default-image

এক বছর আগের এই দিনটার কথা অ্যারিস মেরিটের মনে আছে? হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণাকাতর একেকটা মুহূর্ত হয়তো আমেরিকান হার্ডলারের অনন্তকাল মনে হচ্ছিল। তখন কি ভেবেছিলেন বছর খানেকের মধ্যেই ট্র্যাকে আবার ঝড় তুলতে পারবেন?
লেস্টার সিটির রূপকথা নিয়ে পুরো বিশ্বেই এখন চায়ের কাপে ঝড়। মেরিট যা করছেন, সেটা আসলে রূপকথা বললেও কম বলা হবে। বছর তিনেক আগে যখন কিডনিতে সমস্যা দেখা দেয়, ভেবেছিলেন সেটা এমন কিছু নয়। কিন্তু পরে জানা যায়, সমস্যা বেশ জটিল। ক্যারিয়ার দূরে থাক, জীবন সংশয়ই হতে বসেছিল। পরে তো কিডনিই বদলে ফেলতে হয়। আর সেই মেরিট কাল নেমেছেন ডায়মন্ড লিগে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অলিম্পিক দলেও জায়গা পাওয়ার জন্য এখন লড়ছেন।
অ্যাথলেটিকসে যাঁদের আগ্রহ আছে, মেরিটের নামটা শুনে থাকতে পারেন। ১১০ মিটার হার্ডলসে এ মুহূর্তে বিশ্ব রেকর্ড তাঁর, চার বছর আগে লন্ডন অলিম্পিকে সোনাও জিতেছেন। সমস্যাটা শুরু হয় ২০১৩ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে। হিটেই বেশ অসুস্থ বোধ করছিলেন, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফাইনাল শেষ করলেন ছয়ে। বাড়ি ফিরে জানতে পারলেন, কিডনির একটা জটিল রোগ বাসা বেঁধেছে শরীরে। এতে রোগ প্রতিরোধক্ষমতাই অচল হয়ে যেতে পারে একটু একটু করে। শুরু হলো ট্র্যাকের বাইরে নতুন একটা সংগ্রাম।
ওই সময় নিজের অসুস্থতার কথা কাউকেই জানাননি মেরিট। তখন ফিসফাস শুরু হয়ে গিয়েছিল, তাহলে কি ডোপ পরীক্ষায় ফেঁসে গেছেন? মেরিটের সেসব মনে আছে, ‘আমার শুরুতে মনে হয়েছিল আর সবার মতোই আমি তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব। আমি ডোপ নিই, এ রকম একটা গুঞ্জনও উঠেছিল। আর ডোপ নিলে তো আমি অনেক আগেই ধরা পড়তাম।’
তখনই চিকিৎসকেরা জানান, মেরিটের কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। নিজের বোন লাটোয়া দান করেন তাঁর একটি কিডনি। গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর অস্ত্রোপচার করা হয়। কী অবিশ্বাস্য, তিন মাসের মধ্যেই মেরিট ফিরেছেন ট্র্যাকে। গত সপ্তাহে ১৩.৬১ সেকেন্ডে দৌড়েছেন ১১০ মিটার হার্ডলস। কিন্তু তাঁর আসল চ্যালেঞ্জ সামনে। জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ডলস দলের পরীক্ষায় কি মেরিট উতরাতে পারবেন? ৩০ বছর বয়সী আমেরিকান বেশ আশাবাদী, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী, জুলাইয়ের মধ্যে আমি ফিট হয়ে যেতে পারব। জুলাইয়ে আমি সব সময়ই ভালো ফর্মে থাকি।’
সত্যি যদি জায়গা করে নিতে পারেন, অসাধারণ একটা ব্যাপার ঘটবে। মেরিটের মুখেই শুনুন, ‘আমি যদি দলেও জায়গা পাই, সেটা হবে দুর্দান্ত একটা গল্প। ইতিহাসে এক বছরের মধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপনের পর ট্র্যাকে আর কেউ ফিরতে পারেনি। আমিই হব প্রথম। আমি আসলে একটা অসম্ভবকে তাড়া করছি।’
আর যদি আগস্টের রিও অলিম্পিকে পদক জিতে যান? মেরিটের কথার সঙ্গে কেউই দ্বিমত করবেন না, ‘জিতলে আমাকে নিয়ে নিশ্চয়ই ছবি বানানো হবে।’
এ পর্যন্ত যা করেছেন, তাতেই তো ছবি বানানোর যথেষ্ট মালমসলা হয়ে গেছে! এএফপি।

বিজ্ঞাপন
অন্য খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন