default-image

মেসুত ওজিলকে মাঠে শেষ কবে দেখা গেছে? এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার হাত থেকে সহজে বেঁচে যেতে চাইলে বলে দেওয়া যায়, করোনাবিরতির আগে। আর পরিষ্কার উত্তর চাইলে মাথা চুলকাতেই হবে, এ মৌসুমে ওজিলকে নিয়মিত মাঠে দেখার সৌভাগ্যই যে হয়নি। আগামী মৌসুমেও আর্সেনালের হয়ে খুব বেশি মাঠে নামার সুযোগ নেই তাঁর। এতে অবশ্য কিছু যায় আসে না তাঁর।

২০১৩ সালে গ্যারেথ বেলকে দলে নেওয়ার জন্য দলের সেরা প্লে মেকারকে আর্সেনালের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। কী কাকতাল, সাত বছর পর বেল ও ওজিল নিজ নিজ ক্লাবে আছেন একই পরিস্থিতিতে। দুই দলেই অপাঙক্তেয় হয়ে উঠেছেন দুজন। ক্লাবের সাবেক দুই খেলোয়াড় এখন কোচ হিসেবে যোগ দেওয়ার পর এ দুজনকে ক্লাবে রাখতে চাইছেন না। কিন্তু খেলতে না পারলেও ওজিল ক্লাব ছাড়তে রাজি নন। বেলের মতোই বসে বসে বেতন নিতেই আগ্রহ তাঁর।

রিয়ালে জিনেদিন জিদান খেলাতে চান না বেলকে, ম্যাচের পর ম্যাচ বসিয়ে রাখছেন। একজন পেশাদার ফুটবলার খেলার সুযোগের জন্য ক্লাব বদলাতে না পারলে অন্তত ধারে যেতে চান অন্য কোথাও। কিন্তু বেলের এসবে কোনো আগ্রহ নেই। অন্য ক্লাবে গেলে বেতন কমে যাবে। তাই দরকার হলে দুই বছর বসে থেকে হলেও পূর্ণ বেতন পাওয়ার ইচ্ছা তাঁর। রিয়ালে ১৫ মিলিয়ন ইউরো বেতন পান বেল। ওজিলের বেতন এর চেয়েও বেশি। বার্ষিক ২০ মিলিয়নের বেশি বেতন পাওয়া ওজিলও ক্লাবকে সতর্ক করে দিয়েছেন, তাঁকে না খেলালেও বেতন পুরোপুরি দিতে হবে।

দ্য অ্যাথলেটিককে বলেছেন, ‘আমার অবস্থান পরিষ্কার। আমি চুক্তির শেষ দিন পর্যন্ত থাকব। এবং এ ক্লাবের জন্য সব দিয়ে দেব। এমন পরিস্থিতিতে আমি কখনো ভেঙে পড়ি না, আমাকে উল্টো বাড়তি শক্তি দেয়। আমি আগেও দেখিয়েছি আমি দলে ফিরে আসতে পারি এবং আবার দেখাব।’

করোনায় ক্লাবের আর্থিক ক্ষতি কমাতে আর্সেনালের সব খেলোয়াড় ১২.৫ শতাংশ বেতন কমাতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু ওজিল সে প্রস্তাবে রাজি হননি। কারণ , ক্লাবের ওপর আস্থা হারিয়েছেন তিনি। ক্লাবকে সতর্ক করে দিয়েছেন, তাঁকে বের করে দেওয়ার চেষ্টায় কোনো লাভ হবে না, ‘আমিই সিদ্ধান্ত নেব কখন যাব, অন্যরা নয়। আমি দুই বা তিন বছরের জন্য চুক্তি করিনি। আমি চার বছরের চুক্তি করেছি এবং সবার সেটা সম্মান করা উচিত। যখন একজন খেলোয়াড় ক্লাব ছাড়তে চায় কিন্তু ক্লাব ‘না’ বলে, তখন খেলোয়াড়কে সেটা মানতে হয়—যদি না কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়। তাহলে যখন কোনো ক্লাব খেলোয়াড়কে ছাড়তে চায় কিন্তু খেলোয়াড় ‘না’ বলে তবে ক্লাবকে সেটাও মানতে হবে। আমি ক্লাব ছাড়তে চাই না। তাই এ আলোচনা শেষ।’

এমন এক সাক্ষাৎকার শুনে মনে হতেই পারে, ক্লাবকে হুমকি দিচ্ছেন ওজিল। কিন্তু ক্লাবের প্রতি নাকি এখনো ভালোবাসা কমেনি তাঁর, ‘খুব কঠিন সময় পার করছি কিন্তু আমি আর্সেনালকে ভালোবাসি। আমি এখানে কাজ করতে ভালোবাসি, ক্লাবের মানুষদের ভালোবাসি—সে মানুষদের, যাদের সঙ্গে অনেক দিন ধরে কাজ করছি। আমি লন্ডন ভালোবাসি—এটাই আমার ঘর। আমি প্রাক-মৌসুমে এভাবে যাব না যে, “শেষ বছর, আমি চাইলেই মজা করতে পারি—আমি জানি আমি খেলব না।” আর্সেনালের জন্য সময়টা কঠিন এবং আমি সাহায্য করতে চাই।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0