অক্সিজেনের জন্য হাহাকার চলছে ভারতে।
অক্সিজেনের জন্য হাহাকার চলছে ভারতে।ছবি: এএফপি

দিনকে দিন করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে ভারতে। অনেক হাসপাতালে শয্যা খালি নেই। গুরুতর অসুস্থ অনেক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলেও অক্সিজেন পাচ্ছেন না। চরম অক্সিজেন সংকটে পড়ে ভারতীয়রা একেবারে দিশেহারা।

দেশে-বিদেশে অনেকে ভারতকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। এরই মধ্যে করোনাযুদ্ধে আর্থিক সহযোগিতার জন্য এগিয়ে এসেছেন আইপিএলে খেলতে আসা কলকাতা নাইট রাইডার্সের পেসার প্যাট কামিন্স। অস্ট্রেলিয়ান এই ক্রিকেটার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দিয়েছেন ৫০ হাজার ডলার।

কিন্তু তারকা ক্রিকেটারের চেয়েও যেন একধাপ এগিয়ে রইলেন ১৯ বছর বয়সী ভারতীয় গলফার কৃষিভ তেকচানদানি। নিজের ছোট ক্যারিয়ারের উপার্জিত সব অর্থই দান করেছেন করোনার টিকা দান তহবিলে।

বিজ্ঞাপন
default-image

সাত বছর বয়সে গলফ খেলা শুরু করেন কৃষিভ। মুম্বাইয়ের এই তরুণ বিশ্বজুড়ে খেলছেন, জিতছেনও নিয়মিত। তাঁর শো কেসে জমা আছে একগাদা ট্রফি। সেই ট্রফির পাশাপাশি জিতেছেন প্রাইজমানিও। জমানো অর্থ এবার দান করে দিলেন করোনা রোগীদের সহায়তার জন্য। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবেই তাঁর উপার্জনের সব অর্থ দান করেছেন স্থানীয় বম্বে প্রেসিডেন্সি গলফ ক্লাবে। এভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো অবশ্য নতুন কিছু নয় কৃষিভের জন্য। গত বছর নিজের ১৮তম জন্মদিন উদ্‌যাপন করেছেন মুমূর্ষু রোগীকে রক্তদান করে।

ভারতের বিভিন্ন গলফ কোর্সে কাজ করেন প্রচুর ক্যাডি, মালি, কেয়ারটেকার ও গ্রাউন্ডসম্যান। কৃষিভ জানান, এসব কর্মী করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে মোটেও সচেতন নন। এঁদের করোনা টিকার ব্যবস্থাও করা হয়নি। আবারও লকডাউনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে এঁদের পরিবার কঠিন আর্থিক সংকটের মধ্যেই পড়বে। একজন খেলোয়াড় হিসেবে তাই এঁদের পাশে দাঁড়ানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।

কৃষিভের এমন কাজের প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছে সারা ভারতে। মহারাষ্ট্র রাজ্য যুব কংগ্রেসের সভাপতি সত্যজিৎ তামবে টুইটে লিখেছেন, ‘তরুণ ভারত, তরুণ প্রতিভা। কৃষিভ তার সব অর্জন দান করে যুবসমাজের সামনে একটা উদাহরণ তৈরি করেছে।’

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত শনিবার থেকে রোববার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ। এই অঙ্কটা যেকোনো দেশে এক দিনে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্তের রেকর্ড। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, রোববার ভারতে করোনায় মারা গেছে ২ হাজার ৭৬৭ জন। এ নিয়ে সে দেশে মৃত্যুসংখা দুই লাখের কাছাকাছি ছুঁয়েছে। এমন এক পরিস্থিতিতে মানবতার জয়গানই যেন গাইলেন তরুণ এই গলফার।

বিজ্ঞাপন
অন্য খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন