default-image

ভবিষ্যৎ খেলোয়াড়দের কোলাহলে সব সময় গমগম করে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)। কিন্তু করোনাকালে ছাত্রছাত্রীরা ছুটিতে থাকায় সেখানে নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা। অ্যাথলেটিকস ট্র্যাক আর জিমনেসিয়ামের মধ্যের রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় কান খোলা রাখলে শোনা যায় গাছের পাতা পড়ার শব্দ। খেলাবিহীন সময়ে জিম থেকে লোহার ভারী যন্ত্রের শব্দ ভেসে এলে উৎসাহিত হতেই হয়। ভেতরে ঢুকতেই দেখা গেল দেড় শ কেজি ওজন নিয়ে হাফ স্কোয়াট করছেন দেশের দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তার।

খেলা না থাকলেও দেশের দ্রুততম মানবী অনুশীলন চালিয়ে যাবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পুরোপুরি খেলাবিহীন অবস্থায়ও ঈদের তিন দিন আগে নিজের ঘর–বাড়ি থেকে দূরে পড়ে থেকে কাউকে কঠোর অনুশীলন চালিয়ে যেতে দেখলে অবাকই হতে হয়।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুরোদমে অনুশীলন চালিয়ে যেতে প্রায় সাড়ে চার মাস বিকেএসপির শৃঙ্খলিত জীবনে নিজেকে বন্দী রেখেছেন শিরিন। গেল ঈদুল ফিতরে সাতক্ষীরায় বাবা–মায়ের কাছে যাননি, যাচ্ছেন না ঈদুল আজহাতেও। আজও ট্র্যাকে ঘাম ঝরিয়ে আগামীকাল ঈদের বিরতি দিয়ে আবার পরশু থেকে অনুশীলন শুরু করবেন শিরিন।

সাতক্ষীরায় মা–বাবা, বোন ও ভাগনি আছে। খেলা আর পড়াশোনার কারণে সারা বছরই পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয় শিরিনকে। ঈদে বাড়ি যাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও পথ আগলে দাঁড়িয়েছে করোনাভাইরাসের শঙ্কা। তা ছাড়া বাড়ি গেলে বিকেএসপিতে ফেরার পর কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে দুই সপ্তাহ। সব মিলিয়ে তিন সপ্তাহের অনুশীলনের বাইরে থাকা মানেই শিরিনের সারা বছরের পরিশ্রম চুলোয় যাওয়া, ‘করোনার সময়ে বাড়ি গেলে অনেক সমস্যা। এত দিন অনুশীলন না করতে পারলে সারা বছরের পরিশ্রম কোনো বাজে আসবে না। শুনেছি বাংলাদেশ গেমস হতে পারে ডিসেম্বরে। তাই এই ঈদটাও বিকেএসপিতে থাকছি।’ বাবা–মাকে বুঝিয়ে বিকেএসপিতে একাই ঈদ উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি নিয়েছেন টানা ১০ বারের দ্রুততম মানবী।

বিকেএসপির সাবেক ছাত্রী হওয়ার সুবাদে সব শিক্ষক–কোচ স্নেহের চোখে দেখেন শিরিনকে। ঈদে শিক্ষকদের বাসায় যাওয়ার আমন্ত্রণ এসেছে অনেক। কিন্তু এ সময়ে কারও বাসায় যেতে রাজি নন বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে চুক্তিভিত্তিক চাকরি করা শিরিন, ‘অনেক স্যার–ম্যাডামই দাওয়াত দিয়েছেন। কিন্তু এখন তো কারও বাসাতে যাওয়া ঠিক হবে না। তবু দেখা যাবে অনেকেই খাবার পাঠিয়ে দেবেন।’

বিজ্ঞাপন
অন্য খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন