করোনাভাইরাসের কারণে মাঠ থেকে বিদায় নিয়েছিল খেলা। দেশের ক্রীড়াবিদেরা সবাই হয়ে পড়েছিলেন ঘরবন্দী। বাড়িতে শুয়ে-বসে অলস সময় কাটানো মানেই তো ফিটনেসের দফারফা হয়ে যাওয়া। গত পরশু বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনূর্ধ্ব-২১ হকি দলের খেলোয়াড়দের ফিটনেস পরীক্ষা কুপার টেস্ট তেমনটিই বলছে। গত জানুয়ারিতেই যে খেলোয়াড়েরা ১২ মিনিটে ৩২০০ মিটার দৌড়েছেন, তাঁরাই ৯ মাস পর দৌড়ালেন ২৬০০ মিটারের মতো!

default-image

গত জুনেই ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ১০ জাতির অনূর্ধ্ব-২১ এশিয়া কাপ হকি। টুর্নামেন্ট সামনে রেখে বাংলাদেশ দলের ক্যাম্প শুরু হয়েছিল সেপ্টেম্বর, ২০১৯-এ। কিন্তু করোনা পণ্ড করে দেয় সবকিছুই। স্থগিত হয়ে যায় টুর্নামেন্ট, অনুশীলন ক্যাম্পও। নতুন সূচি অনুযায়ী টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে ২০২১-এর ২১ থেকে ৩০ জানুয়ারি।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে খেলা ফেরানোর প্রস্তুতি চলছে। যুব হকি দলের ক্যাম্পও শুরু হয়েছে গত শনিবার থেকে। প্রথমেই ছিল ফিটনেস পরীক্ষা। কোচ মামুনুর রশীদ জানান ৩৫ খেলোয়াড়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩১৫০ মিটার দৌড়েছেন ওবায়দুর রহমান। ৩১০০ মিটার করে দৌড়েছেন সাবাদুল মিঠু ও ইয়াসিন আরাফাত হিমেল। বাকি ৩২ জনের দৌড় ২৫০০ থেকে ২৬০০ মিটারের মধ্যে। ওবায়দুর ও সাবাদুল গত আগস্টে ১৭ জন খেলোয়াড় নিয়ে বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে হওয়া এক মাসের ফিটনেস ক্যাম্পে ছিলেন।

মামুনুরের দৃষ্টিতে অবশ্য এটাই বাস্তবতা, ‘খেলা না থাকলে খেলোয়াড়দের ফিটনেস লেভেল নেমে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। আগে কুপার টেস্টে ৩২০০ মিটার দৌড়েছে খেলোয়াড়েরা। রোববারের পরীক্ষায় গড় ২৬০০ মিটার।

তিনি অবশ্য আশা ছাড়ছেন না। এ মুহূর্তে প্রধানতম লক্ষ্য খেলোয়াড়দের ফিটনেস আগের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, ‘এই মাসে আমার হাতে আরও ১৮ দিন সময় আছে। পুরো মাসটাই আমি ফিটনেসের ওপর জোড় দেব। কুপার টেস্টে আগের অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই এই মাসেই।’

default-image

জানুয়ারিতে হতে যাওয়া টুর্নামেন্টের একটা খসড়া গ্রুপিং এরই মধ্যে হয়ে গেছে। ৬ অক্টোবর পর্যন্ত র‌্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতেই এই গ্রুপিং হয়েছে। সেখানে গ্রুপ ‘এ’-তে বাংলাদেশের সঙ্গে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনা তাইপে। গ্রুপ ‘বি’তে মালয়েশিয়া, জাপান, চীন ও সিঙ্গাপুর। ওমান নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় সিঙ্গাপুরকে খেলার সুযোগ দিয়েছে এশিয়ান হকি ফেডারেশন। ক্যাম্প শুরুর দিনই সেমিফাইনালে খেলার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছিলেন কোচ মামুনুর।

এই টুর্নামেন্ট থেকে সরাসরি তিনটি দল খেলার সুযোগ পাবে যুব বিশ্বকাপে। তবে স্বাগতিক হিসেবে ভারত যেহেতু বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে, এখান থেকে তাই চতুর্থ দলটিরও বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেই চতুর্থ দলটিই হতে চায় বাংলাদেশ। অবশ্য এর আগে বাংলাদেশ কখনো সেরা চারে থাকতে পারেনি। সর্বোচ্চ সাফল্যই ষষ্ঠ স্থান। ১৯৯৬ সালে ভালো সুযোগ এসেছিল সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায়। কিন্তু প্রথম তিন ম্যাচ জিতেও শেষ পর্যন্ত পারেনি বাংলাদেশ। সেই যুব দলের অধিনায়ক ছিলেন বর্তমান দলটিরই কোচ মামুনুর রশীদ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0