আইসিসির নিষেধাজ্ঞা শেষ, আজ থেকেই খুলে গেল সাকিব আল হাসানের মাঠে ফেরার দরজা। তার আগে পুরো সেপ্টেম্বর মাস তিনি প্রস্তুতি নিয়েছেন বিকেএসপিতে। সাকিবের অনুশীলনের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন তাঁর দুই পুরোনো কোচ নাজমুল আবেদীন ও মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাজমুল আবেদীন জানিয়েছেন নতুন সাকিবকে দেখার অভিজ্ঞতার কথা।
default-image

সাকিবের মাঠে ফেরার দরজা খুলে গেল আজ। খেলায় ফেরার জন্য তিনি কতটা প্রস্তুত?

নাজমুল আবেদীন: উত্তরটা খুব সহজ। ও খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। সাকিব বিকেএসপিতে এক মাসের মতো অনুশীলন করেছে। ওর সেরা পারফরম্যান্স ছিল গত ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে। ওখানে তার খেলার যে মান ছিল, এটা খুব পরিষ্কার যে ওই মান থেকে সে আর নামতে চায় না। ভালো খেলার জন্য, সম্ভব হলে আগের চেয়েও ভালো খেলার জন্য নিজেকে দারুণভাবে উজ্জীবিত রেখেছে সাকিব।

আপনি তো বিকেএসপিতে সাকিবের অনুশীলনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর অনুশীলন সম্পর্কে বলুন...

নাজমুল আবেদীন: সাকিব অনেক পরিশ্রম করেছে। বিশেষ করে শারীরিকভাবে। সে জন্যই শারীরিকভাবে খুব ভালো অবস্থায় আছে এখন। সব ধরনের অনুশীলনই করেছে ও। যদি তাকে দু-তিন দিন মাঠে থাকতে হয়, সে অনুশীলনটাও এখানে হয়ে গেছে। লম্বা সময় বোলিং করা, ব্যাটিং করা, ফিল্ডিং করা। যে পর্যায়ের অনুশীলন ও করে গেছে, যে পরিশ্রম করেছে-এমন একজন সফল খেলোয়াড়ের মধ্যে ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এ রকম ক্ষুধা থাকাটা খুব অস্বাভাবিক ব্যাপার।

সাকিব ফিরে আসার পর তাঁর খেলায় কী ধরনের পরিবর্তন আশা করেন?

নাজমুল আবেদীন: ব্যাটিং-বোলিং দুই জায়গাতেই আমি কিছু পরিবর্তন আশা করছি। ক্লাসের ফার্স্ট বয়ের যে রকম অনেক উন্নতির জায়গা থাকে না, সাকিবের মানের একজন খেলোয়াড়েরও কিন্তু পারফরম্যান্সে খুব বেশি উন্নতির সুযোগ নেই। তবে আমার যেটা আশা, আমরা ব্যাটিং-বোলিং দুই ক্ষেত্রেই তাকে আরও বেশি ধারাবাহিক পারফর্মার হিসেবে পাব। ব্যাটিংয়ে যেসব জায়গায় ও বেশি রান করে, সেখানে হয়তো আমরা কিছু পরিবর্তন দেখতে পাব। আগের জায়গাগুলোর পাশাপাশি নতুন কিছু জায়গায়ও সে রান করবে, এটা আশা করি। এই কয়েক দিনের অনুশীলনে আমরা দেখেছি, ও নতুন কিছু জায়গায় রান করতে পারছে। আগে কিছু জায়গায় খেলতে অস্বস্তিতে ভুগত, সেগুলোও কাটিয়ে উঠতে পেরেছে।

default-image

বোলিংয়েও কি নতুন কিছু যোগ হবে?

নাজমুল আবেদীন: সালাউদ্দিন খুব ভালো কাজ করেছে বোলিং নিয়ে। বোলিংয়ে সাকিবের শক্তি ছিল ঠিক জায়গায় বল ফেলা আর ওর বুদ্ধি। কিন্তু স্পিনার হিসেবে বল ঘোরানোতে কিছু ঘাটতি ছিল। সেটা বোধ হয় একটু পূরণ হবে এবার। উইকেটে সাহায্য থাকলে সাকিব এখন বল ঘোরাবে, বাউন্স করাবে। এটা ওর বোলিংটাকে আরও শক্তিশালী করবে।

এক বছর ধরেই সাকিব অনুশীলন, খেলার বাইরে। তারপরও তাঁর খেলায় উন্নতি আসবে বলছেন। এটা কীভাবে সম্ভব?

