বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

২০০৯ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে যা করেছিলেন, তা লোকগাথায় লেখা থাকবে। ২০০৮ অলিম্পিকেই এ দুটির বিশ্ব রেকর্ড বুঝে নিয়েছিলেন বোল্ট। কিন্তু তখনো রেকর্ড দুটি অন্যদের হাতের নাগালে ছিল। ১০০ মিটারে বোল্টের সে সময়কার রেকর্ড ভাঙার (৯.৬৯ সেকেন্ড) হুংকার ছুড়েছিলেন টাইসন গে। সেকেন্ডের ২ শতাংশের জন্য সেটা ছুঁতে পারেননি। কিন্তু সেদিন সে রেকর্ড ভাঙলেও লাভ হতো না। ওদিকে যে বোল্ট দৌড় শেষ করেছিলেন ৯.৫৮ সেকেন্ডে! এক ধাক্কায় রেকর্ড থেকে ০.১১ সেকেন্ড কমিয়ে ফেলেছিলেন বোল্ট।

চমকটা তখনো বাকি ছিল। ২০০ মিটারেও নিজের রেকর্ড থেকে ০.১১ সেকেন্ড ছেঁটে ফেলেছেন। দ্বিতীয় হওয়া আলোনসো এডওয়ার্ড বহু চেষ্টা করেও ৯.৮১ সেকেন্ডের আগে দৌড় শেষ করতে পারেননি। ইতিহাসে এত বড় ব্যবধানে আর কেউ কখনো কোনো রেস জেতেননি। রেস ট্র্যাকে এমন কীর্তির জন্ম দেওয়া বোল্টের মুখে এমন কথা শুনে দুটি কারণ মাথায় আসতে পারে। প্রথমত, সম্ভবত বিনয় দেখাচ্ছেন বোল্ট। দ্বিতীয়ত, বয়সটা একটু বেড়ে গেছে বলেই হয়তো এমনটা বলছেন। কিন্তু ২০১৭ সালে ট্র্যাককে বিদায় বলে দেওয়া বোল্টের বয়স ৩৪। রোনালদোর চেয়েও এক বছর কম। তাই অন্তত বয়স যে কারণ হচ্ছে না, সেটা নিশ্চিত। আর অযথা বিনয়ও যে করছেন না, সেটা স্প্যানিশ পত্রিকা মার্কার সঙ্গে তাঁর কথোপকথনেই টের পাওয়া গেছে, ‘সন্দেহ নেই, ক্রিস্টিয়ানো এখন আমার চেয়ে দ্রুত। এখনো প্রতিদিন পরিশ্রম করেন, সুপার অ্যাথলেট। সব সময় সেরা ফর্মে থাকে। কঠোর পরিশ্রম করে এবং নিজের কাজে মনোযোগী। এখন যদি তুলনা টানতেই হয়, আমার চেয়ে অবশ্যই দ্রুত তিনি।’

default-image

পরিশ্রমের ব্যাপারটা রোনালদোর ক্যারিয়ারের সঙ্গে জুড়েই আছে। সব সময় নিজেকে আরেকটু ভালো করার চেষ্টা করছেন রোনালদো। কিন্তু অ্যাথলেটিকসে এমন কেউ নেই বলেই আপাতত নিজের রেকর্ড নিয়ে নিরাপদ বোধ করছেন বোল্ট, ‘আমার মনে হয় না কেউ আমার রেকর্ড ধরতে পারবে। আমার মনে হয় না, আমার রেকর্ড ভাঙার মতো এখনো কেউ এসেছে। এই রেকর্ড গড়তে আমাকে যে উচ্চতায় উঠতে হয়েছে, সেটা অনেক লম্বা ও কঠিন পথ। আর আমার শারীরিক দিকটাও প্রভাব ফেলেছে। আমি যে অনেক লম্বা, সেটা আমাকে সাহায্য করেছে এবং আমার ধারণা কারও সে মানে পৌঁছাতে অনেক সময় লাগবে।’

এমন নয় যে নিজের রেকর্ডকেই ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে মানুষের চূড়ান্ত অর্জন ধরে নিচ্ছেন বোল্ট। বরং পরিশ্রম করলে আর বিশ্বাস রাখলেই নাকি সেটা সম্ভব বলে জানিয়েছেন এই স্প্রিন্টার, ‘আপনার চিন্তাভাবনাই আপনার সীমা। এবং আপনি কী পরিমাণ পরিশ্রম করছেন সেটা। মানুষ কিন্তু প্রতিদিন নতুন কিছু বের করছে, কীভাবে অনুশীলন করলে আরও ভালো দৌড়ানো যায়, সেটা দেখছে। তাই কী করলে কী হবে, সেটা বের করা সময়ের ব্যাপারমাত্র। তাই সীমা আপনিই ঠিক করছেন (পারবেন কি না)।’

default-image

বোল্ট কিন্তু ট্র্যাক ছেড়ে রোনালদোর খেলাতেও একটা চেষ্টা করেছিলেন। ২০১৭ সালে স্প্রিন্টের বুট তুলে পায়ে পরেছিলেন ফুটবলের বুট। কিন্তু বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের সঙ্গে অনুশীলনের পরও ইউরোপের কোনো দলের মন গলাতে পারেননি। সেখান থেকে অস্ট্রেলিয়ার এ লিগের দল সেন্ট্রাল কোস্ট ম্যারিনার্সের দলে কিছুদিন খেলেছেন। কিন্তু পারফরম্যান্সের অবস্থা দেখে পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার আর এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেননি। রোনালদোও কি একবার ট্র্যাকে নেমে নামের পাশে স্প্রিন্টার পরিচয়টা বসিয়ে দেখবেন?

অন্য খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন