default-image

অ্যাথলেটিকস ছেড়ে কুস্তিতে এসেই সমানে সাফল্য পাচ্ছেন তিথি রায়। ৮ বছরের ক্যারিয়ারে শটপুট খেলেছেন গত ৫ বছর। কিন্তু কোনো পদক জেতেননি। ২০১৮ সালে প্রথমবার জাতীয় কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাটে নেমে জেতেন ব্রোঞ্জ।

পরের বছর জাতীয় কুস্তিতে সোনা। একই সঙ্গে সেরা খেলোয়াড়েও পুরস্কার পেয়েছিলেন সেবার। ২০১৯ কাঠমান্ডু এসএ গেমসে প্রথম অংশ নিয়েই জেতেন ব্রোঞ্জ।

করোনায় বিরতির পর আজই প্রথম নেমেছিলেন কুস্তির ম্যাটে। পল্টনে শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী স্টেডিয়ামে সার্ভিসেস কুস্তিতে ৭২ কেজি ওজন শ্রেণিতে জিতেছেন সোনার পদক।

তিথির বাবা অরুপ রায় নড়াইলের লোহাগড়া শহরের মুদিদোকানদার। খেলার সুবাদে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি হয়েছে তিথির। খেলাধুলা করে বাবার হাতে টাকা তুলে দিতে পেরে খুশি তিথি, ‘কখনো কখনো মনে হয় আমি বাবার ছেলে। সংসারে আর্থিক সাহায্য করতে পেরে ভীষণ ভালো লাগে।’

নড়াইল থেকে উঠে এসেছেন জাতীয় দলের তিরন্দাজ শ্যামলী রায়, এ কে এম মামুন, ভলিবলের অধিনায়ক হরষিত রায়। তবে সব ছাপিয়ে ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজাই বিশ্বমঞ্চে নড়াইলের বড় বিজ্ঞাপন।

বিজ্ঞাপন

নড়াইল-২ আসনের সাংসদ মাশরাফির নির্বাচনী এলাকাও লোহাগড়া। কিন্তু খেলাধুলার জগতে থেকেও মাশরাফিকে কখনো সামনে থেকে দেখেননি তিথি।

ওয়ানডে দলের সাবেক অধিনায়কের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছাটা তাই চেপে রাখতে পারলেন না তিথি, ‘মাশরাফি ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করার অনেক শখ আমার। সব সময় গর্ব করে বলি আমি নড়াইল জেলার খেলোয়াড়। একবার যদি মাশরাফি ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে পারতাম, খুব খুশি হতাম। দেখা হলে বলতাম, আমি আপনার জেলার মেয়ে।’

অন্য মেয়েদের মতো খেলাধুলায় আসতে খুব একটা লড়াই করতে হয়নি তিথির। এই একটা ব্যাপারে নিজেকে ভাগ্যবতী বলতেই পারেন তিনি, ‘মা–বাবা সব সময় আমাকে সমর্থন করেন। এলাকায় কখনো অনুশীলন করার সময়ও কেউ বিরক্ত করেনি। তবে কুস্তিগির শুনলে অনেকে ভয় পান। তখন বলি, আমাকে দেখে ভয়ের কিছু নেই। আমিও মানুষ।’

default-image

তিথিকে খেলায় আনেন তাঁর পিসি। স্কুলে পিসির হাত ধরেই শুরু হয় ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও লং জাম্প। এরপর খেলতে খেলতে বিজেএমসিতে চাকরি পান। সর্বশেষ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে স্থায়ী চাকরি পেয়েছেন তিথি।

পারফরম্যান্স দিয়ে গত এসএ গেমসের ক্যাম্পে সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত বাছাইয়ে টিকবেন কি না, তা নিয়ে সংশয়ে থাকতেন। ওই সময় সতীর্থদের অনেকে তাঁকে নিরুৎসাহিত করত।

কিন্তু মনের জিদ আজ এ পর্যায়ে এনেছে তিথিকে, ‘এসএ গেমসের ক্যাম্পে থাকার সময় অনেকে বলত, তোকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না। একসময় হতাশ হয়ে পড়তাম। তবে পরক্ষণেই মনের মধ্যে জিদ আনতাম। হাল ছাড়তে চাইতাম না। শেষ পর্যন্ত প্রথমবার জাতীয় দলে খেলার সুযোগ আসে। নেপালে যাই এসএ গেমসে খেলতে।’

জাতীয় দলের লাল-সবুজ পতাকা শোভিত ট্র্যাকস্যুট ও ট্রাউজারের প্রতি ভীষণ লোভ ছিল তিথির। এটা দেখে এক বান্ধবী তাঁকে এক সেট জাতীয় দলের পোশাক দিতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু সেদিন সেই উপহার নেননি তিথি, ‘আমার এক বান্ধবী আমাকে তার জাতীয় দলের পোশাক দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি সেদিন ওই পোশাক পরিনি। আমি বলেছিলাম, নিজের যোগ্যতা দিয়েই এই পোশাক পরতে চাই। শেষ পর্যন্ত আমি ঠিকই জাতীয় দলে ঢুকেছি।’

default-image

অনুশীলনের পাশাপাশি কুস্তিগিরদের পর্যাপ্ত খাবার প্রয়োজন হয়। ভোজনরসিক তিথি বলছিলেন, ‘আমি প্রচুর খেতে ভালোবাসি। ফাস্ট ফুড–জাতীয় খাবার বেশি প্রিয়। তবে মাছে-ভাতে বাঙালি আমি। সামনে যা পাই, সবকিছুই খাই।’

এসএ গেমসে শ্রীলঙ্কার কুস্তিগিরের কাছে হেরে ব্রোঞ্জ পেয়েছিলেন। সেই দুঃখের কথা আজ বলছিলেন তিথি, ‘‌১০ সেকেন্ড বেশি সময় ম্যাটে থাকলেই জিতে যেতাম সেদিন। তবে আগামী এসএ গেমসে সোনা জেতার প্রত্যাশা নিয়েই খেলব।’

আগামী ১-১০ এপ্রিল শুরু হবে বাংলাদেশ গেমস। আপাতত বাংলাদেশ গেমসেই চোখ তিথির, ‘এখন আমার সব মনোযোগ বাংলাদেশ গেমসে। পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আবারও সোনা জিততে চাই।’

বিজ্ঞাপন
অন্য খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন