বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দেশের শীর্ষস্থানীয় একজন ফুটবলার বছরে ক্লাব থেকে পান ৬০-৬৫ লাখ টাকা। নতুন মৌসুমে অঙ্কটা নাকি ৭০ লাখে পৌঁছেছে। শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটারদের কেউ কেউ ক্লাব থেকে ৪০–৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত পান। তুলনায় দেশের তৃতীয় প্রধান খেলা হকিতে পারিশ্রমিক সামান্যই। তার ওপর ঢাকার প্রিমিয়ার হকি লিগ অনিয়মিত। প্রায় ৩ বছর পর হওয়া হকির দলবদলে এবার সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক ১০ লাখও ওঠেনি। প্রায় ৯ লাখ টাকায় আবাহনী লিমিটেড থেকে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন জাতীয় দলের অপরিহার্য ডিফেন্ডার ও পেনাল্টি কর্নার বিশেষজ্ঞ আশরাফুল ইসলাম। এটাই এবারের দলবদলে কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি।

জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বনিম্ন পারিশ্রমিক তিন লাখের নিচে। মেরিনার ইয়াংস ক্লাবের কয়েকজন নবীন খেলোয়াড় আড়াই লাখ টাকা করে পাচ্ছেন। তবে এই হাতে গোনা খেলোয়াড়ের কথা বাদ দিলে হকি খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকের সামগ্রিক ছবিটা বেশ করুণই। দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব, ওয়ারী ক্লাবের খেলোয়াড়েরা পাচ্ছেন ৩০–৩৫ হাজার টাকা করে।

default-image

পারিশ্রমিকের দিক থেকে আশরাফুলের পর দ্বিতীয় স্থানে রাসেল মাহমুদ জিমি। মোহামেডানেই থেকে যাওয়া এই স্ট্রাইকার পাচ্ছেন প্রায় ৭ লাখ টাকা। সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা করে পাচ্ছেন মোহামডানে আসা সারওয়ার হোসেন ও মাইনুল ইসলাম। মোহামেডানে থেকে যাওয়া ইমরান হোসেনের পারিশ্রমিক সাড়ে ৪ লাখ টাকা। বিকেএসপির কয়েকজন খেলোয়াড়কে দেড় থেকে দুই লাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ করেছে সাদাকালোরা। স্থানীয় খেলোয়াড়দের পেছনে কত টাকা খরচ হয়েছে, জানতে চাইলে ক্লাবটির হকি দলের ম্যানেজার আরিফুল হক বললেন, ‘এ বছর স্থানীয় ১৭ জন খেলোয়াড়ের পেছনে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার মতো ব্যয় হবে আমাদের। এর সঙ্গে বিদেশি খেলোয়াড় এবং আনুষঙ্গিক খরচ তো আছেই।’

সবচেয়ে শক্তিশালী দল গড়া আবাহনীর ৭ খেলোয়াড় পুস্কর খীসা, হাসান জুবায়ের, নাঈম হোসেন, ফরহাদ আহমেদ, রুম্মান সরকার, খোরশেদ আলম ও রেজাউল করিম পাচ্ছেন ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা করে। আকাশি নীল ক্লাব সূত্রের দেওয়া তথ্য, ১৮ জন স্থানীয় খেলোয়াড়ের পেছনে তাদের ব্যয় হতে পারে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা। দুই প্রধানের পর মেরিনার ইয়াংসও মোটামুটি বড় অঙ্ক খরচ করে নতুন দল গড়েছে। ক্লাবটি সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ লাখ টাকা দিচ্ছে জাতীয় দলের সাবেক ডিফেন্ডার মামুনুর রহমান ও ফজলে রাব্বিকে। প্রথম সারির বাকি খেলোয়াড়দের দিচ্ছে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা।

ফুটবল ও ক্রিকেটের সঙ্গে তুলনায় হকি খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক একেবারেই সামান্য। তবে সার্ভিসেস দলে থাকা খেলোয়াড়দের কোটাভুক্ত না করলে এবার পারিশ্রমিক আরও কিছুটা বাড়ত বলে ধারণা অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার জিমির। অবশ্য পারিশ্রমিক নিয়ে খুব বেশি ক্ষোভ নেই খেলোয়াড়দের। তাঁরা আগে চান খেলাটা অন্তত নিয়মিত হোক। জিমি বলছিলেন, ‘দুই-তিন বছর পরপর লিগ হয়। নিজেরাও বুঝে উঠতে পারি না কত পারিশ্রমিক চাইব ক্লাবের কাছে। তবে এবার পারিশ্রমিক কিছুটা হলেও বেড়েছে। লিগটা নিয়মিত হলে আমাদের কষ্ট কমত।’

বিভিন্ন বাহিনীতে চাকরির সুবাদে সার্ভিসেস খেলোয়াড়দের জীবন–জীবিকা নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই। কিন্তু এর বাইরের খেলোয়াড়দের আয় বলতে এ টাকাটাই। আবাহনীর স্ট্রাইকার পুস্কর খীসা দুঃখ করে বলছিলেন, ‘তিন বছর পর লিগ হচ্ছে। আমার পারিশ্রমিককে ৩ দিয়ে ভাগ করলে বছরে কত টাকা হয়? এই টাকা দিয়ে জীবন ধারণ করা যায় কি না, সেটা আপনারাই বুঝে নিন।’

অন্য খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন