বিশ্বকাপে বন্ধুর বিপক্ষে লড়বেন গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়া

গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান।ফাইল ছবি

এর আগেও চারবার বিশ্বকাপ দাবায় খেলতে গেছেন গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান। কিন্তু যাওয়ার আগে কখনো এতটা মানসিক চাপে পড়তে হয়নি তাঁকে। ১০ জুলাই রাশিয়ার সোচিতে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ দাবা। বিশ্বকাপে খেলতে আগামীকাল ভোরে রাশিয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হচ্ছেন জিয়া। বাংলাদেশ থেকে জিয়ার সঙ্গী হবেন আরেক গ্র্যান্ডামাস্টার নিয়াজ মোরশেদ।

ঢাকা থেকে সেন্ট পিটার্সবার্গ হয়ে ১০ জুলাই আরেকটি বিমানে সোচিতে পৌঁছাবেন দুই গ্র্যান্ডমাস্টার। ১২ জুলাই প্রথম রাউন্ডে জিয়া মুখোমুখি হবেন ইরানি বন্ধু গ্র্যান্ডমাস্টার পুয়া ইদানির বিপক্ষে। আর নিয়াজ মোরশেদের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ের নিউরিস দেলগাদো রামিরেজ।

পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলছেন জিয়া (ডানে), তবে বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য রাজীবের (বায়ে)।
ফাইল ছবি

চলমান লকডাউনের মধ্যে ভিসা অফিস, করোনা পরীক্ষা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাগজপত্রের পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতেই সময় কেটেছে গত কয়েক দিন। খেলা নিয়ে তাই খুব বেশি ভাবতেও পারেননি। বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে জিয়ার কণ্ঠে শোনা গেল হতাশার সুর, ‘চলমান লকডাউনে ভিসা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলাম। যখন–তখন ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কাও মনের ভেতরে কাজ করছিল। তা ছাড়া এখনো করোনার টিকা নেওয়া হয়নি। কীভাবে রাশিয়ায় যাব, সেটা নিয়ে একটা দুশ্চিন্তা ছিল। তবে ফেডারেশন অনেক সহযোগিতা করেছে আমাদের। আসলে ভীষণ মানসিক চাপের মধ্যে ছিলাম গত কয়েক দিন। এমন অনিশ্চয়তা জীবনে আর কখনো মনে হয়নি। শেষ পর্যন্ত যেতে পারছি, এতেই স্বস্তি।’

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ চারবার বিশ্বকাপে খেলেছেন জিয়া। এর আগে খেলেছেন ২০০৭, ২০১১, ২০১৩ ও ২০১৫ সালে। এবার শুরুতেই খেলবেন ইরানি বন্ধু ইদানির বিপক্ষে। দুজন যদিও এর আগে দাবার বোর্ডে কখনো মুখোমুখি হননি। দেশের বাইরে কোথাও খেলতে গেলে একই হোটেলে থাকেন দুজন। অবসরে দুজন একই সঙ্গে টেবিল টেনিস খেলেন। দাবার বাইরেও আড্ডা হয় প্রচুর। জিয়ার ছেলে তাহসিন তাজওয়ারের সঙ্গেও ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেছে ইদানির।

বন্ধুর বিপক্ষে খেলাটা কতটা উপভোগ করবেন? হাসিমাখা কণ্ঠে জিয়া বলছিলেন , ‘ইদানির সঙ্গে খেলাটা উপভোগই করব। আসলে ওর সঙ্গে আমার অনেক দিনের বন্ধুত্ব। কোনো টুর্নামেন্টে দুজন একই সঙ্গে এন্ট্রি করলেও কখনো মুখোমুখি বোর্ডে দেখা হয়নি। তবে দাবা বোর্ডের বাইরে অবসর সময়ে প্রচুর টিটি খেলি, আড্ডা দিই। গত প্রিমিয়ার লিগেও ওকে খেলাতে চেয়েছিলাম ঢাকায় এনে। কিন্তু করোনার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি।’

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্য দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়া। তবে সেই সাফল্য জিয়ার নেই। ২০০৭ সালে একবারই দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলেছেন গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীব।

জিয়া মুখোমুখি হবেন ইরানি বন্ধু গ্র্যান্ডমাস্টার পুয়া ইদানির বিপক্ষে।
ফাইল ছবি

যদিও এবার দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন জিয়া, ‘অন্যবারের চেয়ে এবার তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পেয়েছি প্রথম রাউন্ডে। আর যেহেতু আমরা দুজন বন্ধু, মানসিকভাবেও নির্ভার থেকে খেলা শুরু করতে পারব। দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব আমি।’

বাংলাদেশ থেকে তাহলে কি শুধু বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্যই খেলতে যাওয়া? জিয়া অবশ্য তা মানতে চান না, ‘আমরা ইউরোপের দাবাড়ুদের চেয়ে রেটিংয়ে পিছিয়ে থাকি, এ জন্যই শাস্তি হিসেবে বিশ্বকাপের ড্রয়ে কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলতে হয়। এ সমস্যার সমাধানের জন্য আমাদের বেশি বেশি টুর্নামেন্ট খেলতে হবে। রেটিং বাড়াতে হবে। এ জন্য নিয়মিত ইউরোপে খেলার কোনো বিকল্প নেই। ফেডারেশন আমাদের খেলার ব্যবস্থা করলে আমরাও বিশ্বকাপে সাফল্য পাব।’

এর আগে একা বিশ্বকাপে গেলেও এবার সঙ্গী হিসেবে পাচ্ছেন অভিজ্ঞ নিয়াজ মোরশেদকে। রাশিয়া বিশ্বকাপে এটাকে বাড়তি সুবিধা হিসেবেই দেখছেন জিয়া, ‘অন্য সময় আমি কথা বলারও লোক পেতাম না বিদেশে। এবার অন্তত গেম বিশ্লেষণের জন্য নিয়াজ ভাইকে পাচ্ছি। এটা আমার জন্য একটা সুবিধাই হবে।’