৭ বছর অপেক্ষা শেষে এমন ৭ পেল রিয়াল?

বিজ্ঞাপন

৪৩৮ ম্যাচ। ৪৫০ গোল। ১৩৩ গোলে সহায়তা। ১৫টি শিরোপা, যার মধ্যে দুটি লিগ, আছে টানা তিনটিসহ চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগও। রিয়াল মাদ্রিদে সোনাঝরা নয় বছরে কী কী করেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, তার ছোট্ট তথ্যচিত্র এটি।

রোনালদো রিয়াল ছেড়ে জুভেন্টাসে চলে গেছেন দুবছর হলো। পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডের ক্লাব ছাড়ার বছরখানেক পর তাঁর উত্তরসূরি খুঁজে এনেছে রিয়াল—এডেন হ্যাজার্ড। রিয়ালে রোনালদোর ৭ নম্বর জার্সিটাই পেয়েছেন, রোনালদোর মতোই খেলেন আক্রমণের বাঁ প্রান্তে। রোনালদোর মতো গোলক্ষুধা নেই, কিন্তু হ্যাজার্ডের আছে অন্য দক্ষতা। আক্রমণ গড়ে দেওয়া, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানো...অন্যভাবে হলেও হ্যাজার্ডকে দিয়েই রোনালদোর অভাব পূরণের স্বপ্ন দেখেছিল রিয়াল। কিন্তু দুই ৭ নম্বর জার্সির পথচলায় কী মেরু ব্যবধান!

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
View this post on Instagram

Training 😓 ☀️ 💪

A post shared by Eden Hazard (@hazardeden_10) on

এক ‘৭’ নম্বর জার্সির রোনালদোর কাছে ছিল ফিটনেস ছিল প্যাশন। কিন্তু আরেক ৭ নম্বর জার্সির হ্যাজার্ড? গত মৌসুমেও রিয়ালের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতে এসেছিলেন মুটিয়ে যাওয়া শরীর নিয়ে, এবারও প্রাক-মৌসুমে মুটিয়ে যাওয়া হ্যাজার্ডকে দেখতে যাচ্ছে রিয়াল! অথচ এই হ্যাজার্ডেরই রিয়ালে আসা ছিল স্বপ্ন। এই হ্যাজার্ডকেই পেতে ৭ বছর অপেক্ষা করেছে রিয়াল! এই হ্যাজার্ডের জন্যই ১০ কোটি ইউরো খরচ করেছে রিয়াল! যেখানে কদিন আগে প্রতিবেদন এসেছে, হ্যাজার্ডের জন্য রিয়ালের আসল খরচ ছিল ১৬ কোটি ইউরো! রিয়াল যদিও সেটি মিথ্যে বলে দাবি করেছে।

২০১৯ সালের জুনে শেষ পর্যন্ত রিয়ালে এলেও হ্যাজার্ডকে রিয়ালের কর্তাদের মনে ধরেছিল ২০১২ সালেই। তখন ফরাসি ক্লাব লিলে আলো ছড়িয়ে ইউরোপের নজর কেড়েছেন হ্যাজার্ড। বেলজিয়ান ফরোয়ার্ডকে পাওয়ার দৌড়ে তখন জিতে যায় চেলসি। রিয়াল অবশ্য তখন হ্যাজার্ডকে পাওয়ার চেষ্টা করেনি সেভাবে, ক্লাবে যে তখন রোনালদো ছিলেন!

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মাঝের ৭ মৌসুমে হ্যাজার্ডও চেলসিতে কী না করেছেন! লন্ডনের ক্লাবটাকে প্রিমিয়ার লিগ জিতিয়েছেন দুবার, ইউরোপা লিগ জিতিয়েছেন দুবার। সে সুবাদে প্রিমিয়ার লিগের মৌসুম সেরা হয়েছেন তিনবার। ব্যালন ডি’অরের তালিকায় সেরা দশে এসেছেন দুবার। পায়ের ঝলকে মুগ্ধ করে রেখেছেন লন্ডনকে, ইংল্যান্ডকে। ইউরোপকেও। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের হয়ে আলো ছড়িয়ে বিশ্বকাপের টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের দৌড়ে লুকা মদরিচের পেছনে হয়েছেন দ্বিতীয়, জিতেছেন রুপার বল।

রোনালদো ২০১৮ সালে রিয়াল ছেড়ে যাওয়ার পরই রিয়াল তাঁকে চেয়েছিল। হ্যাজার্ডও বারবার ইঙ্গিতে, কখনো বা সরাসরিই, রিয়ালে যাওয়ার ইচ্ছের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু চেলসি তাঁকে ছাড়তে চায়নি, রিয়ালে যেতে চাইলেও মনের কোণে ঠাঁই পেয়ে যাওয়া চেলসির সঙ্গে সম্পর্কটা খারাপ করতে চাননি হ্যাজার্ডও। স্বপ্ন পূরণে অপেক্ষা বাড়ে আরও এক মৌসুম।

default-image

স্বপ্ন পূরণ হলো গত বছরের জুনে। তা-ও কখন! হ্যাজার্ডের শৈশবের নায়ক জিনেদিন জিদান যখন দ্বিতীয়বার রিয়ালের ডাগআউটে ফিরে এসে রিয়ালকে পুনর্নির্মাণ করছেন, জিদানও যেখানে হ্যাজার্ডকে সব সময়ই দলে চেয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছিল, হ্যাজার্ড মাদ্রিদের কুলীনদের হয়ে নতুন ইতিহাস গড়বেন। গোলে না হোক, পায়ের ঝলকে রোনালদোকে ভুলিয়ে দেবেন। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আবার লেখা হবে ‘৭’-কাহন।

কিন্তু প্রাক-মৌসুমে হ্যাজার্ড ফিরতেই মাদ্রিদভক্তদের চক্ষু চড়কগাছ! এ কোন হ্যাজার্ড! মুটিয়ে গেছেন, দৌড়াতে পারছেন না ঠিকমতো। ফিটনেস নিয়ে সংশয়। ফিটনেস ঠিক না থাকায়ই কিনা, আগস্টে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটেও পড়লেন। হ্যাজার্ড যদিও তখন বলেছিলেন, তাঁর শরীরটাই এমন যে, তাঁর ওজন খুব দ্রুত ৫ কেজি বেড়ে যায়, আবার জিমে ঘাম ঝরালে মেদটা ঝরেও যায় দ্রুতই।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কথা যে একেবারে রাখেননি, তা নয়। মেদ ঝরিয়ে সেপ্টেম্বরে ফিরলেন হ্যাজার্ড, ছন্দেও ফিরলেন দ্রুতই, রিয়ালও সে সময়টায় খেলল চোখধাঁধানো ফুটবল। কিন্তু দুঃস্বপ্ন হয়ে এল চোট। নভেম্বরের শেষদিকে পায়ে চোট পেলেন, দুই মাসের জন্য মাঠের বাইরে চলে গেলেন হ্যাজার্ড। জানুয়ারিতে ফিরলেন বটে, ফেব্রুয়ারিতে আবার চোটে! অঙ্ক বলে, সব মিলিয়ে মৌসুম শেষে হ্যাজার্ডের পারফরম্যান্স—লিগে ১৪ ম্যাচ খেলেছেন, করেছেন ১ গোল, করিয়েছেন দুটি। চ্যাম্পিয়নস লিগে ৬ ম্যাচে গোল নেই, করিয়েছেন একটি। দুঃস্বপ্ন!

তা নতুন ক্লাবে মানিয়ে নিতে এক মৌসুম সময় লাগতেই পারে। তারওপর চোটও হানা দিয়েছে বারবার। এই মৌসুমকেই হ্যাজার্ডের আসল পরীক্ষা বলে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু মৌসুম শুরুর আগেই যত নেতিবাচক শিরোনামে হ্যাজার্ড! রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গেও একটু ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি বুঝি হলো তাঁর। মাত্রই শেষ হওয়া উয়েফা নেশনস লিগের প্রথম রাউন্ডে বেলজিয়ামের হয়ে খেলতে গিয়েছিলেন। যেখানে রিয়ালেরই লুকা মদরিচ, মার্টিন ওডেগার্ডরা যাননি। বেলজিয়ামেরই থিবো কোর্তোয়া গেলেও মাঝপথে ক্লাবে ফিরে যান, প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির উদ্দেশে। কিন্তু হ্যাজার্ড ফেরেননি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
View this post on Instagram

