টোকিওর গভর্নর ইয়ুরিকো কোইকে
টোকিওর গভর্নর ইয়ুরিকো কোইকেছবি: এএফপি

টোকিও অলিম্পিক আয়োজন নিয়ে দোলাচলের মধ্যেই করোনাভাইরাস সংক্রমণ জাপানের পিছে লেগে আছে। সরকার নানা রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ও জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নানা উপদেশ দিয়ে যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার দৈনিক গণনায় লাগাম ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। অলিম্পিক আয়োজনের আর তিন মাসও বাকি নেই, এ অবস্থায় টোকিওতে আজ ১ হাজার ২৭ জনের নতুন করে সংক্রমিত হওয়ার খবর দিয়েছে টোকিও মেট্রোপলিটন সরকার। ২৮ জানুয়ারির পর এটা শহরটির সর্বোচ্চ সংক্রমণ।

জাপান সরকার এবং অলিম্পিক আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার ওপর এটা নিশ্চিতভাবেই নতুন চাপ সৃষ্টি করবে। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) পাশাপাশি জাপান সরকার এবং জাপানের অলিম্পিক আয়োজক কমিটিও বলে আসছে অলিম্পিকের আয়োজন আর পিছিয়ে দেওয়া হবে না।

বিজ্ঞাপন
default-image

এক দিন আগে জাপানের রাজধানীতে ৯২৫টি সংক্রমণের খবর এসেছিল। আর আজ সেটা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। টোকিওতে এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৭৮টি সংক্রমণ শনাক্তের খবর পাওয়া গেছে, যা জাপানের ৪৭টি জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি। গতকাল পর্যন্ত রাজধানীতে ১ হাজার ৮৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। টোকিওর বিভিন্ন হাসপাতালে গতকাল ১ হাজার ৯৩১ জন কোভিড রোগী ছিলেন, যাঁদের ৫৩ জনের উপসর্গ ছিল মারাত্মক ধরনের।

এদিকে টোকিও অলিম্পিকের আয়োজকেরা দর্শকবিহীন প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেছেন। ২০২০ টোকিও অলিম্পিক আয়োজক কমিটির প্রধান সেইকো হাশিমোতো গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, শেষ পর্যন্ত যদি গ্যালারিতে দর্শকদের উপস্থিতি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের কাজকে বাধাগ্রস্ত করার পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, সে অবস্থায় দর্শকবিহীন অলিম্পিক আয়োজন হচ্ছে সম্ভাব্য বাস্তবতা।

অলিম্পিকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি পক্ষের মধ্যে অনলাইনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের শেষে হাশিমোতো এই মন্তব্য করেন। টোকিও অলিম্পিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত জাপানি মন্ত্রী তামাইয়ো মারুকাওয়া, টোকিওর গভর্নর ইয়ুরিকো কোইকে, আইওসির সভাপতি টমাস বাখ এবং আন্তর্জাতিক প্যারালিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট এন্ড্রু পার্সনস এই বৈঠকে ছিলেন। অলিম্পিকের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও অনুষ্ঠানে জাপানের দর্শকদের যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত তাঁরা অবশ্য এখনো নিতে পারেননি। তবে জুনের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন তাঁরা।

default-image

টোকিওর কিছু কর্মকর্তা অলিম্পিক বাতিল করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তাঁদের একটা বড় অংশ করোনাভাইরাস মহামারি সামাল দেওয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত। তাঁরা বলছেন, স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের অলিম্পিক–সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনের জন্য সরিয়ে নেওয়া হলে দেশের অন্যত্র স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা প্রদান কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গভর্নর কোইকে অবশ্য অলিম্পিক অনুষ্ঠানের পক্ষে নিজের অবস্থান ধরে রাখছেন। তবে করোনা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির বিষয়টি তাঁকে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে বাধ্য করছে।

এদিকে দর্শকবিহীন অলিম্পিক হলে আয়োজকদের কী পরিমাণ ক্ষতি হবে, তার একটি সম্ভাব্য হিসাব দিয়েছে জাপানের সংবাদমাধ্যম। বলা হয়েছে, টিকেট বিক্রির আয় প্রায় ৯ হাজার কোটি ইয়েন কমে যাওয়টা বিশাল এক ক্ষতি। আইওসির সঙ্গে ইতিপূর্বে স্বাক্ষরিত চুক্তির একটি ধারায় বলা আছে, আর্থিক ঘাটতি জাপানের কেন্দ্রীয় সরকার এবং টোকিও মেট্রোপলিটন সরকার পূরণ করে দেবে। তবে অলিম্পিক আয়োজনের জন্য মোট যে ১ হাজার ৬৪৪ লাখ কোটি ইয়েন খরচ ইতিমধ্যে গুনতে হয়েছে, তার প্রায় ৫৭ শতাংশ এসেছে জাপানের করদাতাদের তহবিল থেকে।

অতিরিক্ত খরচের বোঝা কতটা সরকারের পক্ষে বহন করা সম্ভব, সেই প্রশ্ন এখন আরও বেশি করে উত্থাপিত হচ্ছে। এসব কারণেই জনগণের বড় এক অংশ ক্রমেই অলিম্পিকের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠছেন এবং চাইছেন সরকার যেন অলিম্পিক বাতিল করে দেয়। ফলে অলিম্পিক জাপানের জন্য এখন ক্রমেই যেন অনেকটা শাঁখের করাত হয়ে উঠছে।

বিজ্ঞাপন
অন্য খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন