‘শুভ জন্মদিন উসাইন!’ নিজেকেই নিজে সবচেয়ে বড় উপহারটা চার বছর অন্তর অন্তর দিয়ে আসছেন বোল্ট। প্রায় এই সময়েই হয় অলিম্পিক। শেষের দিক শেষ হয় দৌড়ের লড়াই। আর এই সময়েই ​​যে ঘনিয়ে আসে বোল্টের জন্মদিন। আগামীকাল নিজের ৩০তম জন্মদিনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বোল্ট আরও এক অর্জনের পালক যোগ করলেন মুকুটে। জিতে নিলেন অলিম্পিকে নিজের নবম সোনা। ১০০ মিটার রিলেতে জিতেছে তাঁর দল জ্যামাইকা।


‘৩০’ সংখ্যাটা কিন্তু এই সঙ্গে এই বার্তাও দিচ্ছে—এবার​ই শেষ। বোল্টকে আর কখনো দেখা যাবে না অলিম্পিকে দৌড়াতে। মাইকেল ফেল্‌প্‌সের মতো রিও অলিম্পিক তাঁরও শেষ। ফেল্‌প্‌স তো আর সাঁতরাবেনই না। বোল্ট অবশ্য আগামী বছর লন্ডনের বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ পর্যন্ত আছেন। সত্যিকারের বিদায় এখনো তাই কিছুদিন বাকি।

তা হলে কী হবে, স্বাভাবিকভাবেই আবেগ ছুঁয়ে যাচ্ছে বোল্টকে, ‘আমি জানতাম একদিন না একদিন শেষ তো হবেই। আমি অবশ্যই এই দর্শক, এই উন্মাদনা মিস করব। মিস করব এই প্রতিযোগিতাকে। মিশ্র একটা অনুভূতি হচ্ছে। তবে আমার ক্যারিয়ারটা অসাধারণ তো ছিলই। এখন জীবনের নতুন লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে যা যা করতে চেয়েছি, সবই তো করেছি।’

একটুও মিথ্যা বলেননি। ১০০ ও ২০০ মিটারের বিশ্ব রেকর্ড নিয়ে গেছেন অবিশ্বাস্য এক জায়গায়। অলিম্পিক আর বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ মিলে জিতেছেন ২০টি সোনা। আর কেউ পারবে? সর্বশেষ ১০০ মিটার রিলে জেতার পর বলেছেন, ‘আশা করি, এমন উচ্চতায় নিয়ে গেলাম, যেটা আর কেউ করে দেখাতে পারবে না। অসাধারণ এক অনুভূতি হচ্ছে। প্রতিটি অলিম্পিকেই এত খেটেছি তিনটি সোনার মেডেলের জন্য! খুবই খুশি মিশন সম্পন্ন করতে পেরে।’

default-image

ঈশ্বর প্রতিভা দিয়েছেন, সামর্থ্য ​দিয়েছেন। কিন্তু সবাই শুধু ১০ সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে তাঁর খেলার জাদু দেখে। এই ১০টা সেকেন্ডের জন্য যে কী পরিমাণ ঘাম তিনি ঝরান, তা অনেকেরই অগোচরে থেকে যায়। নিজেকে এক মুহূর্তের জন্যও স্বস্তিতে থাকতে দেননি। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছেন। সাফল্যের রহস্য বলতে গিয়ে বললেনও, ‘নিজেকে উজাড় করে​ দেওয়া। সব সময়ই সর্বোচ্চটা চেয়েছি, কখনোই তৃপ্ত থাকিনি।’

তবে এই একটা সোনা জেতার একক কৃতিত্ব তাঁর নেই। দলের বাকি তিনজনের ওপরও নির্ভর করে। বোল্ট পালন করেন অ্যাংকরের ভূমিকা, দৌড়ান সবার শেষে। তিনজনের একজন ভুল করলেই সর্বনাশ। শুরুতে যদি কেউ ফলস স্টার্ট করে, কিংবা কেউ যদি ব্যাটনটা ফেলে দেয় হাত থেকে! রিলেতে জ্যামাইকার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রই তো ফাইনালে গড়বড় করে ফেলল। হয়ে গেল ডিসকোয়ালিফাইড।

বোল্টও বললেন, তৃতীয় লেগটা দৌড়ানো নিকেল অ্যাশমিড তাঁর হাতে ব্যাটন তুলে না দেওয়া পর্যন্ত ভয়ে ভয়েই ছিলেন। কেউ একজন ব্যর্থ হলে যে তিন তিরিক্কে নয়ের স্বপ্ন ভন্ডুল হয়ে যেত! কিন্তু একবার যখন হাতে ব্যাটন পেলেন, শুধু ৯ সেকেন্ডের সামান্য কিছু বেশি সময়ের অপেক্ষা যেন। বোল্টও বললেন, ‘আমি শুধু দেখছিলাম আর প্রার্থনা করছিলাম ওরা যেন গড়বড় না করে ফেলে। কিন্তু যখন হাতে ব্যাটনটা পেলাম, জানতাম আমিই জিততে যাচ্ছি। কেউ আমাকে অ্যাংকর লেগে হারাতে পারবে না। ওদের (প্রতিপক্ষ) শুধু বলেছিলাম, বাপু আমাকে বেশি খাটিয়ে নিয়ো না।’

বাকিরা বরং উল্টো অভিযোগ করতে পারে। বলতে পারে, ‘ওস্তাদ কী যে বলেন। আমরা তো সোনার আশা বাদই দিয়েছি। আমরা তো দৌড়াই শুধু রুপার জন্য!’

বোল্টের সঙ্গে দৌড়ানোর একমাত্র সুবিধা হলো এ-ই, বিশ্বের সর্বকালের দ্রুততম মানবটিকে সবচেয়ে কাছ থেকে দৌড়াতে দেখা যায়!

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0