নাজমুল আবেদীন: তার কিছু কিছু ক্ষেত্রে যে দুর্বলতা ছিল, আমরা সেগুলো দূর করার চেষ্টা করেছি এবং সে-ও সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দিয়েছে। ও যেন সঙ্গে সঙ্গেই বুঝে গেছে এটা ওর জন্য ভালো, এটা ওর করা উচিত। এই উপলব্ধি যখন একজন খেলোয়াড়ের আসে, সে ওটা নিজের মধ্যে নিয়ে নেয়। সাকিবও কাজগুলো খুব আগ্রহ নিয়ে করেছে। মাঝ উইকেটে অনুশীলনের সময় আমরা তাকে সেগুলো করতে দেখেছি। আগে খেলার একটা পরিস্থিতিতে সে যেভাবে সাড়া দিত, এখন হয়তো আমরা সেটা অন্যভাবে দেখতে পাব।

অনুশীলনের সময়টায় সাকিবের মানসিকতায় কোনো বদল দেখেছেন?

নাজমুল আবেদীন: আমার মনে হয় ওর জন্য সবচেয়ে কঠিন ছিল ফিটনেস ঠিক করা। গত ১০-১২ বছর তার সূচি এত ব্যস্ত ছিল, ফিটনেস নিয়ে আলাদা কাজ করার সুযোগই ছিল না। এই প্রথম সেটা পেল। কিন্তু ওই মানের ফিটনেসের জন্য যে কষ্ট শরীরকে দিতে হয়, সেটা সবাই দিতে পারে না। অথচ সাকিব সেটা করতে একটুও সমস্যা বোধ করেনি। এই জায়গায় কোনো সমঝোতা করেনি। এ থেকে বোঝা যায় ওর ক্ষুধাটা কত বেশি। আমার বিশ্বাস, আমরা এবার অন্য এক সাকিবকে দেখা যাবে।

প্রশ্ন: অনুশীলনের পরিকল্পনায় কি সাকিবের নির্দিষ্ট কোনো চাহিদা ছিল, যেটা নিয়ে তিনি বেশি কাজ করতে চেয়েছেন?

নাজমুল আবেদীন: আমরা যখনই যেটা করেছি, আলাপ-আলোচনা করে করেছি। চেষ্টা করেছি ওর শক্তির জায়গাগুলো ঠিক রেখে দুর্বল জায়গাগুলো শক্তিশালী করতে। কিছু জিনিস ও নিজে বলেছে। আমরা তখন সেটা করেছি। পরে ভিডিও দেখে নিজেরা আলোচনা করেছি।

বিজ্ঞাপন

যেকোনো খেলোয়াড়ই লম্বা বিরতি দিয়ে খেলায় ফিরলে তাঁকে অনেক কিছু প্রমাণ করে দলে আসতে হয়। সাকিবের ক্ষেত্রে সেটি কতটা প্রয়োজন বলে মনে করেন?

নাজমুল আবেদীন: সাকিব যে মানের খেলোয়াড়, সে যদি তার আগের খেলার ৭০ ভাগও খেলে, ও জাতীয় দলে জায়গা পেয়ে যাবে। আমার ধারণা, শুরু থেকেই সে তার সামর্থ্যের ৯০ ভাগ দিতে পারবে এবং খুব তাড়াতাড়িই শতভাগ দেবে। আমার বিশ্বাস, আগের চেয়ে সে ভালো খেলবে। হ্যাঁ, কাগজে-কলমে আমাদের বলা উচিত, আর সবার মতো সাকিবও নিজেকে প্রমাণ করে দলে আসুক। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সাকিব যেটা দিতে পারে, সে সক্ষমতা আমাদের অন্য খেলোয়াড়দের নেই। সবচেয়ে বড় কথা, ওর মধ্যে কষ্ট করার যে ইচ্ছা, তা দেখেই বোঝা যায় ও ভালো খেলতে চায়। আর সাকিবের মানের কেউ যদি ভালো খেলতে চায়, সে ভালো খেলবেই।

বিকেএসপির অনুশীলন বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গিয়ে কি আর কিছু করেছেন সাকিব?

নাজমুল আবেদীন: এখানকার মতো সবকিছু তো আর ওখানে করা সম্ভব নয়। তবে ফিটনেসের কিছু মৌলিক কাজ করেছে। টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগে সে ঢাকায় চলে আসবে। এরপর পাঁচ-ছয় দিন অনুশীলন করলেই ছন্দ ফিরে পাবে।

অনুশীলনের জন্য সাকিব এবং আপনারা বিকেএসপিকেই কেন বেছে নিলেন?

নাজমুল আবেদীন: সাকিব যেভাবে অনুশীলন করতে চেয়েছে, তার জন্য বিকেএসপিই সেরা জায়গা। অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি আমরা বিকেএসপির অ্যাথলেটিকস কোচ, বক্সিং কোচ এবং সাঁতার কোচেন সাহায্য পেয়েছি। বিকেএসপির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাশিদুল হাসান আমাদের সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন।

মন্তব্য পড়ুন 0