জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগার সঙ্গে টমাস বাখ (বাঁয়ে)।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগার সঙ্গে টমাস বাখ (বাঁয়ে)।ছবি: এএফপি

২০২০ অলিম্পিক এক বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে পিছিয়ে দেওয়া টোকিও অলিম্পিক নতুন সূচি অনুযায়ী ২০২১ সালের ২৩ জুলাই শুরু হবে। কিন্তু সংক্রমণ বন্ধ না হওয়ায় টোকিও অলিম্পিকের আয়োজন নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। সেটা দূর করতেই জাপানের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সভাপতি টমাস বাখ এখন টোকিওতে।

চার দিনের সফরে গতকাল বাখ বিশেষ ভাড়া করা বিমানে টোকিও এসে পৌঁছান। সংক্রমণ শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে মার্চ মাসে সর্বশেষ জাপানে গিয়েছিলেন বাখ। সেবার অলিম্পিক পিছিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া বাখ এবার এসেছেন ভিন্ন উদ্দেশ্যে। অলিম্পিক আদৌ অনুষ্ঠিত হতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেওয়ায় বিভ্রান্তি দূর করে নিতে জাপান সরকার ও টোকিও অলিম্পিকের আয়োজক কমিটির সঙ্গে বৈঠক করছেন বাখ। আজ সকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অলিম্পিক আয়োজনের বিভিন্ন দিক নিয়ে টমাস বাখ কথা বলেছেন।

বিজ্ঞাপন

জাপানের প্রধানমন্ত্রী এবং আইওসি প্রধান নিশ্চিত করেছেন, বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী গ্রীষ্মে অলিম্পিকের আয়োজন করবেন এবং সম্ভব হলে দর্শক উপস্থিতি নিশ্চিত করবেন তাঁরা। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় বাখ বলেছেন, তিনি নিশ্চিত, প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ভেন্যুতে দর্শকেরা উপস্থিত থাকতে পারবেন। বাখ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেই সময়ের মধ্যে টিকা পাওয়া গেলে ক্রীড়াবিদদের পাশাপাশি দর্শকদেরও যেন টিকা দেওয়া যায়, আইওসি তা নিশ্চিত করবে।

প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলা বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী সুগা সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রতিযোগিতায় দর্শক উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য যে বিষয়গুলো জাপান পর্যালোচনা ও যাচাই করে দেখছে, তার ব্যাখ্যা আইওসি প্রধানকে দিয়েছেন। সুগা জানিয়েছেন, মানুষ এ ভাইরাসকে পরাজিত করতে সক্ষম, তার প্রমাণ হিসেবেই অলিম্পিক আয়োজনের দৃঢ় প্রত্যয় বাখের কাছে ব্যক্ত করেছেন তিনি।

এদিকে টমাস বাখ আজ টোকিওর গভর্নর ইয়ুরিকো কোইকের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। বৈঠকের পর কোইকে সাংবাদিকদের বলেছেন, আইওসি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা করার মধ্য দিয়ে বিদেশ থেকে আসা দর্শক ও ক্রীড়াবিদদের স্বাগত জানানোর আশা করছে জাপানের রাজধানী।

default-image

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ও জাপান সরকার অলিম্পিকের আয়োজন নিয়ে উচ্চাশা পোষণ করছে। তবে সংক্রমণের আরেকটি ঢেউ চলে আসার মুখে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তা এখন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি টিকা আবিষ্কারের পথে দেখা দেওয়া জটিলতার কারণেও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না আগামী গ্রীষ্মে বিশ্বকে কোন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। এ অবস্থায় নেতাদের এতটা আশাবাদী হওয়ার যৌক্তিকতা অবশ্য অনেকে খুঁজে পাচ্ছেন না। জাপান সরকার অবশ্যই চাইছে অলিম্পিক যেন আর পিছিয়ে না যায়। কারণ, সে ক্ষেত্রে ২০২০ টোকিও অলিম্পিকের পুরোটাই ভন্ডুল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। বিশাল অঙ্ক খরচ করে নানা রকম অবকাঠামো তৈরি করার পর সেগুলো কাজে লাগানো সম্ভব না হলে যে ক্ষতি হবে, সে অঙ্ক সরকার গুনতে নারাজ।

আইওসির সামনেও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। স্পনসরশিপ ও সম্প্রচারসত্ব বিক্রি করে বিশাল অঙ্কের আয়ের যে নিশ্চয়তা আইওসি ইতিমধ্যে পেয়েছে, তার সবটাই বরবাদ হোক এটা চায় না অলিম্পিক কমিটি। আইওসির পক্ষ থেকেও অলিম্পিক আয়োজনের পক্ষে বলিষ্ঠ বক্তব্য আসছে। তবে করোনাভাইরাস আগামী গ্রীষ্ম নাগাদ দুই পক্ষের প্রতি সদয় হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0