কাগজে–কলমে এখনো স্কোয়াশ র‌্যাকেটস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হামিদ। কিন্তু তাঁকে পাশে বসিয়েই গতকাল গণমাধ্যমের সামনে নিজেকে সাধারণ সম্পাদক বলে দাবি করলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জি এম কামরুল ইসলাম। এমনিতে দেশে স্কোয়াশের কার্যক্রম খুব একটা দেখা না গেলেও বিশ্ব স্কোয়াশ দিবস উপলক্ষে কাল হকি ফেডারেশনের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে স্কোয়াশ ফেডারেশন। ‘শুরু হোক স্বপ্নের নবযাত্রা’ স্লোগান সামনে রেখে কামরুল ইসলাম স্কোয়াশের আগামী দিনের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

default-image

কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে স্কোয়াশ নিয়ে কামরুল ইসলামের এসব কর্মপরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত ঢাকা পড়ে যায়। বেশির ভাগ সময়জুড়ে হয় একটাই আলোচনা—তিনি আদৌ সাধারণ সম্পাদক কি না? প্রশ্নটার উত্তর সরাসরি দেননি কামরুল ইসলাম। একপর্যায়ে বলেন, ‘আমরা এই বিতর্কে যেতে চাই না। এ বিষয়ে সভাপতির একটা চিঠি এনএসসিতে আমরা পাঠিয়েছি। এখন আমি ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করছি। ভুলত্রুটি যদি হয়েও থাকে, আমরা এটাকে ইতিবাচকভাবে দেখতে চাই। এর চেয়ে বেশি উত্তর আমি দিতেও পারছি না।’

বিজ্ঞাপন

মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামের ২৬৫ নম্বর কক্ষটি ব্যবহৃত হয় স্কোয়াশ ফেডারেশনের কার্যালয় হিসেবে, যেটি বছরের বেশির ভাগ দিনই থাকে তালাবদ্ধ। তবে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ফেডারেশনের কার্যালয় খুলতে শুরু করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জি এম কামরুল ইসলাম। গলফ ফেডারেশনের সাবেক এই সাধারণ সম্পাদককে স্কোয়াশের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠিয়েছেন ফেডারেশনের সভাপতি কর্নেল (অব.) ফারুক খান। অথচ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ঘোষিত ৩৪ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে নামই নেই তাঁর! এনএসসিও এখনো সেই চিঠির জবাব দেয়নি বলেই জানা গেছে।

২০১৫ সালের ২৭ মে ঘোষিত প্রজ্ঞাপন অনুসারে আহ্বায়ক কমিটির ১৩ নম্বর সদস্য তখনকার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদারের সহকারী ব্যক্তিগত সচিব কামরুল ইসলাম, যাঁর পুরো নাম কামরুল ইসলাম চৌধুরী। ফারুক খানের সভাপতিত্বে ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত এখন পর্যন্ত কমিটির একমাত্র আনুষ্ঠানিক সভায় তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং সভার কার্যবিবরণীতে তাঁর নাম কামরুল ইসলাম চৌধুরীই উল্লেখ আছে।

default-image

বর্তমানে কামরুল ইসলাম চৌধুরী ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের স্যারের (বীরেন শিকদার) সঙ্গে কাজ করতাম, সেই সুবাদেই আমাকে কমিটিতে ঢোকানো হয়। আমি এখনো এ ফেডারেশনের সদস্য।’ গত পাঁচ বছরে সরকার যেহেতু আর কোনো নতুন কমিটির প্রজ্ঞাপন দেয়নি বা কমিটিতে নতুন কাউকে অন্তর্ভুক্তও করা হয়নি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জি এম কামরুল ইসলামের তাই কমিটিতে আসার সুযোগ নেই

এনএসসি গঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশন চাইলেই নতুন কাউকে নিতে পারে কি না, এমন প্রশ্নে এনএসসির সচিব মাসুদ করিম ‘না’-বোধক উত্তরই দিয়েছেন, ‘এনএসসি কমিটি গঠন করে দেওয়ার পর সভাপতির কাউকে নতুন করে কমিটিতে নেওয়ার এখতিয়ার নেই।’

বিজ্ঞাপন
default-image

অথচ কাল সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর হামিদও বারবার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) কামরুল ইসলামকেই বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তাঁকে (কামরুল ইসলাম) সাধারণ সম্পাদক বানিয়ে একটি কমিটি এনএসসিতে জমা দিয়েছি।’

এসব বিষয়ে জানতে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে কয়েক দিন আগে ফেডারেশনের সভাপতি ফারুক খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘স্কোয়াশ ফেডারেশন প্রসঙ্গে কোনো কথাবার্তা থাকলে সেটা সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বলেন, আমি কিছু বলতে চাই না।’

মন্তব্য পড়ুন 0