বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে নতুন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংম নিতে আসা দলগুলো।
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে নতুন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংম নিতে আসা দলগুলো। ছবি: প্রথম আলো

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে এই দৃশ্য আগে কখনো দেখা যায়নি। রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের কয়েক হাজার তরুণ নানা রঙের ট্র্যাকস্যুট পরে স্টেডিয়ামে মার্চপাস্ট করছেন। গ্যালারির একপাশে বাজছে ঢোল-বাদ্য। সবারই আগ্রহের কেন্দ্রে নতুন এক ক্রীড়া উৎসব, যার পোশাকি নাম ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আন্তওয়ার্ড ক্রীড়া প্রতিযোগিতা–২০২১। আপাতত প্রথম বছর হচ্ছে ক্রিকেট ও ফুটবল।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আজ উদ্বোধন করা হলো ফুটবল প্রতিযোগিতার। এরপর উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় ৫৮ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড। ৭৫টি ওয়ার্ড অংশ নিচ্ছে বিশাল এই ক্রীড়া উৎসবে। ৬৩টি দল ফুটবল ও ৬৪টি দল ক্রিকেটে অংশ নেওয়ার কথা।

বিজ্ঞাপন
default-image

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে উদ্বোধনের পর ফুটবল হবে বিভিন্ন ওয়ার্ডের মাঠে। একইভাবে ক্রিকেটও হবে বিভিন্ন ওয়ার্ডে। টুর্নামেন্ট উপলক্ষে কদিন আগে মেয়র ভবনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস জানিয়েছিলেন, ঢাকায় দক্ষিণ সিটির অধীনে থাকা মাঠগুলোয় কোনো হাটবাজার আর বসতে দেওয়া হবে না। খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতেই এই উদ্যোগ বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে মেয়র বলেন, প্রতিবছর এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে সিটি করপোরেশন।

মোট ১৩টি মাঠে খেলা হবে ফুটবল ও ক্রিকেট। মাঠগুলো হচ্ছে আউটার স্টেডিয়াম, ধুপখোলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জিমনেশিয়াম, ব্রাদার্স, বাসাবো আলাউদ্দিন, ডেমরায় করিম জুট মিল, মতিঝিল সরকারি বালক বিদ্যালয়, কলাবাগান ক্রীড়া চক্র, সরকারি ল্যাবরেটরি স্কুল, মাতুয়াইল, ফজলে রাব্বি হল ও বাসাবো বালুর মাঠে ফুটবল ও ক্রিকেট দুটো বিভাগের খেলা হওয়ার কথা।

default-image

নিয়ম অনুযায়ী ওয়ার্ডের বাসিন্দা হলেই খেলতে পারবেন যে কেউ। সেই সুযোগে অনেক চেনাজানা মুখও খেলছেন। যেমন প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলা হাসিবুল হোসেন বাঁধন এই ক্রীড়া উৎসবে ক্রিকেটে খেলছেন। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে তিনি প্রথম আলোকে জানান, অনেক পরিচিত মুখ সিটি করপোরশনের টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন, যার মধ্যে বড় নাম মোহাম্মদ আশরাফুল। হাসিবুল বলেন, ‌‘২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ক্রিকেটে মোহাম্মদ আশরাফুল ভাইয়ের খেলার কথা।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন সিটি করপোরশনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে গেলেন, ‘দেশে ফুটবল জাগরণে নিশ্চিতভাবেই এই আয়োজন বড় ভূমিকা রাখবে।’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসানও খেলাধুলার উন্নয়নে এমন টুর্নামেন্ট ভূমিকা রাখবে মনে করেন। তাঁরা সবাই মনে করেন, এমন প্রতিযোগিতা থেকে আগামী দিনের ফুটবলার, ক্রিকেটার বেরিয়ে আসবেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

বিশাল এই ক্রীড়া উৎসবের উদ্বোধন করে মেয়র ফজলে নূর তাপস তাকালেন সামনে। আগামী দিনে এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আরও আকর্ষণীয় করার কথা জানান তিনি। শুধু ফুটবল, ক্রিকেট নয়, আগামী বছর ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, কাবাডিসহ মোট পাঁচটি খেলা হবে বলেও জানিয়েছেন মেয়র। তাঁর ঘোষণায় করতালি পড়ে বিপুল। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে তখন জনারণ্য। অনেক দল এসেছে জাতীয় পতাকা নিয়ে। কেউ নানা সাজে সজ্জিত। এ এক অন্য রকম ক্রীড়া উৎসব।

অন্য খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন