজটা করতে পারেননি নিখুঁতভাবে। তাই জয় নিয়ে শঙ্কায় পড়তে হয়নি রহমতগঞ্জকে।

ম্যাচ শেষে রহমতগঞ্জ কোচ গোলাম জিলানী বললেন, ‘দুই একটা জয়েই আমাদের খুশি থাকার কিছু নেই। আমরা যেতে চাই আরও সামনে। রহমতগঞ্জ ভালো ফুটবল উপহার দিয়ে চেষ্টা করবে পয়েন্ট তালিকায় যতটা সম্ভব ওপরে থাকতে।’

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন