আশা করি, সিদ্দিক ভাই (সিদ্দিকুর রহমান) ও আমি এশিয়ান গেমসের এবারের দলে ডাক পাব
চীনে সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসের বাংলাদেশ দলে সুযোগ পাওয়ার আশা গলফার জামাল হোসেন মোল্লার

পারফরম্যান্সের উন্নতির পেছনে বিশেষ একটা কারণ দেখছেন জামাল। দিল্লি থেকে মুঠোফোনে জামাল প্রথম আলোকে বলছিলেন, ‘এবার ভারতে আসার আগে কোচের পরামর্শে ক্লাব বদলে ফেলেছি। আগের ক্লাবটির ওজন ছিল ৯০ গ্রাম। ওই ক্লাব দিয়ে সুইং ও গতির সমন্বয়টা ঠিকমতো হতো না। এবার নতুন ক্লাব কিনেছি, এটার ওজন ১০৫ গ্রাম। এই ক্লাব দিয়ে প্রত্যাশামতো খেলতে পারছি। পরপর দুটি টুর্নামেন্টে রানারআপ হওয়ার ফলে আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে অনেক।’

পেশাদার গলফে পা রাখার পর থেকে জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে জামালের। অথচ ২০১০ সালে ঢাকা এসএ গেমসে সোনাজয়ী বাংলাদেশ জাতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গলফার ছিলেন তিনি। তবে আবারও জাতীয় দলের হয়ে খেলতে চান।

default-image

নতুন নিয়ম অনুসারে শৌখিন গলফারদের পাশাপাশি পেশাদাররাও সুযোগ পাবেন এবারের এশিয়ান গেমসে। চীনে সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসে সেই সুযোগটাই নিতে চান জামাল, ‘এশিয়ান গেমসে অবশ্যই সেরা গলফারদের পাঠানো উচিত। ভারত থেকে শুভঙ্কর শর্মা, অনির্বাণ লাহিড়ী এশিয়ান গেমসে খেলতে যাবে। আশা করি, সিদ্দিক ভাই (সিদ্দিকুর রহমান) ও আমি এশিয়ান গেমসের এবারের দলে ডাক পাব।’

অন্য সব খেলোয়াড়ের মতো দেশের পতাকা সবার ওপরে দেখতে উন্মুখ জামালও, ‘জাতীয় দলে খেলাটা সব সময় অন্য রকম ভালো লাগার ব্যাপার। পেশাদার গলফার হলেও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে দেশেরই প্রতিনিধিত্ব করি আমরা। লিডারবোর্ডে আমরা ওপরে থাকা মানে তো আমার দেশের পতাকাটাই ওপরে থাকে। এটা নিয়ে গর্ব করতেই পারি।’

পিজিটিআই র‍্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে পঞ্চম স্থানে আছেন জামাল। অথচ এশিয়ান ট্যুরে নিয়মিত খেলতে পারেন না। এই দুঃখটা পোড়ায় জামালকে। যদিও এশিয়ান ট্যুরের টুর্নামেন্টে খেলতে হলে জামালকে আগে বাছাইপর্ব পার হতে হবে। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এত দিন বাছাইপর্বে খেলার জন্য নাম নিবন্ধন করতে পারেননি। পাশাপাশি নিজের পারফরম্যান্সও ততটা সাহস জোগাচ্ছিল না।

default-image

তবে এবার এশিয়ান ট্যুরে খেলতে আগ্রহী জামাল, ‘ভারতে কোনো এশিয়ান ট্যুরের টুর্নামেন্ট হলে সেখানে খেলতে পারব পিজিটিআই র‍্যাঙ্কিংয়ে সেরা পাঁচে থাকার জন্য। কিন্তু অন্য কোথাও খেলতে হলে এশিয়ান ট্যুরের কোয়ালিফাইং স্কুলে পাস করতে হবে। কোয়ালিফাইংয়ে নাম নিবন্ধন করতে পাঁচ হাজার ডলার খরচ হয়। আমার পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান থেকে সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছি। আশা করি এবার নাম নিবন্ধন করতে পারব।’

বাংলাদেশের গলফারদের বড় সমস্যা ধারাবাহিকতার অভাব। সেটির পেছনে নিয়মিত খেলার সুযোগ না পাওয়াটাকেই দুষলেন জামাল, ‘বেশি টুর্নামেন্ট না খেললে বুঝতে পারব না কোথায় আছি। ভারতের গলফাররা সব দেশেই রাজত্ব করে। কারণ, ওরা বছরজুড়ে খেলে। কিন্তু হঠাৎ বড় টুর্নামেন্টে খেলতে গেলে আমরা চাপে পড়ে যাই। আসলে বেশি বেশি খেলার বিকল্প নেই। যত খেলব, ততই অভিজ্ঞতা বাড়বে।’

অন্য খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন