বাবাকে অনুসরণ করে সন্তানের ফুটবলের পথে হাঁটার গল্পটা নতুন কিছু নয়। বাবা–ছেলের ফুটবলার হয়ে ওঠার এমন উদাহরণ অনেক আছে। কখনো বাবার ছায়ায় আড়ালে পড়ে যান ছেলে আবার কখনো বাবাকে ছাড়িয়ে নিজের নামেই খ্যাতিমান হয়ে উঠেন ছেলে। বাবা সিজার মালদিনির সাফল্যকে পেছনে ফেলে পাওলো মালদিনির কিংবদন্তি হওয়া কিংবা বাবা জিনেদিন জিদানের খ্যাতির আড়াল ভাঙতে না পারা এনজো জিদানের গল্পগুলো তো সামনেই আছে। সেই গল্পেই নতুন সংযোজন থিয়াগো মেসি।

বাবা লিওনেল মেসির হাত ধরে এখন ফুটবলের ময়দানে নিজের জাদু দেখানোর পথে হাঁটা শুরু করবে থিয়াগো। ইন্টার মায়ামির একাডেমিতে অনূর্ধ্ব–১২ দলে যোগ দিতে যাচ্ছেন মেসির বড় ছেলে। ইন্টার মায়ামি জানিয়েছে, ২০২৩–২৪ মৌসুমের দলের সঙ্গে যোগ দিতে যাচ্ছে থিয়াগো। যেখানে ইন্টার মায়ামির বিভিন্ন পর্যায়ের যুবদলে থাকা ১৫০ ফুটবলারের একজন হিসেবেই খেলবে মেসি জুনিয়র।

আরও পড়ুন

এমএলএসের ‘বেস্ট গোল অব দ্য ম্যাচ ডে’র সেরা চারে মেসি

এ ছাড়া এ মৌসুমে থিয়াগো ছাড়াও আরও ৩৪ তরুণের অভিষেক হবে ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই একাডেমিতে। তবে ইন্টার মায়ামির জার্সি থিয়াগোর পরা প্রথম জার্সি নয়। এর আগে বার্সেলোনার ৬ থেকে ৮ বছর বয়সীদের একটি প্রজেক্টে যুক্ত ছিল থিয়াগো। এমনকি ২০২০ সালে বার্সার জার্সিতে তার করা একটি গোলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ ভাইরালও হয়েছিল।

এদিকে থিয়াগোর ইন্টার মায়ামির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার খবর সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ফুটবল–দক্ষতার ভিডিও ছড়িয়েছেন অনেকে। সেসব ভিডিওতে বাবার ম্যাচের বিরতির সময়ও বল পায়ে কারিকুরি করতে দেখা গেছে তাকে। এসব ভিডিওর মন্তব্যের ঘরে মেসি–ভক্তরা শুভকামনা জানিয়েছেন থিয়াগোকে। যেখানে একজন লিখেছেন, ‘বাবার মতোই ছেলে।’ অন্য একজন তাকে দেখতে চেয়েছেন বার্সেলোনার একাডেমি লা মাসিয়াতে। লিখেছেন, ‘দ্রুত লা মাসিয়াতে চলে এসো।’

আরও পড়ুন

খেলা ভুলে মেসিকে মুগ্ধ চোখে দেখেন তিনি

এর আগে মেসি তাঁর ইন্টার মায়ামিতে যাওয়ার পেছনে কারণ হিসেবে পরিবারের ইচ্ছার কথাও উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো ও ছেলেরা সৌদি আরবের পরিবর্তে নাকি যুক্তরাষ্ট্রকেই অগ্রাধিকার নিয়েছেন। এরপর মায়ামিতে এসে ভালো থাকার কথা বলেছেন মেসি নিজেও। এবার সে মায়ামি থেকেই ফুটবলে নিজের গল্পটা শুরু করতে যাচ্ছে আরেক মেসি। তবে বাবার ছায়া পেরিয়ে থিয়াগোর ফুটবলে পথচালা কত দূর বিস্তৃত হবে, সে উত্তরটা সময়ের হাতেই তোলা রইল।