default-image

গাড়ির স্টিয়ারিং হাতে গতির ঝড় তোলার স্বপ্নটা দেখতেন ছোট থেকেই। তৌহিদ আনোয়ারের কাছে সব সময়ই এটি রোমাঞ্চকর এক জিনিস। সেটি থেকেই মোটর রেসের জগতে পা রাখা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবশ্য ‘অভীক আনোয়ার’ নামেই তিনি বেশি পরিচিত। দুই বছর আগে মালয়েশিয়ার ফর্মুলা ওয়ান ট্র্যাক সেপাং আন্তর্জাতিক সার্কিটে জিতেছিলেন ব্রোঞ্জ। বাংলাদেশের প্রথম রেসার হিসেবে আন্তর্জাতিক পদকমঞ্চে উঠেছিলেন মুন্সিগঞ্জের এই যুবক। শুধু তাই নয়, ভারতের মাটিতেও সফল হয়েছিলেন এই রেসার। এবার আরেক কীর্তি গড়েছেন অভীক। গতকাল দুবাইয়ে জিতেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রো চ্যাম্পিয়নশিপ রেস ওয়ান ট্রফি। আর এই জয়টা তিনি উৎসর্গ করেছেন বন্ধু জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালকে।

ফেসবুক পেজে অভীক আনোয়ার লিখেছেন তামিমকে নিয়ে গল্পটা, ‘আসুন আজ আপনাদের একটা গল্প বলি। আমি একজন অসাধারণ ক্রিকেটারের বন্ধু। ওর নাম তামিম ইকবাল। ২০১৭ সালে একদিন তামিম ডেকে বলেছিল, “এত রেস করে লাভ কী ভাই, জেতেন না তো!” ২০১৯ সালে আমি প্রথম রেস জেতার পর তাকে ফোন করেছিলাম। সে খুবই গর্বিত হয়েছিল আমার জেতার খবর শুনে। কিন্তু সেদিন তাকে আমি জয়টা উৎসর্গ করতে পারিনি। তাই আজ আমি তাকেই আমার জয়টা উৎসর্গ করলাম।’

বিজ্ঞাপন

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর কাল দুবাই থেকে মুঠোফোনে উচ্ছ্বাসে ভাসছিলেন অভীক, ‘রেস শেষ করেই আমি “জয় বাংলা” আর “বাংলাদেশ” বলে চিৎকার দিয়েছি। অনেকে আমার এমন উল্লাস দেখে অবাক হয়েছে। কেউ কেউ এসে জিজ্ঞাসা করছিল, বাংলাদেশে আবার কেউ রেস খেলে নাকি?’ অভীকের এবারের লক্ষ্য বিশ্ব জয় করা, ‘আমি আবারও বাংলাদেশের হয়ে জিতলাম। আমিই একমাত্র বাংলাদেশি, যে আন্তর্জাতিক মোটর স্পোর্টসে প্রথম চ্যাম্পিয়ন ট্রফি জিতেছি। আমার সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযান শেষ। এবার বিশ্ব জয়ের পালা।’

অভীকের বাবা আনোয়ার হোসেনের রয়েছে গাড়ির ব্যবসা। ছোটবেলা থেকেই নানা ব্র্যান্ডের গাড়ি দেখে বড় হয়েছেন অভীক। প্রায়ই বাবার শোরুমে যেতেন। সুযোগ পেলেই বড় বড় গাড়ি ছুঁয়ে দেখতেন। তখনই শখ জাগে গাড়ি চালানোর। ছোটবেলা টেলিভিশনে ফর্মুলা ওয়ান রেসিং দেখতেন। মাইকেল শুমাখার, মিকা হাকিনেনদের মতো গাড়ি নিয়ে ছুটতে চাইতেন। কিন্তু নিজের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে ছোটা কঠিনই ছিল তাঁর জন্য। বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশে কোনো রেসিং ট্র্যাক নেই। অনুশীলনের জন্য তাই বিদেশই ভরসা অভীকের। কখনো প্লে স্টেশনের গেম আর সিমুলেটরের ওপর ভরসা করতেন। কখনো চলে যেতেন ভারতে। উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডা গিয়েছিলেন একবার। সেখানেই একসময় নিয়মিত ট্র্যাকে অনুশীলন করতেন।

default-image

বাবার ব্যবসা এখন তাঁর নিজের ব্যবসাও। তবে ব্যবসা সামলে রেসের প্রতিযোগিতায় অংশ নেন নিয়মিত। কিন্তু সেভাবে এত দিন সাফল্য ধরা দিচ্ছিল না। তবে এবার দুবাইয়ে জেতার পর আত্মবিশ্বাস বেড়েছে অভীকের, ‘আসলে ব্যবসা সামলে এই খেলায় অংশ নেওয়া খুব কঠিন একটা কাজ। প্রতিদিন আমাকে হাজার হাজার গাড়ির ব্যাপারে কথা বলতে হয়। ব্যাংকিং, এলসি (লেটার অব ক্রেডিট), পারচেজ দেখতে হয়। তবুও এভাবেই খেলে যাচ্ছি। এই জয়টা আমাকে ভবিষ্যতে আরও ভালো খেলতে উজ্জীবিত করবে।’

দেশের অপ্রচলিত খেলা ফর্মুলা রেসিং এগিয়ে যাক বিশ্বের দরবারে, ‘যেভাবে ইদানীং নেশায় জড়িয়ে পড়েছে আমাদের যুব সমাজ, এদের খেলার জগতে আনতে হবে। আমি জানি গাড়ির প্রতি কতটা মায়া এ দেশের শিল্পপতির ছেলেদের। এদের অনেকে বাজে নেশায় জড়িয়ে পড়ে। ওরা যদি ফর্মুলা রেসে একবার আসে, তাহলে গাড়ির প্রতি খরচ করবে। ড্রাগসের দিকে ঝুঁকবে না। তা ছাড়া রেস করলে রাস্তায় জোরে গাড়ি চালানোর ঝোঁকটাও কমে আসবে। একদিন হয়তো আমাদের মতো কেউ ফর্মুলা ওয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ওড়াবে লাল–সবুজের পতাকা।’

বিজ্ঞাপন
অন্য খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন