default-image

খেলতে খেলতেই পরিচয়। সেখান থেকে ধীরে ধীরে সম্পর্কে গভীরতা বাড়ে। এরপর কবে কখন একজন আরেকজনের পরিপূরক হয়ে গেছেন, বুঝতে পারেননি কেউই। খেলার জগতের এমনই তিন দম্পতির সুখের সংসারে এবার পড়েছে সোনালি আলো। সত্যিকার অর্থেই ‘সোনার’ সংসার হয়ে উঠেছে তাঁদের।

সদ্য শেষ হওয়া বাংলাদেশ গেমসে নৌবাহিনীর সাঁতারু দম্পতি আসিফ রেজা ও সোনিয়া আক্তার জিতেছেন ১২টি সোনা। সোনিয়া একাই জিতেছেন ৮টি সোনা, যা গেমসেই ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ; আসিফের সোনা ৪টি। এমনই সোনাজয়ী আরেক দম্পতি আছেন কারাতেতে। কারাতেকা হোসেন খান একক কুমির পাশাপাশি পুরুষ দলগত কাতায়ও জিতেছেন সোনার পদক। তাঁর স্ত্রী হুমায়রা আক্তার সোনা জিতেছেন অনূর্ধ্ব-৬১ কেজি কুমিতে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ গেমস সোনালি আভা ছড়িয়ে দিয়েছে আল আমিন-জহুরা খাতুনের সংসারেও। এই স্বামী-স্ত্রী অবশ্য অংশ নিয়েছেন ভিন্ন দুটি খেলায়। বক্সিংয়ে ছেলেদের ৬৪ কেজি লাইট ওয়েল্টার ক্যাটাগরিতে সোনা জেতেন আল আমিন। জহুরার সোনা ভারোত্তোলনের ৭৬ কেজি ওজন শ্রেণিতে।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিয়ের পর থেকেই বাংলাদেশ গেমস নিয়ে রোমাঞ্চিত ছিলেন আসিফ-সোনিয়া দম্পতি। বিয়ের পর এটাই ছিল জাতীয় পর্যায়ে তাঁদের প্রথম আসর। গেমসে সোনিয়ার প্রথম ইভেন্ট ছিল ৮০০ মিটার ফ্রি স্টাইল। স্ত্রীকে জেতাতে পুলের পাড়ে সেদিন আসিফ ছিলেন দরুণ সরব, ‘শেষ মুহূর্তে পুলের পাশে দাঁড়িয়ে আমি এত জোরে চিৎকার শুরু করি যে সবাই সাঁতার দেখা বাদ দিয়ে আমাকেই দেখছিল।’ পানিতে নামার আগে দুজনের মধ্যে সোনা জেতা নিয়ে একটা বাজিও হয়েছিল। ‘সোনিয়াকে বলেছিলাম, সোনা জিতলে দুই হাজার টাকা দেব’, বলছিলেন আসিফ। সোনিয়াও ঠিকই সোনা জিতেই শুরু করেন গেমস। তবে বাজির টাকাটা নাকি এখনো হাতে পাননি, ‘এখনো তো টাকাটা দেয়নি, ছুটিতে বাড়ি গেলে নিয়ে নেব ওর কাছ থেকে।’

default-image

হোসেন-হুমায়রার সংসারে তো কারাতে ছাড়া আর কোনো গল্পই নেই। ২০১৯ কাঠমান্ডু এসএ গেমসে সোনাজয়ী হুমায়রার কোচ ছিলেন হোসেন। গত বছর সেপ্টেম্বরে সেই কোচকেই বানিয়ে নেন জীবনসঙ্গী। হুমায়রার সাফল্যের রহস্যটাও লুকিয়ে প্রিয় মানুষকে কাছে পাওয়ার স্বপ্নপূরণের মধ্যেই, ‘স্বামী কোচ হওয়ায় আমার বাড়তি সুবিধা হয়েছে। পারফরম্যান্সও এই ক্ষেত্রে উন্নতি হচ্ছে। সারা দিন দুজন মোবাইলে শুধু ফাইটিংয়ের ভিডিও দেখি।’

default-image

জহুরার সঙ্গে আল আমিনের পরিচয় ২০১৩ সালের বাংলাদেশ গেমসে। তখন কে জানত, পরের আসরেই এই দম্পতি গড়বেন ‘সোনার সংসার’। প্রায় পাঁচ বছর প্রেম করার পর বিয়ে ২০১৯ সালে। বিয়ের পর তাঁরাও এই প্রথম খেললেন জাতীয় পর্যায়ে। মজার ব্যাপার হলো, দুজনই সোনা জিতেছেন একই দিনে, তবে দুই শহরে। ময়মনসিংহে ৮ এপ্রিল সকালে ভার তোলেন জহুরা। বিকেলে ঢাকায় মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়ামে রিংয়ে নামেন আল আমিন। দিনের শুরুতে সোনা জিতে যাওয়ার পর থেকে সময়ই কাটতে চাইছিল না জহুরার, ‘আমি তো সোনা জিতলাম। কিন্তু ও কী করবে, সেটা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম।’ অবশ্য বিকেল নাগাদ সোনার হাসি হাসেন আল আমিনও।

দুজনের অনুশীলন ক্যাম্প হতো দুই জায়গায় দুই সময়ে। কেরানীগঞ্জ থেকে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে ঢাকায় অনুশীলনে আসতেন আল আমিন। বিকেলে অনুশীলন শেষ করে ফিরতেনও একসঙ্গে। কষ্টটা যেমন ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন, এখন আনন্দটাও ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন তাঁরা। জহুরা বলছিলেন, ‘গেমসের আগে ওকে বলেছিলাম, সোনা জিততে পারেলে আমাকে খাওয়াতে হবে। সোনা জেতার পর আমাকে একটা ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে খাইয়েছেও।’ আল আমিন অবশ্য আছেন আরও বড় ‘দাঁও’ মারার অপেক্ষায়। বাংলাদেশ আনসার থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার পাচ্ছেন দুজনই। স্ত্রীর পুরস্কারে নাকি এর মধ্যেই ভাগ বসিয়ে রেখেছেন তিনি! ‘শুনেছি, আনসার এক লাখ টাকা বোনাস দেবে। ও আগে থেকেই নতুন বাইক কেনার জন্য টাকা চেয়ে রেখেছে’, হাসতে হাসতে বলছিলেন জহুরা।

সোনার সংসার বুঝি এমনই হয়! হাসি, আনন্দ আর খুশিতে ভরা।

বিজ্ঞাপন
অন্য খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন