default-image

পুরোনো বছরের জরাজীর্ণতা, হতাশা, গ্লানি দূর করে নতুন বছর আনবে অনাবিল আনন্দ ও সাফল্য—মোটাদাগে বিশ্বের সব মানুষই বছরের প্রথম দিনে এটাই চান। হয়তো ক্রিস্টিয়া ডাকেরাও চেয়েছিলেন। চেয়েছিলেন নতুন উদ্যমে, নতুন আশায় নতুন বছরটা শুরু করতে। পারলেন কোথায়!

থার্টিফার্স্ট নাইট উদ্‌যাপন করতে গিয়েছিলেন ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার এক হোটেলে। সেখানকার এক বাথটাব থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এই বিমানবালার মৃতদেহ, যিনি ফিলিপাইনের সুন্দরী প্রতিযোগিতায়ও একবার রানার্সআপ হয়েছিলেন। অনুমান করা হচ্ছে, গণধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে ডাকেরাকে। সন্দেহের আঙুল উঠেছে সেই ১১ জনের ওপর, যাঁরা সেদিন হোটেলে ডাকেরার সঙ্গে ছিলেন। ঘটনার পর তোলপাড় চলছে ফিলিপাইনে। দেশটির কিংবদন্তি বক্সার এবং বর্তমানে ফিলিপাইনের সিনেটরের দায়িত্বে থাকা ম্যানি প্যাকিয়াও এই ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

বিজ্ঞাপন

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার সিটি গার্ডেন গ্র্যান্ড হোটেলে সেদিন ১১ বন্ধুর সঙ্গে থার্টিফার্স্ট নাইট উদ্‌যাপন করতে গিয়েছিলেন ডাকেরা। পেশায় ফিলিপাইন এয়ারলাইনসের বিমানবালা এই ২৩ বছর বয়সী তরুণীর সেটাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশটির সিনেটর হওয়ার কারণে প্রথম থেকেই মামলার অগ্রগতি নিয়ে নিজ থেকেই কাজ করছেন প্যাকিয়াও। ঘোষণা দিয়েছেন, এই নির্মম ঘটনার সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের খুঁজে পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কেউ যদি সহায়তা করেন, তাহলে তাঁকে পুরস্কৃত করা হবে।

প্যাকিয়াও নিজেও ডাকেরাকে চিনতেন, ডাকেরার পরিবারের সঙ্গে পরিচিতিও আছে তাঁর। এ জন্যই ঘটনাটা আরও বেশি নাড়া দিয়ে যাচ্ছে তাঁকে।

default-image

ডিজেডআরএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্যাকিয়াও জানিয়েছেন, দোষীদের ধরতে দশ হাজার ডলারের চেয়েও বেশি পুরস্কার দিতে রাজি তিনি, ‘যেটা আমার কাছে সবচেয়ে বেশি অসহ্য লাগছে, সেটা হলো মেয়েটাকে ধর্ষণ করার পর হত্যা করা হয়েছে। তাই দোষীদের যাতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, সে ব্যাপারে আমি কাজ করে যাচ্ছি। আমার এই পুরস্কার তাঁদের জন্যই প্রযোজ্য, যাঁরা সেদিন ওই হোটেলে উপস্থিত ছিলেন এবং ঘটনাটা সম্পর্কে জানেন। আশা করব, তাঁরা সামনে এগিয়ে আসবেন।’

জানা গেছে, ফিলিপাইন এয়ারলাইনসে কাজ করা ডাকেরার বেশ কজন সহকর্মী সেদিন তাঁর নিষ্প্রাণ দেহ উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করা হলেও পারা যায়নি। পরে মাকেতিতে অবস্থিত একটা হাসপাতালে ডাকেরার দেহ নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মামলায় বলা হয়েছে, সেদিন ডাকেরার তিন বন্ধু ওই পার্টির আয়োজন করেছিলেন, ডাকেরা ছাড়া সে পার্টিতে অন্য কোনো মেয়ে ছিলেন না। ১১ জনের মধ্যে ৩ জনকে পুলিশ প্রথমে গ্রেফতার করলেও পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
যে প্রমাণ এখন হন্যে হয়ে খুঁজছেন প্যাকিয়াও।

বিজ্ঞাপন
অন্য খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন