মেয়েদের ১০০ ও ২০০ মিটারে শিরিনের রাজত্ব যখন চলছে।
মেয়েদের ১০০ ও ২০০ মিটারে শিরিনের রাজত্ব যখন চলছে।ছবি: প্রথম আলো

দেশের নারী অ্যাথেলটিকসে শিরিন আক্তারের শ্রেষ্ঠত্বে ভাগ বসাতে পারেছেন না কেউ। টানা জিতেই চলেছেন দেশের দ্রুততম মানবী। গতকাল বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসে ১০০ মিটার স্প্রিন্ট জয়ের পর আজ শিরিন জিতলেন ২০০ মিটার স্প্রিন্টও। সেটিও ১৫ বছর আগে গড়া নাজমুন নাহার বিউটির রেকর্ড ভেঙে। তবে দুটিই হাতঘড়ির রেকর্ড।

২০০৬ সালে ২০০ মিটারে বিউটি রেকর্ড গড়েন ২৪.৩০ সেকেন্ড সময় নিয়ে। আজ শিরিন সময় নিয়েছেন ২৪.২০ সেকেন্ড। এই ইভেন্টে রুপা জিতেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শরিফা খাতুন, সময় ২৪.৫০ সেকেন্ড। বাংলাদেশ আনসারের কবিতা রায় ২৫.৯০ সেকেন্ড সময় নিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

মেয়েদের ১০০ ও ২০০ মিটারে শিরিনের রাজত্ব যখন চলছে, ছেলেদের ২০০ মিটারে তখন নতুন মুখের আগমন। গতকাল ১০০ মিটারে ব্রোঞ্জজয়ী বিমানবাহিনীর অ্যাথলেট নাইম ইসলাম আজ জিতে নিয়েছেন ২০০ মিটার। সময় নেন ২১.৭০ সেকেন্ড সময়। গত জানুয়ারিতে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ২০০ মিটার জেতা জহির রায়হান করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় বাংলাদেশ গেমসে খেলছেন না।

তবে জহিরের কাছেই ২০০ মিটারের দীক্ষা নিয়েছেন নাইম। তাই জিতেই জহিরকে কৃতিত্ব দিলেন নাইম,‌ ‘জহির ভাই আমাকে ২০০ মিটারে অনেক কিছু শিখিয়েছেন। বলতে পারেন তাঁর শিষ্য আমি। তাঁর সহায়তা না পেলে হয়তো জিততে পারতাম না।’ তবে ২০০ মিটারের ফল নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শরিফুল ইসলাম ২১.৮০ সময় নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। সেনাবাহিনীর দাবি, তাদের অ্যাথলেটই এগিয়েছিলেন।

পদক সবই আমার মায়ের কাছে রাখি। যত পদক আছে, সব তাঁর কাছে।
শিরিন আক্তার

তবে বিতর্ক নয়, দিনের মূল আকর্ষণ ছিল শিরিনকে ঘিরেই। ২০০ মিটার স্প্রিন্ট শেষে টানা ১২ বারের দ্রুততম মানবী শিরিন বললেন, ‘২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত আমি একবার ২০০ মিটার খেলিনি। দুবার সোহাগী আক্তার প্রথম হয়েছিল এই ইভেন্টে। এর বাইরে ১০ বার ২০০ মিটারে প্রথম হয়েছি। ১০০ ও ২০০ মিটার টানা জিতেছি ৩ বার। মোট ৯ বার ডাবল পেয়েছি। আজ বিউটি আপার রেকর্ড ভেঙে ভীষণ ভালো লাগছে। আমি খুশি।’

‘ডাবল’জয়ের পর শিরিনকে প্রশ্ন করা হলো, এত এত পদক রাখেন কোথায়? সাতক্ষীরার মেয়ে হেসে উত্তর দিলেন, ‘এগুলো সবই আমার মায়ের কাছে রাখি। যত পদক আছে, সব তাঁর কাছে। যতবার আমার পরীক্ষা ও খেলা হয়, রোজা রাখেন আমার জন্য এবং ইবাদত করেন। আমি জিতলে মা খুব খুশি হন।’

বিজ্ঞাপন
অন্য খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন