অলিম্পিকে সাঁতরাবেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী জুনায়না।
অলিম্পিকে সাঁতরাবেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী জুনায়না।ছবি: প্রথম আলো

জুনায়না আহমেদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা লন্ডনে। কিন্তু শিকড়ের টানে বারবার ছুটে আসেন বাংলাদেশে। ঘরোয়া সাঁতারের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের হয়ে অংশ নেন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়। এর আগে দক্ষিণ এশিয়ান গেমস ও বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়েছেন। এবার সুযোগ পেয়েছেন টোকিও অলিম্পিকে সাঁতরানোর। তবে সরাসরি নয়, ওয়াইল্ড কার্ডের মাধ্যমে আগামী অলিম্পিকে অংশ নেবেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এই তরুণী। এর আগে অলিম্পিকে বাংলাদেশের হয়ে অংশ নিয়েছিলেন আরেক প্রবাসী। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকের জিমন্যাস্টিকসে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাইক সিজার।

জুনায়নার বাবা জুবায়ের আহমেদ ২০০১ সালে সুনামগঞ্জ থেকে পাড়ি জমান লন্ডনে। সেখানেই বিয়ে করেন আরেক প্রবাসী বাঙালি রুজিনা আহমেদকে। এই দম্পতির কন্যা জুনায়না প্রথমবার ২০১৭ সালে জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতারে অংশ নিয়ে আলো কাড়েন সবার। সে বছর ৮টি ইভেন্টে জাতীয় রেকর্ডসহ ১০টিতে সোনা জিতে হয়েছিলেন সেরা সাঁতারু। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।

২০১৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়েছিলেন জুনায়না। সেখানে ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইলে ফিনার দেওয়া অলিম্পিকের সেট টাইমিংয়ে সাঁতার শেষ করেন। যে কারণে ফিনার সুপারিশে ওয়াইল্ড কার্ড মিলেছে জুনায়নার। কোরিয়াতে জুনায়না এই ইভেন্টে সময় নেন ৩০.৯৬ সেকেন্ড।

default-image
বিজ্ঞাপন

অলিম্পিকের সুযোগ পাওয়ায় ভীষণ রোমাঞ্চিত জুনায়না। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অনুশীলন করছেন। লন্ডন থেকে মুঠোফোনে বলছিলেন, ‘আমার স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। আমি খুবই রোমাঞ্চিত। লন্ডনে এখন লকডাউন নেই। গত সপ্তাহ থেকে অলিম্পিকের প্রস্তুতির জন্য অনুশীলন শুরু করেছি। আমি বাংলাদেশের হয়ে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে চাই।’

মেয়েদের মধ্যে জুনায়নাকে ওয়াইল্ড কার্ড দিয়েছে ফিনা। তবে ছেলেদের মধ্যে জুয়েল আহমেদ ও আরিফুল ইসলামের মধ্যে যেকোনো একজনকে ওয়াইল্ড কার্ডের জন্য বেছে নিতে বলেছে বিশ্ব সাঁতারের সর্বোচ্চ সংস্থা। এই দুজনই জুনায়নার সঙ্গে কোরিয়ায় বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়েছিলেন।

সাঁতার ফেডারেশনে সাধারণ সম্পাদক মোল্লা বদরুল সাইফ বলেন, ‘আমরা ফিনার কাছ থেকে এ–সংক্রান্ত একটা চিঠি পেয়েছি। জুনায়নাকে ফিনা ওয়াইল্ড কার্ড দিয়েছে। ছেলেদের মধ্যে আরিফুলের টোকিও অলিম্পিকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ, আরিফুলের ইভেন্ট ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইল, জুয়েল এই ইভেন্টে অংশ নেয় না।’

জুনায়নার মতো বিদেশে অনুশীলন করছেন আরিফুল ইসলাম। নৌবাহিনীর এই সাঁতারু বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের বৃত্তি নিয়ে বর্তমানে ফ্রান্সে আছেন।

বাংলাদেশ থেকে সরাসরি টোকিও অলিম্পিকে খেলার সুযোগ পাওয়া একমাত্র খেলোয়াড় রোমান সানা। ২০১৯ সালের জুনে হল্যান্ডে বিশ্ব আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে উঠে সরাসরি অলিম্পিকে খেলার সুযোগ পান দেশসেরা এই তিরন্দাজ। যদিও করোনা পরিস্থিতি বাড়িয়ে দিয়েছে রোমানের অলিম্পিকে দেশের হয়ে মাঠে নামার অপেক্ষাটা।

অন্য খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন