default-image

রোমানিয়ার চিকিৎসক মারিয়া আলবুলেত ছিলেন শিশুবিশেষজ্ঞ। হাসপাতালে রোগী দেখার পর ডুবে যেতেন দাবার বোর্ডে। নারী এই গ্র্যান্ডমাস্টার খেলেছেন দাবা অলিম্পিয়াডেও। তানসেল তুরগুত তুর্কি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের কার্ডিওলজিস্ট।

২০০৬ দাবা অলিম্পিয়াডে খেলেন তুরস্কের হয়ে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা তানসেল লুসিয়ানা ও মিশিগানের স্টেট চ্যাম্পিয়ন। তিনিও দিনে হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে রাতে খেলেন দাবা।

বিজ্ঞাপন

মারিয়ার নাম কখনো না শুনলেও তাঁর সঙ্গে দারুণ মিল বাংলাদেশের দাবাড়ু সাবিকুন নাহারের। তিনিও যে একজন চিকিৎসক! আদ-দ্বীন হাসপাতালের অর্থোপেডিক চিকিৎসক সাবিকুন নাহারের প্রথম ভালোবাসা দাবা।

তাঁর মতোই দাবার টানে সাদাকালো বোর্ডে গজ-কিস্তি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক রতন কুমার পাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস চতুর্থ বর্ষের ছাত্র সম্রাট হায়দার, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের কিংসুক দাস। প্রত্যেকেই ফিদে রেটিংপ্রাপ্ত দাবাড়ু। ফেডারেশনের অধীনে নিয়মিত অংশ নেন বিভিন্ন টুর্নামেন্টে।

default-image

গত বছর মার্চে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান জোনাল দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলেন সাবিকুন নাহার। মাত্র ০.৫ পয়েন্টের জন্য ক্যান্ডিডেট মাস্টার খেতাব পাননি ওই টুর্নামেন্টে। খেলেছেন বেগম লায়লা আলম দাবা টুর্নামেন্টেও। ড. আকমল হোসেন আন্তর্জাতিক রেটিং দাবায় হয়েছেন সেরা দাবাড়ু। খেলেছেন বাংলাদেশ গেমসে। তাঁর সর্বোচ্চ রেটিং ১৮০০। বর্তমানে অবশ্য সেটি কমে দাঁড়িয়েছে ১৬৩৮-এ।

ভিকারুননিসা নূন স্কুলে পড়ার সময় দাবায় আগ্রহ জন্মে সাবিকুন নাহারের। এরপর স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক স্কুল দাবায় অংশ নেন। শুরুতে অভিভাবকেরা খেলতে দিতে চাইতেন না। কিন্তু একবার আন্তর্জাতিক নারী মাস্টার রানী হামিদকে হারিয়ে দেন তিনি। রানী হামিদ দাবায় তাঁর আগ্রহ দেখে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলতে উৎসাহ দিতেন।

চিকিৎসকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দাবা খেলা চালিয়ে যাওয়া একটু কঠিনই। তবু খেলা ছাড়েননি, ‘ডিউটি শুরু হলে সময় বের করা কষ্ট হয়। তখন মোবাইলে অনুশীলন করি।’ রানী হামিদের মতো আন্তর্জাতিক নারী মাস্টার হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি, ‘এই পেশায় থেকে খেতাব পাওয়া কঠিন। তবু চেষ্টা করছি রানী আন্টির মতো আন্তর্জাতিক মাস্টার হওয়ার।’

বিজ্ঞাপন

কুষ্টিয়ার দাবায় পরিচিত মুখ রতন পাল। র‌্যাপিডে রেটিং ১৮১৫। স্ট্যান্ডার্ড বিভাগে ১৭৫০। কুষ্টিয়ায় প্রতিষ্ঠা করেছেন দাবা একাডেমি মর্নিং গ্লোরি চেস ক্লাব। এই ক্লাবের হয়ে খেলেছেন দ্বিতীয় বিভাগে। এবারের মৌসুমে প্রথম বিভাগে খেলবে মর্নিং গ্লোরি চেস ক্লাব। খেলার পাশাপাশি কুষ্টিয়ায় ২৫ জন রেটেড দাবাড়ু তৈরি করেছেন রতন।

করোনা পরিস্থিতিতে অনলাইনে আয়োজন করেছেন প্রাইজমানি দাবা টুর্নামেন্ট। কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার দাবা সম্পাদক রতন চিকিৎসক না হলে দাবাড়ু হিসেবেই ক্যারিয়ার গড়তেন, ‘ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় দাদা স্বপন কুমার পাল দাবায় হাতেখড়ি দেন। নেশাটা ছাড়তে পারিনি। স্কুল ও কলেজে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। ঢাকা মেডিকেল কলেজেও দাবায় চ্যাম্পিয়ন ছিলাম। ডাক্তারি না পড়লে দাবাকেই পেশা হিসেবে নিতাম।’

default-image

সম্রাট হায়দারেরও ছোটবেলা থেকে দাবার নেশা । সম্রাটের স্ট্যান্ডার্ড রেটিং ১৫৪৩, র‌্যাপিডে ১৩৮৩। ফেডারেশন আয়োজিত রেটিং টুর্নামেন্টে নিয়মিত খেলেন। আন্তমেডিকেল দাবা টুর্নামেন্টে তিনি তিনবারের চ্যাম্পিয়ন। নিজের উদ্যোগে অনলাইনে আন্তমেডিকেল দাবা টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছেন সম্রাট। চিকিৎসক ও মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা প্রতি বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দাবা খেলেন। দাবার সর্বোচ্চ খেতাবের স্বপ্ন দেখেন সম্রাট, ‘জানি কাজটা কঠিন। তবু আমি গ্র্যান্ডমাস্টার হতে চাই।’

কিংসুক দাসের ভালোবাসার জায়গার নাম দাবা, ‘জীবিকার জন্য চিকিৎসক হতে চেয়েছি। কিন্তু আমার মানসিক তৃপ্তির জায়গা দাবা।’ কিংসুকের স্ট্যান্ডার্ড রেটিং ১৯৪৭, র‌্যাপিডে ১৯৯৬। আপাতত রেটিংটা বাড়িয়ে নেওয়াই কিংসুকের লক্ষ্য।

হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতর রোগীদের সেবা দিয়ে সারিয়ে তোলেন চিকিৎসকেরা। তবে দিন শেষে দাবার বোর্ডেই তাঁরা খুঁজে নেন আনন্দ।

মন্তব্য পড়ুন 0