এরপর দ্বিতীয় সেটে কারিনা মারেন ৯, ৮, ৯ (২৬)। দিয়া মেরেছেন যথাক্রমে ৯, ৭, ৯ (২৫)। দ্বিতীয় সেটে আবার সমতায় ফেরেন কারিনা। তৃতীয় সেটে দিয়া মেরেছেন ৭, ৯, ৯ (২৫)। আর কারিনাও তৃতীয় সেটে মেরেছেন সমান ২৫ পয়েন্ট (৯, ৮, ৮)। এই সেটে দুজনে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেন।

চতুর্থ সেটে কারিনা মেরেছেন ৯, ৮, ১০ (২৭)। এই সেটে দিয়া প্রথমবার মারেন ১০ পয়েন্ট। এটাই দিয়ার প্রথম পারফেক্ট টেনের শট ছিল আজ। এরপর মেরেছেন ৮, ৭। সব মিলিয়ে পয়েন্ট হলো ২৫। পঞ্চম সেটে কারিনা মারেন যথাক্রমে ৮, ৯ ও ৮ (২৫) । আর দিয়া মেরেছেন ১০, ৮ ও ৯ (২৫)।

পঞ্চম সেট শেষে দুজনের সেট পয়েন্ট দাঁড়ায় সমান ৫ করে। এরপর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। যেখানে একমাত্র শটে কারিনা মারেন ১০। কিন্তু দিয়া মারেন ৯। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হলো দিয়ার।

রোমান সানার মতো সরাসরি টোকিও অলিম্পিকে খেলার সুযোগ পাননি দিয়া সিদ্দিকী। একেবারে শেষ মুহূর্তে আন্তর্জাতিক আর্চারি ফেডারেশনের বিশেষ সুযোগে টোকিওর টিকিট পেয়েছিলেন।

কাগজে–কলমে দিয়ার চেয়ে অনেক এগিয়ে কারিনা। মেয়েদের রিকার্ভের এককে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ৩১তম স্থানে কারিনা। কিন্তু বিশ্বে দিয়ার অবস্থান ১৫৫তম। তারপরও দিয়া যেভাবে লড়াই করলেন, সেটা সত্যি প্রশংসার দাবি রাখে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একেবারে অনভিজ্ঞ দিয়ার বয়স ১৭ বছর। আর কারিনার বয়স ২৬ বছর। বাছাইপর্বে দিয়ার সর্বোচ্চ পয়েন্ট ৬৩৪, করেছেন এবারের অলিম্পিকে। আর ২০১৯ সালে কারিনা ৬৬১ পয়েন্ট পেয়েছিলেন, যা এখন পর্যন্ত এই বেলারুশের তিরন্দাজের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্কোর।

দুই বছর আগে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে মেয়েদের রিকার্ভ দলগত ইভেন্টে রুপা জেতে বেলারুশ। ওই দলের রুপা জয়ে বড় ভূমিকা ছিল কারিনার।

দিয়ার এ পর্যন্ত একটাই আন্তর্জাতিক পদক। গত মে মাসে সুইজারল্যান্ডে রিকার্ভ মিশ্র ইভেন্টে রোমানের সঙ্গে জুটি গড়ে জিতেছিলেন রুপার পদক।

দিয়াকে নিয়ে অবশ্য আশাবাদী ছিলেন কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখ। টোকিও থেকে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, 'দিয়া বাছাইপর্বে যেহেতু বেশ ভালো করেছে। আশা করছি, একটা উপভোগ্য লড়াই হবে।' লড়াইটা শেষ পর্যন্ত উপভোগ্যই হয়েছে। কিন্তু অভিজ্ঞতার কাছেই যেন হেরে গেলেন দিয়া।