অলিম্পিকে অন্যদের পদক জিততে দেখাই যাঁদের ভাগ্য

রোমান সানা ও দিয়া সিদ্দিকী এবার টোকিও অলিম্পিকে অংশ নেনফাইল ছবি: ওয়ার্ল্ড আর্চারি

অলিম্পিক গেমস দেখার মজা শুধু ক্রীড়াবিদদের লড়াইয়ে নয়। এই বিশ্ব-বিভুঁই এবং তার ভৌগোলিক বিষয়াদি সমন্ধেও জ্ঞান লাভ করা যায়। কিংবা বিস্মৃতিতে ডোবা কোনো তথ্য চলে আসে সামনে।

সান ম্যারিনোর কথাই ধরুন। টোকিও অলিম্পিকে পদক জয়ের আগে দক্ষিণ ইউরোপের এই দেশ সমন্ধে কজন জানতেন?

অলিম্পিকে এবারই প্রথম পদক জিতল ইতালির ভূখণ্ডবেষ্টিত দেশটি। অলিম্পিকে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবেও পদক জয়ের কীর্তি গড়েছে তারা। অথচ, জনসংখ্যা কিংবা আয়তনে অনেক বড় দেশও প্রতি চার বছর পরপর অলিম্পিকে অংশ নিয়ে একটা পদক জিততে পারেনি!

ছবি: প্রথম আলো

অলিম্পিক কমিটির (এনওসি) সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রতিটি দেশ অন্তত একবার হলেও অলিম্পিকে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পদক না জেতা দেশের সংখ্যা ৭০। পদকজয়ী দেশের সংখ্যা ১৩৬। এই পদক না জেতা দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যকবার অলিম্পিকে অংশ নিয়েছে মোনাকো (২০ বার)।

বাংলাদেশের পাশের দেশ মিয়ানমার অংশ নিয়েছে ১৮ বার। মাল্টা অংশ নিয়েছে ১৭ বার, বলিভিয়া ১৫ বার, নেপাল ১৪ বার। বাংলাদেশ এবার টোকিও অলিম্পিকসহ মোট ১০ বার অংশ নিচ্ছে অলিম্পিকে। প্রতিবারই ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে।

ছবি: প্রথম আলো

অবশ্য এর মধ্যেই একটা রেকর্ড গড়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও তা এসেছে—বাংলাদেশ অলিম্পিকের ইতিহাসে পদক না জেতা সর্বোচ্চ জনসংখ্যার দেশ।

ছবি: প্রথম আলো

আয়তনের দিক থেকে পদক না জেতা দেশগুলোর মধ্যে কঙ্গো সবাইকে পেছনে ফেলেছে। প্রায় ২৩ লাখ বর্গ কিলোমিটারের আফ্রিকান দেশটি অলিম্পিকে ১০ বার অংশ নিয়েও কোনো পদক জিততে পারেনি।

এ তালিকায় কঙ্গোর পরের তিনটি দেশও আফ্রিকান—লিবিয়া, শাদ ও অ্যাঙ্গোলা। পঞ্চম দেশটি দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়া।

ছবি: প্রথম আলো

পদকজয়ী দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক সোনাজয়ী দেশ যুক্তরাষ্ট্র (১০২২)। এই যুক্তরাষ্ট্রেরই কিংবদন্তি সাঁতারু মাইকেল ফেলপস অলিম্পিকের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল। ২৮টি পদক জিতেছেন, এর মধ্যে ২৩টি সোনার পদক।

ছবি: প্রথম আলো

অবিশ্বাস্য ব্যাপার হলো, অলিম্পিকে পদকজয়ী ৮১টি দেশের পদকসংখ্যা ফেলপসের চেয়েও কম! ৬৬টি দেশ ফেলপসের চেয়ে কম সোনার পদক জিতেছে।