ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভক্তের সংখ্যা কম নয় ক্রীড়াবিদদের মধ্যে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভক্তের সংখ্যা কম নয় ক্রীড়াবিদদের মধ্যে।ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বেশ উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। একদিকে রিপাবলিকানদের হয়ে লড়ছেন গত চার বছর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কিছুর স্বাদ দেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা ভরসা রেখেছেন জো বাইডেনের ওপর। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলের অপেক্ষায় সবাই—আগামী চার বছর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেবেন কে?

শুধু যুক্তরাষ্ট্র তো নয়, এ নির্বাচনের প্রভাব সারা বিশ্বেই টের পাওয়া যাবে। তাই আগ্রহের কমতি নেই কারও। এ নির্বাচন উপলক্ষে নিরপেক্ষতার ঢাল সরিয়ে সামনে এগিয়ে এসেছেন অনেক ক্রীড়া তারকাই। কেউ সমর্থন দিচ্ছেন বাইডেনকে, কেউ রিপাবলিকান–সমর্থক হিসেবে ভোট চেয়েছেন ট্রাম্পের জন্য।

কিছুদিন ধরে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলন নিয়ে অনেক ক্রীড়া তারকার সঙ্গেই সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে ট্রাম্পের। প্রথমে গুরুত্ব না দেওয়ায় করোনাভাইরাস সঠিকভাবে সামলাতে না পারার দায়ও তাঁর কাঁধে তুলে দিয়েছেন অনেকে। এর মধ্যেও কিছু ক্রীড়াবিদের সমর্থন পাচ্ছেন ট্রাম্প। দেখে নেওয়া যাক এমন উল্লেখযোগ্য কয়েকজন ক্রীড়াবিদকে, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কোনো বদল চাচ্ছেন না। আরও চার বছরের জন্য ট্রাম্পকে সেরা মনে হচ্ছে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য।

বিজ্ঞাপন

কনর ম্যাকগ্রেগর (ইউএফসি ফাইটার)
গত জানুয়ারিতেই এক টুইট করে ট্রাম্পকে সমর্থন জানিয়ে রেখেছেন ম্যাকগ্রেগর। এই আলটিমেট ফাইট চ্যাম্পিয়নের চোখে ট্রাম্প নাকি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা প্রেসিডেন্ট। এমন কথা শুনে আহ্লাদিত না হয়ে উপায় ছিল না ট্রাম্পের। ম্যাকগ্রেগরকে নিজের পছন্দের তালিকায় পাকাপাকিভাবে জায়গা করে দিয়েছেন। ডোনাল্ড কেরোনের বিপক্ষে দারুণ এক জয়ের পর ম্যাকগ্রেগরকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ট্রাম্প।

default-image

মাইক টাইসন (সাবেক বক্সার)
ক্যারিয়ারজুড়েই বিতর্ক তাঁর সঙ্গী ছিল। সর্বকালের সেরা বক্সারদের তালিকায় স্থান করে নেওয়ার সম্ভাবনা ছিল টাইসনের। কিন্তু রিংয়ের বাইরের ঘটনাই তাঁকে পথভ্রষ্ট করেছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এ কারণেই হয়তো তুলনামূলক রঙিন চরিত্রের ট্রাম্পকে পছন্দ টাইসনের। রিপাবলিকান ট্রাম্পের সঙ্গে বেশ অনেক দিনের সম্পর্ক এই বক্সারের। কিছুদিন আগে আবার বক্সিংয়ে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন টাইসন। ট্রাম্প তখন টুইট করেছিলেন, ‘ঘুষি মেরে যাও।’ ২০১৬ সালে ট্রাম্পের জন্য প্রকাশ্যেই ভোট চেয়েছিলেন টাইসন। মাঝে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের ঘটনার পর সম্পর্ক কিছুটা ঠান্ডা হয়ে গেলেও এবারও ট্রাম্পেই বাজি ধরেছিলেন টাইসন।

default-image

ভিন্স ম্যাকম্যাহন (রেসলিং কিংবদন্তি)
রেসলিংয়ের ভক্তদের চোখে হয়তো এখনো সে মুহূর্ত চোখে ভাসে, ট্রাম্পের কাছে রিংয়ের ভেতর মার খাচ্ছেন ম্যাকম্যাহন। আশির দশকের প্রথম দিকে রেসলিং মানেই ট্রাম্প-ম্যাকম্যাহনের এ দ্বৈরথ। রেসলম্যানিয়ায় ম্যাকম্যাহনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বেশ আয়োজন করে চুলও ছেঁটেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু সেসবই অভিনয়ের অংশ। রেসলিংকে জনপ্রিয় ও একটি ব্র্যান্ড বানানোর পেছনে দুজনই অবদান রেখেছেন। আর সে সূত্রে দুজনের মধ্যে দারুণ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের জন্ম। এমনকি নিজের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে ম্যাকম্যাহনকে নিয়োগ দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

default-image

আন্ডারটেকার (রেসলিং কিংবদন্তি)
কিংবদন্তি এ রেসলার বেশ আগ থেকেই ট্রাম্পের ভক্ত। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় অনুদানও দিয়েছেন। সেপ্টেম্বরে প্রথমে এক হাজার ডলার দিয়েছিলেন অনুদান হিসেবে। পরে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার পথ আরেকটু মসৃণ করতে সে অনুদান আরও বাড়িয়েছেন। সেটা সাত হাজার ডলারে উঠে এসেছিল। আন্ডারটেকার যেভাবে নিজেকে জানান দিতেন স্টেজে আসার পথে, ট্রাম্প নিজের এক নির্বাচনী প্রচারণায় সেভাবে হাজির হয়েছিলেন।

জেরিকো (রেসলিং কিংবদন্তি)
আন্ডারটেকারের মতোই আরেক রেসলারের সমর্থন পেয়েছেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের টুইটে নিয়মিত নিজের সমর্থন জানাচ্ছেন জেরিকো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমান প্রেসিডেন্টের জন্য কথার লড়াইয়েও জড়ান। শুধু এতেই থামেননি। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় তিন হাজার ডলারও দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0