ফ্রি-কিকে রোনালদো এখন আর আগের মতো গোল পাচ্ছেন না।
ফ্রি-কিকে রোনালদো এখন আর আগের মতো গোল পাচ্ছেন না।ফাইল ছবি: রয়টার্স

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যে ফ্রি-কিক নেওয়ায় একসময় বিশ্বসেরা ছিলেন, সে তথ্য ইদানীং সবাই ভুলতে বসেছে। ফ্রি–কিক থেকে একসময় যাঁর গোলের সংখ্যা সবার লাগালের বাইরে চলে যাবে মনে হচ্ছিল, সেই রোনালদোকে গত তিন বছরে প্রায় ছুঁয়েই ফেলেছেন লিওনেল মেসি। এর পেছনে জুভেন্টাসের রোনালদোই ভূমিকা রেখেছেন। প্রায় তিন বছরে জুভেন্টাসের জার্সিতে যে ফ্রি–কিক থেকে গোল করতেই দেখা যায় না তাঁকে।

একদমই গোল করছেন না বলা যায় না। ‘তুরিনের বুড়ি’দের দলে এসে এ পর্যন্ত ৭২টি ফ্রি–কিক নিয়েছেন রোনালদো। এর মধ্যে মাত্র একবার তাঁর শট জালে আশ্রয় নিয়েছে। এর বাইরে বাদবাকি সময়ে কখনো লক্ষ্য থেকে অনেক বাইরে দিয়ে গেছে বল। কখনো মানবদেয়ালে আটকা পড়েছে। একসময় ফ্রি–কিক নিতে রোনালদোকে দাঁড়াতে দেখা আতঙ্কের ব্যাপার ছিল গোলকিপারদের জন্য। সেই রোনালদোই এখন আর ফ্রি–কিকে বিশ্বের সেরা পাঁচে জায়গা পাবেন না।

কেন এমন হচ্ছে? ফ্রি–কিকের মতো দক্ষতা আচমকা কেউ ভুলে যান কীভাবে? রোনালদোর জুভেন্টাস–সতীর্থ অবশ্য দাবি করছেন, এখনো আগের মতো ফ্রি–কিকে দুর্দান্ত রোনালদো। শুধু কপাল ভালো নয় বলেই গোল পাচ্ছেন না।

বিজ্ঞাপন

জুভেন্টাসের গোলবার সামলানোর দায়িত্ব ভয়চেখ সেজনির। পোলিশ গোলরক্ষক না থাকলে ক্লাব কিংবদন্তি জিয়ানলুইজি বুফনকে দেখা যায় গোলকিপার হিসেবে। এ দুজনের কারণে আড়ালেই থাকেন কার্লো পিনসোলিও। তাতে কী? অনুশীলনে তো ঠিকই রোনালদোর সঙ্গে খেলছেন এই গোলকিপার। ৩১ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের দাবি, জুভেন্টাসের জার্সিতে আনুষ্ঠানিক ম্যাচে ফ্রি–কিক কাজে লাগাতে না পারলেও অনুশীলনে আগের মতোই নিখুঁত রোনালদো।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ বা পর্তুগালের জার্সিতে রোনালদোকে নিয়মিত গোল করতে দেখা গেছে ফ্রি–কিক থেকে। কিন্তু সাদা–কালো জার্সি গায়ে চাপানোর পর থেকেই রোনালদোর সে ক্ষমতা যেন হারিয়ে গেছে। এ নিয়ে কম আলোচনা হয় না। দিন দিন দক্ষতা হারিয়ে ফেলেছেন বলে রোনালদোর সমালোচনাও হচ্ছে। তবে তুত্তোস্পোর্তকে পিনসোলিও বলেছেন, ভাগ্য পক্ষে নেই বলেই গোল পাচ্ছেন না রোনালদো, ‘অনুশীলনে সব সময় ফ্রি–কিক নেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং সব সময় গোলও করেন। আমি জানি না ম্যাচে কেন সেটা করতে পারছেন না। সম্ভবত কপাল খারাপ, এ জন্য।’

default-image

দলে নিয়মিত খেলতে না পারলেও রোনালদোর সঙ্গে ভালো বন্ধুত্ব ৩১ বছর বয়সী গোলকিপারের। এতটাই যে ইতালিয়ান গোলকিপারকে নিয়ে অন্য সতীর্থরা এখন রসিকতায় মাতেন, ‘তাঁর সঙ্গে আমার খুব সুন্দর বন্ধুত্ব। সতীর্থরা তো আমার সঙ্গে মজা করে। বলে, আমি ইউরোতে ক্রিস্টিয়ানো ও পর্তুগালের স্টাফদের সঙ্গে যাব। রোনালদো খুব সাধারণ একজন মানুষ। তারকার মতো চলেন না। চুপচাপ থাকেন, হাসতে পছন্দ করেন, রসিকতা ভালোবাসেন।’

রোনালদোর সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব কত দিন টিকবে, সেটা অবশ্য বলা কঠিন। জুভেন্টাসের একাডেমিতে বেড়ে ওঠা পিনসোলিও ছয়টি ক্লাবে ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা করে আবার জুভেন্টাসেই থিতু হয়েছেন। তাই তাঁর এ ক্লাব ছাড়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু রোনালদো আগামী মৌসুমে ইতালিতে থাকবেন, এ আশা যে দিন দিন কমছে। যদিও পিনসোলিওর আশা অন্তত ২০২২ সাল পর্যন্ত তুরিনেই থাকবেন রোনালদো, ‘আমি জানি না (জুভেন্টাসে থাকবেন কি না), তবে আশা করি। কারণ, এখানে দারুণ প্রভাব ফেলেছেন। চুক্তিতে তাঁর এখনো এক বছর বাকি। আমি আশা করি তিনি থাকবেন। খুব বিস্ময়কর কিছু না ঘটলে কাগজে-কলমে তাঁর থাকারই কথা।’

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন