বলছেন ইয়ান রাশ

'ম্যারাডোনা আমার বন্ধু, তবে সেরা পেলে'

বিজ্ঞাপন
default-image

করোনাভাইরাসের আগ্রাসন না থাকলে হয়তো ভিডিও সভায় নয়, সরাসরিই দেখা হতো তাঁর সঙ্গে। এর আগে লিভারপুলের পৃষ্ঠপোষক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সৌজন্যে বাংলাদেশের লিভারপুল ভক্তরা সুযোগ পেয়েছেন ক্লাবের দুই কিংবদন্তি জন বার্নস ও রবি ফাওলারকে দেখার। কিন্তু করোনার কারণে এবার তো তা সম্ভব ছিল না। বাংলাদেশের দুটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে তাই ইয়ান রাশের ভিডিও সাক্ষাতের সুযোগ করে দিল লিভারপুলের পৃষ্ঠপোষক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক।

সদা হাস্য লিভারপুল কিংবদন্তি সাক্ষাৎকারজুড়েই ছিলেন স্বতঃস্ফূর্ত। কখনো কৌতুকে হাসতে বাধ্য করছেন, তো কখনো নিজে হাসছেন স্মিত হাসি। তা ইয়ান রাশ যখন সামনে, প্রশ্ন তো বাঁধ মানে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশ্ন করার তাড়া, কিন্তু কত প্রশ্নই তো করার আছে! জানার আছে কত কিছু! তাঁর নিজের গল্প, লিভারপুলের অতীত-বর্তমান, ৩০ বছরের অপেক্ষার শেষ টেনে ইয়ুর্গেন ক্লপের লিভারপুলের এবার ইংলিশ লিগ জয়ের অনুভূতি—কথা কী আর শেষ হতে চায়!

পুরোটা সময়জুড়ে রাশ যেন ছিলেন লিভারপুলের জার্সি গায়ে দিনগুলোতে প্রতিপক্ষ গোলপোস্টের সামনের ‘রাশে’র মতোই স্বচ্ছন্দ, প্রাণোচ্ছল, স্বতঃস্ফূর্ত। তা লিভারপুল নিয়ে তো অনেক কথা হয়েছেই, তাঁর প্রাণের ক্লাবটার বাইরের কিছু প্রসঙ্গও চলে এসেছে আলোচনায়। মেসি না রোনালদো, পেলে না ম্যারাডোনা যেমন। এমন একজন কিংবদন্তিকে পেয়ে চিরন্তন এই বিতর্কগুলোতে তাঁর বিশ্লেষণ, পছন্দ-অপছন্দ না জানলে চলে!

প্রশ্ন হয়েছিল পেলে-ম্যারাডোনা বিতর্ক নিয়ে। রাশ লিভারপুলে দুই মেয়াদের মাঝে ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমটা খেলেছেন ইতালির ক্লাব জুভেন্টাসে। মাত্রই আর্জেন্টিনাকে ছিয়াশি বিশ্বকাপ জেতানো ডিয়েগো ম্যারাডোনা তখন নাপোলিতে আলো ছড়াচ্ছেন। তা ম্যারাডোনা তো তাঁর সময়েরই খেলোয়াড়, একসঙ্গে মাঠে অনেক স্মৃতি আছে, সামনে থেকেই খেলতে দেখেছেন। আর পেলেকে রাশ দেখেছেন শৈশবে। দুজনের মধ্যে কাকে এগিয়ে রাখবেন তিনি?

default-image

প্রশ্নটা শুনে ভিডিওর ও প্রান্তে দেখা মেলে ৫৮ বছর বয়সী ওয়েলশ কিংবদন্তির হাসির। বললেন, ‘এ দুজনের মধ্যে একজনের নাম নেওয়া মেসি-রোনালদোর মধ্যে কে সেরা, সে প্রশ্নের মতো হয়ে যায় অনেকটা। পেলে আমার সব সময়ের নায়ক। ম্যারাডোনা আমার অনেক ভালো বন্ধু, ইতালিতে একে অন্যের বিপক্ষে খেলেছি। ওর সঙ্গে এখনো আমার নিয়মিত যোগাযোগ হয়। তবে দুজনের মধ্যে আমি পেলেকেই বেছে নেব।’

পেলে কেন, সে ব্যাখ্যায় বিশ্বকাপটাই রাশের কাছে প্রাধান্য পায়, ‘তিনি মাত্র সতেরো বছর বয়সে বিশ্বকাপ খেলেছেন, জিতেছেন। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন চারটি (আসলে তিনটি)। কী দুর্দান্ত ছিলেন! ম্যারাডোনাও বল পায়ে যেকোনো কিছুই করতে পারত। একই কথা বলা যায় মেসি-রোনালদোর ক্ষেত্রেও। পেলে-ম্যারাডোনা, মেসি-রোনালদো এরা প্রত্যেকেই বাকিদের চেয়ে অনেক এগিয়ে, অন্য উচ্চতায়। পেলে তাঁর সময়ে, ম্যারাডোনা ওর সময়ে, এখন মেসি-রোনালদো। তবে তিনি চারটা (তিনটি) বিশ্বকাপ জিতেছেন বলেই আমি পেলেকে ওপরে রাখব।’

পেলে-ম্যারাডোনা প্রসঙ্গ যখন এসেছেই, মেসি-রোনালদো আর বাদ থাকে কেন! সে যুগে পেলে-ম্যারাডোনার মতোই গত দশ-পনেরো বছর ধরে তো এই তর্কটাই ঘিরে রেখেছে ফুটবলকে। এখানে রাশের পছন্দটা পরিষ্কার—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। লিওনেল মেসির চেয়ে রোনালদোর ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জ জেতার অভিজ্ঞতাই বেশি নজর কাড়ছে লিভারপুলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার। হেসে বললেন, ‘জানতাম এই প্রশ্নটা আসবে। আমি রোনালদোকে বেছে নেব। শুধু এই কারণে যে ও তিনটি ভিন্ন দেশে খেলেছে। ইংল্যান্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে, স্পেনে রিয়াল মাদ্রিদে এখন ইতালিতে জুভেন্টাসে। তিনটি আলাদা আলাদা দেশে ও লিগও জিতেছে।’

মেসির খেলাও ভালো লাগে তাঁর, তবে রোনালদো ওই একটা জায়গাতেই এগিয়ে রাশের চোখে, ‘মেসি বার্সেলোনা ছাড়া অন্য কোনো ক্লাবে, ধরুন ম্যানচেস্টার সিটিতে গিয়ে কী করে আমার দেখার খুব ইচ্ছা। মেসি যেভাবে খেলে, সেটা অসাধারণ। বার্সেলোনার খেলার ধরন ওর সঙ্গে যায়। ও যদি কখনো বার্সা ছাড়ে, তাহলে বেশ সমস্যায় পড়বে ক্লাবটা। মেসি খেলোয়াড় হিসেবে এতটাই ভালো। তবু, আমি রোনালদোকেই এগিয়ে রাখব, কেননা ও তিন দেশে জিতে দেখিয়েছে।’

* ইয়ান রাশের সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকার পড়তে চোখ রাখুন আগামীকালের প্রথম আলোর ছাপা সংস্করণে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন