default-image

আগামী ৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে সাজ সাজ রব। গত পরশু জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে গিয়ে দেখা গেল পুরস্কার প্রাপক বা সম্মানিত অতিথিদের আমন্ত্রণপত্র পাঠানোর চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ চলছে।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সরকারি এই ক্রীড়া পুরস্কারটি বার্ষিক। কিন্তু কোন সালের পুরস্কার এটি? সরকারি ক্রীড়া পুরস্কার প্রদানের যে ধীর গতি, তাতে ক্রীড়ামোদী মানুষের সাল-বছর মনে থাকার কথা নয়। এবার যেমন ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালের জন্য মনোনীত ৩২ জন ক্রীড়াবিদ ও সংগঠককে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে একসঙ্গে। সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকারের সময় এই মনোনয়ন-প্রক্রিয়া শুরু হয়ে চূড়ান্ত হয় ২০১৪ সালে।
তাই পুরস্কার প্রদান পড়েছে তীব্র সময়জটের কবলে। ভেবে দেখুন, ২০১০ সালে কোনো খেলোয়াড় যদি তাঁর ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে থেকে মনোনীত হন পুরস্কারের জন্য, তিনি এখন অবসরের প্রান্তে চলে গেছেন। অনেকের আবার নিজের হাতে পুরস্কার নেওয়ার সৌভাগ্যও হয় না। এই তো পুরস্কার ঘোষণার পর সাবেক হকি তারকা জুম্মন লুসাই চলে গেছেন না ফেরার দেশে। জুম্মন যখন ২০১১ সালের ক্রীড়া পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন, তখন জীবিত। আর জীবিত ছিলেন বলেই ‘মরণোত্তর’ লেখা হচ্ছে না তাঁর নামের পাশে। আবার ওই বছরের জন্য এমন একজন মরণোত্তর পুরস্কার পাচ্ছেন, যিনি এ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের চিরস্মরণীয় এক নাম আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা—ইতিহাসের মর্মান্তিক ও জঘন্য এক হত্যাকাণ্ডে নিহত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-তনয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাই শেখ কামাল।

শেখ কামালকে ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে ২০১১ সালের পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে আরও নয়জনের সঙ্গে। তাঁদের আটজন—আশিকুর রহমান মিকু ও কুতুবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী আকসির (সংগঠক), ক্রীড়াবিদ রবিউল ইসলাম (ফটিক দত্ত) (শরীর গঠন), খালেদ মাসুদ পাইলট (ক্রিকেট), হেলেনা খান ইভা (ভলিবল), আশরাফ আলী (কুস্তি), কাঞ্চন আলী (বক্সিং), রওশন আরা ছবি (জিমন্যাস্টিকস)।

এ নিয়েই আলোচনা-সমালোচনা চলছে ক্রীড়াঙ্গনে। মরহুম শেখ কামাল হলেন বাংলাদেশের ক্রীড়াবিপ্লবেরই একটি মুখ, তাঁর মতো ক্রীড়া সংগঠককে বিশেষ কোনো জাতীয় পুরস্কারেই ভূষিত করা উচিত। আর বার্ষিক জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার যদি তাঁকে দেওয়াই হবে, এত বছর পরে কেন?

মনোনীত তালিকাটা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়াটাও যেন একটা ‘রীতি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবারও ব্যতিক্রম নয়। বাছাই-প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্রে জানা গেছে, তেমন অবদান না থাকলেও ক্রীড়াবিদ বা ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে অন্তত সাত-আটজন মনোনীত তালিকায় নাম তুলেছেন তদবিরের জোরে।

জাতীয়পুরস্কারেরজন্যমনোনীতযাঁরা

২০১০

হারুন-অর-রশিদ (সাঁতার), আতিকুর রহমান (শ্যুটিং), মাহমুদা বেগম (অ্যাথলেটিকস), দেওয়ান নজরুল হোসেন (জিমন্যাস্টিকস), মিজানুর রহমান মানু (সংগঠক), এ এস এম আলী কবীর (সংগঠক), মরহুম তকবির হোসেন (সাঁতার), ফরিদ খান চৌধুরী (অ্যাথলেটিকস), নেলী জেসমিন (অ্যাথলেটিকস), নিপা বোস (অ্যাথলেটিকস, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী)

২০১১

রওশন আরা ছবি (জিমন্যাস্টিকস), কাঞ্চন আলী (বক্সিং), আশরাফ আলী (কুস্তি), হেলেনা খান ইভা (ভলিবল), খালেদ মাসুদ পাইলট (ক্রিকেট), রবিউল ইসলাম (ফটিক দত্ত) (শরীর গঠন), জুম্মন লুসাই (হকি), কুতুবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী (আকসির) (সংগঠক), আশিকুর রহমান মিকু (সংগঠক), শহীদ শেখ কামাল (মরণোত্তর) (ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক)।

২০১২

সাকিব আল হাসান (ক্রিকেট), মোহাম্মদ মহসীন, খুরশিদ আলম বাবুল, আবদুল গাফ্ফার, আশীষ ভদ্র, সত্যজিৎ দাশ রুপু (ফুটবল), ফিরোজা খাতুন (অ্যাথলেটিকস), নাজিয়া আক্তার যূথী (ব্যাডমিন্টন), রাজীব উদ্দীন আহ​েমদ চপল (সংগঠক), মামুন উর রশিদ (হকি), নুরুল আলম চৌধুরী (সংগঠক)।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0