‘আগামী লিগে ভিএআর আনব’

চলমান প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ শুরুর আগেই বিদেশি রেফারি আনার দাবি তুলেছিল সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। এরপর রেফারিদের কাঠগড়ায় তুলে বাফুফেকে চিঠি দেয় মোহামেডান। পরশু রেফারিং নিয়ে তীব্র অসন্তোষ জানিয়ে বাফুফেকে চিঠি দিয়েছে সাইফ স্পোর্টিংও। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে যাওয়ারও হুমকি দিয়েছে ক্লাবটি। এসব নিয়েই প্রথম আলোর মুখোমুখি বাফুফের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও রেফারিজ কমিটির প্রধান আব্দুস সালাম মুর্শেদী

বাফুফের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও রেফারিজ কমিটির প্রধান আব্দুস সালাম মুর্শেদী

প্রশ্ন :

সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব বাফুফেকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। বিষয়টা কীভাবে দেখছেন?

সালাম মুর্শেদী: ঠিক হুমকি বলব না। এটা ক্লাবের আবেগ। অনেক অর্থ ব্যয়ে দল গড়ে কারও ভুলের কারণে ফল না পেলে ক্লাবের ক্ষোভ হতেই পারে। তবে এটাও ঠিক, আমরা কথায় কথায় সর্বোচ্চ বিচারপতির কাছে চলে যাই। কিন্তু সব অভিযোগের ভিত্তি থাকতে হবে। অভিযোগের সপক্ষে ভিডিও থাকা চাই।

প্রশ্ন :

তার মানে সাইফের অভিযোগের ভিত্তি নেই?

সালাম: দেখুন, বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন সাহেব বলেছেন, রেফারিদের কিছু ভুল হয়েছে। মানুষমাত্রই ভুল হতে পারে। তবে ভুল করা চলবে না, এই বার্তা রেফারিদের কঠোরভাবে দেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন :

রেফারিদের বক্তব্য শুনেছেন আপনারা?

সালাম: শুনেছি। আজ (গতকাল) চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের উদ্বোধন শেষে কমলাপুর স্টেডিয়ামেই ১০ জন রেফারিকে নিয়ে আমি ও বাফুফের সভাপতি বসেছিলাম। আগের দিন বাফুফের রেফারি হেডকে নিয়ে বসেন সভাপতি। রেফারিদের ভুলগুলো ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রেফারিরাও তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। নানা সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

প্রশ্ন :

বাফুফে সভাপতি বিদেশি রেফারি আনার কথা বলেছেন। কিন্তু ‘হেড অব রেফারি’ আজাদ রহমান মনে করেন, বিদেশি রেফারি আনা দেশি রেফারিদের জন্য একরকম লজ্জা। দেশি রেফারিদের মনোবল নাকি এতে আরও কমে যাবে?

সালাম: আমরা তো চাইছি না বিদেশি রেফারি আনতে। কিন্তু বিতর্ক এড়াতেই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ম্যাচে বিদেশি রেফারি আনার কথা বলেছেন সভাপতি। তবে সেটা এখনই নয়। লিগের শেষ দিকে শিরোপা ও অবনমন লড়াইটা পরিষ্কার হয়ে গেলে আনা হতে পারে।

প্রশ্ন :

দেশি রেফারিরা শতভাগ সৎ, এ কথাও বলেছেন হেড অব রেফারি। কিন্তু সাইফ স্পোর্টিংয়ের ভাষ্য, রেফারিরা পক্ষপাত করছেন। আপনার কী মত?

সালাম: পক্ষপাত বলব না। তবে রেফারিদের ভুল হয়, এটা ঠিক। যে কারণে এত কথা। তবে দেখুন, রহমতগঞ্জ ৩টি ম্যাচ হেরেও কিন্তু কোনো কথা বলেনি। আসলে কিছু কিছু ক্লাব আছে, যেখানে দামি খেলোয়াড় খেলে, তারাই এসব কথা বলে বেড়ায়।

প্রশ্ন :

কিন্তু সকাল-বিকেল যেভাবে কাঠগড়ায় উঠছেন রেফারিরা, দেদার রেফারি সাসপেন্ড করা হচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে রেফারি খুঁজে পাওয়া যাবে তো?

সালাম: আমিও শঙ্কিত। হাল ছেড়ে দিলে একসময় দেখবেন দেশে আর রেফারি পাবেন না।

প্রশ্ন :

রেফারিদের মান উন্নয়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই কেন বাফুফের?

সালাম: একটা ছেলে যখন লম্বা হয়ে যায় নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত এরপর আর লম্বা করবেন কীভাবে (হাসি)! সুতরাং এঁদের আর কী মান উন্নয়ন করবেন বলুন! তবে কাউন্সেলিং করে রেফারিদের ভুল কমানোর চেষ্টা চলছে।

প্রশ্ন :

বাফুফে সভাপতি বলেছিলেন, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) আনবেন। এটা কি শুধুই কথার কথা ছিল?

সালাম: ভিএআর আনতে ৮-৯ কোটি টাকা লাগবে। তবে আশা করি, সামনের বছরের লিগে আমরা ভিএআর প্রযুক্তি আনব।

প্রশ্ন :

শোনা যায়, বাফুফের কাছে রেফারিদের ১ কোটি টাকা সম্মানী বাকি। এ অবস্থা কেন?

সালাম: এক কোটি নয়, অঙ্কটা আরও কম। গত সপ্তাহে রেফারিদের সম্মানীর আড়াই শ চেক সই করেছি। ফলে এখন বকেয়া ৩০-৩২ লাখের মধ্যে নেমে এসেছে।