Más de 300.000 familias en España no disponen de los alimentos básicos necesarios debido a las consecuencias del COVID19. Yo también participo en la campaña #NingúnHogarsinAlimentos con @caixabank, @fundlacaixa y @fesbal_org e invito a hacerlo a @cesarazpi , @thibautcourtois Haz tus donativos a través de BIZUM en el 38014 o envía un SMS con la palabra “Alimentos” al 38014. At this very moment more than 300.000 families in Spain can´t get access to basic food due to the outbreak of COVID19. I am collaborating with @caixabank, @fundlacaixa and @fesbal_org in their campaign #NingúnHogarsinAlimentos. I hereby would like to appeal to @cesarazpi , @thibautcourtois to join me and support this incredible and essential charity. Please donate whatever you can afford through BIZUM texting 38014, or SMS with the word “Alimentos” to the number 38014. #onestensemble 👌🏿👍🏿

A post shared by Eden Hazard (@hazardeden_10) on

দেশের হয়ে খেলা হ্যাজার্ডের কাছে কত গুরুত্বপূর্ণ, সেটি বিবেচনা করে রিয়াল তখন না করেনি। তারওপর উয়েফা নেশনস লিগ যতই প্রীতি ম্যাচকে গৌরবান্বিত করার টুর্নামেন্ট হোক, দিন শেষে এটির স্বীকৃতি তো প্রতিযোগিতা ফুটবলই। আর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের চেয়ে ভালো প্রস্তুতি আর কী হতে পারে—এই ছিল রিয়ালের ভাবনা। কিন্তু ডেনমার্ক ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচে একটা মিনিটও মাঠে নামেননি হ্যাজার্ড। কারণ? ফিটনেসের অভাব। রিয়ালের বিরক্তিটা এখানেই, খেলবেন না-ই যদি, তবে ক্লাবে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতে থেকে গেলেই পারতেন হ্যাজার্ড!

৭ আগস্ট চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হেরে মৌসুম শেষ হওয়ার পর গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে যাওয়া হ্যাজার্ড মুটিয়ে গিয়ে ফিরেছেন। বেলজিয়াম কোচ রবার্তো মার্তিনেজও দুই ম্যাচের পর নানা মন্তব্যে বুঝিয়ে দিয়েছেন হ্যাজার্ডের ফিটনেসের অবস্থা। কখনো বলছেন, হ্যাজার্ড ৯০ মিনিট খেলার মতো ফিট নন। তো কখনো বলছেন, হ্যাজার্ডের পুরো ফিট হতে ৬০টি অনুশীলন সেশন লাগবে! হ্যাজার্ডের অ্যাঙ্কেলের চোটের দিকে ইঙ্গিত করেও মার্তিনেজ বলেছিলেন, হ্যাজার্ডের এই চোট কখনো যাবে না। ক্যারিয়ারের বাকি দিনগুলো ২৯ বছর বয়সী বেলজিয়ানকে ম্যাচের আগে আর পরে শুশ্রূষা নিয়েই খেলতে হবে। একে তো চোট, তারওপর হ্যাজার্ড গেছেন মুটিয়ে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্প্যানিশ দৈনিক মার্কার মতামত কলামে কার্লোস কারপিও হ্যাজার্ডের নিবেদন নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন। কলামে লিখেছেন, হ্যাজার্ডের সমস্যা তাঁর অ্যাঙ্কেলের চোট নয়, তাঁর মূল সমস্যা রিয়ালের মতো কুলীন ক্লাবে খেলা কত বড় দায়িত্বের ব্যাপার, তা এখনো বুঝতে পারছেন না হ্যাজার্ড! কথাগুলো রিয়াল সমর্থকদের খুব একটা ভালো লাগার কথা নয়।

হ্যাজার্ডের মুটিয়ে যাওয়ার ছবির পাশে যখন ইনস্টাগ্রামে জিম ঘাম ঝরানো রোনালদোর ছবি দেখবেন, হয়তো খারাপ লাগাটা আরও বাড়বে। রোনালদো তাঁদের মনে জায়গা নিয়ে থাকলেও তিনি যে এখন পর। জুভেন্টাসের।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন