ইরাককে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

ইরাক শুরুতে অস্বস্তিতে ফেললেও বাংলাদেশের জন্য বড় বাধা হতে পারেনিছবি: সংগৃহীত

গ্যালারিতে খেলা দেখতে আসা জাতীয় নারী কাবাডি দলের খেলোয়াড়েরা সারাক্ষণ ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ বলে চীৎকার করে গেলেন। তুহিন তরফদার, আরদুজ্জামান মুন্সীরা একেকটা পয়েন্ট পেতেই নেচে–গেয়ে উল্লাস করলেন মেয়েরা। শাহনাজ মালেকারা আনন্দের রেশটা ধরে রেখেছিলেন ম্যাচের শেষ পর্যন্ত।

বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক কাবাডিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। পল্টন শহীদ নূর হোসেন ভলিবল স্টেডিয়ামে আজ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইরাককে ৫৫-৩৬ পয়েন্টে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন জাকির হোসেন।

এর আগে দিনের প্রথম সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৪৯-২৯ পয়েন্টে হারিয়েছে কেনিয়া। আগামীকাল ফাইনালে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে কেনিয়ার।

জাকির হোসেন ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন
ছবি: সংগৃহীত

ঐতিহ্য ও শক্তির বিচারে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা বাংলাদেশকে শুরুতে ভালোই চ্যালেঞ্জ জানায় ইরাক। হাসান ফায়েজ, মোহাম্মদ হাদিদের দুর্দান্ত রেইডে কিছুটা এলোমেলো হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। একপর্যায়ে বাংলাদেশের চারজনকে আউট করে পিছিয়ে পড়া ইরাককে ১০-১০ পয়েন্টে সমতায় আনেন ফায়েজ।

শুরুতে খেই হারিয়ে ফেলা বাংলাদেশ এরপর ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরে। দুবার ইরাককে অলআউট করে প্রধমার্ধে ৩০-১৭ পয়েন্টে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। পয়েন্টের এ ব্যবধান বিরতির পরও ধরে রাখেন তুহিন তরফদাররা।

কাবাডিতে ইরাকের পথচলা মাত্র ছয় বছরের। এ অল্প সময়ের মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি নিজেদের চেনাতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক কাবাডিতে বেশ ভালোভাবেই। তবে কৌশলে আর অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত আজ পেরে ওঠেনি ইরাক।

ইরাক ম্যাচে একবার সমতা ফিরিয়েছিল
ছবি: সংগৃহীত

ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথম ২০ মিনিটেই দুবার ইরাককে অলআউট করে দুটি লোনা তুলে নেয়। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য জয় নিশ্চিত ভেবে নতুন কিছু খেলোয়াড়কে সুযোগ দেন কোচ সাজুরাম গায়েত। নতুন খেলোয়াড়েরাও কোচের আস্থার প্রতিদান দেন। ম্যাচের শেষ মিনিটে তুহিন একাই চার পয়েন্ট আনলে ফাইনালে ওঠার আনন্দে মেতে ওঠে পুরো গ্যালারি।

ম্যাচ শেষে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতা জাকির হোসেনের কণ্ঠে ছিল উচ্ছ্বাস। আগামীকাল কেনিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দ উদ্‌যাপন করতে চান তিনি, ‘কেনিয়া খুবই শক্তিশালী দল। তবে আমরাও এ টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছি। আশা করি, কাল কেনিয়াকে হারিয়ে আমরাই চ্যাম্পিয়ন হব।’

কোচ সাজুরামও ট্রফিতেই চোখ রাখছেন, ‘আমাদের ছেলেরা পুরো টুর্নামেন্টেই ভালো খেলেছে। কেনিয়ার চেয়ে টেকনিকে, অভিজ্ঞতায় আমরাই এগিয়ে। শুধু উচ্চতায় একটু পিছিয়ে আছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা, তবে এসব নিয়ে ভাবছি না। ছেলেরা তাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারলে বাংলাদেশ আবারও চ্যাম্পিয়ন হবে।’