শুধুই প্রথম আলোয়: হ্যারি কেন

আমরা বিশ্বকাপে ফেবারিট নই

বিজ্ঞাপন
default-image


ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে তাঁকে বেছে নেওয়াটা চমকই ছিল। ২৪ বছর বয়সী হ্যারি কেন রাশিয়ায় একটা রেকর্ডও গড়তে চলেছেন, বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সী ইংল্যান্ড অধিনায়ক হয়ে। এত দিন রেকর্ডটা ববি মুরের, ইংল্যান্ডকে ১৯৬৬ বিশ্বকাপ জেতানোর সময় যাঁর বয়স ছিল ২৫। মৌসুমে ক্লাবের হয়ে ৪৮ ম্যাচে ৪৩ গোল আর জাতীয় দলের জার্সিতে ২৩ ম্যাচে ১২ গোল বলছে, রাশিয়ায় ইংল্যান্ডের প্রত্যাশা বইতে প্রস্তুত কেন।

প্রশ্ন: বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্ব করবেন, এমন স্বপ্ন দেখেছিলেন কখনো?

হ্যারি কেন: ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সর্বোচ্চ মঞ্চে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া সবচেয়ে বড় সম্মানের। আগেও কয়েকটা ম্যাচে থ্রি লায়নসের অধিনায়ক ছিলাম, কিন্তু কখনোই ভাবিনি বিশ্বকাপে এই দায়িত্বটা পালনের জন্য আমাকেই বেছে নেওয়া হবে। আমি অভিভূত, গর্বিত।

প্রশ্ন: কোচ আপনাকে এই খবরটা জানানোর পর আপনার প্রথম অনুভূতি কী ছিল?

কেন: সত্যি বলতে (আনুষ্ঠানিক ঘোষণার) কয়েক দিন আগেই জেনে গিয়েছিলাম। কিন্তু কোচ আমাকে বলেছিলেন কাউকে না জানাতে। হ্যাঁ, অনুভূতিটা বলে বোঝানোর মতো নয়! আমার বয়স মাত্র ২৪, দেশের হয়ে মাত্র ২৩টি ম্যাচে খেলেছি। বুঝতে পারছিলাম বিশ্বকাপের দলে থাকব। কিন্তু বিশ্বাসই করতে পারিনি যে আমাকে দলের নেতৃত্ব দেওয়া হবে, তা-ও একটা বিশ্বকাপে!

প্রশ্ন: এতে কি চাপ আরও বাড়বে?

কেন: ব্যাপারটা তেমন নয়। যা করে আসছিলাম, সেটাই করতে হবে আমাদের। আমরা বিশ্বকাপে ফেবারিটদের মধ্যে নই। অন্তত ফুটবলবোদ্ধারা সেটা বলছেন না! অন্য অনেক দলের তুলনায় কম বয়সী দল আমাদের, বিশ্বকাপে কিছু করে দেখাতেও উন্মুখ।

প্রশ্ন: ইংলিশ সংবাদমাধ্যমগুলো থেকেও কোনো চাপ নেই তাহলে?

কেন: দেখুন, বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করতে গেলে প্রত্যাশা তো থাকবেই। এটা আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না। আমরা সেটার সঙ্গে মানিয়েও নিয়েছি।

প্রশ্ন: কিন্তু দলের নেতা কী ভাবছেন? ইংল্যান্ড পারবে?

কেন: আমার মনে হয় পারব। এভাবে বলি, আমার বিশ্বাস দারুণ কিছু করার মতো প্রতিভা আর প্রত্যয় আমাদের আছে। প্রতিভা অনুযায়ী খেলে এগিয়ে যেতে হবে আমাদের। তাহলে বাকিটা এমনি এমনিই হয়ে যাবে। ফুটবলে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। ভাগ্যে কী আছে, সেটা কখনোই বলা যায় না।

প্রশ্ন: গ্রুপে তিউনিসিয়া আর পানামা আছে। নকআউট পর্বে যাওয়াটা তেমন ঝামেলা হওয়ার কথা নয়। গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াইটা বেলজিয়ামের সঙ্গেই হওয়ার কথা।

কেন: বেলজিয়াম শিরোপাপ্রত্যাশী দল। অসাধারণ কিছু প্রতিভা আছে ওদের। কয়েক বছর ধরে আকর্ষণীয় ফুটবলও খেলছে। সৌভাগ্যবশত, ওদের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলে, আর প্রতিপক্ষের শক্তির জায়গাটা জানা তো সব সময়ই সুবিধাজনক। যা-ই হোক, ম্যাচের ৯০ মিনিটেই যা হওয়ার হবে। ম্যাচটা ২৮ জুন হবে, গ্রুপের শেষ ম্যাচ। তার আগে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন গ্রুপের প্রথম দুটি ম্যাচে জিতে গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াইয়ে থাকি। পানামা (বাছাইপর্বে) এমন একটা গ্রুপ থেকে উঠে এসেছে, যে গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্র ও হন্ডুরাস পারেনি। তিউনিসিয়াও যেকোনো দলকে চমকে দিতে তৈরি থাকবে। বিশ্বকাপে আপনি কিছুই আগে থেকে ধরে নিতে পারেন না।

প্রশ্ন: দ্বিতীয় রাউন্ডে কলম্বিয়া বা পোল্যান্ডের সঙ্গে খেলা পড়তে পারে, শেষ আটে সামনে পড়তে পারে ব্রাজিল বা জার্মানি...

কেন: দুঃখিত, আমি এভাবে ভাবি না। আমাদের প্রথম লক্ষ্য দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করা। গ্রুপের এই তিনটি ম্যাচ নিয়েই এখন আমাদের ভাবা উচিত। আসলে তা-ও নয়, আমরা শুধু প্রথম ম্যাচটি নিয়েই এখন ভাবছি। একেকটা ম্যাচ ধরে এগোব আমরা। কোয়ার্টার ফাইনাল নিয়ে এখনো কিছুই ভাবিনি।

প্রশ্ন: বিশ্বকাপে আপনার ফেবারিট...

কেন: আবারও বলি, অন্য দলগুলোকে নিয়ে আমি ভাবছিই না। সাধারণত ফুটবল ঐতিহ্যে এগিয়ে থাকা দলগুলোই সব সময় ফেবারিট থাকে। যেমন জার্মানি, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা। এরপর পর্তুগাল ও ফ্রান্স থাকবে—দুটি দল ২০১৬ ইউরোর ফাইনালে উঠেছে। স্পেন অসাধারণ একটা দল। এই দলগুলোর সঙ্গে একই ব্র্যাকেটে আমাদের নামও এলে আমাদের খুশি হওয়া উচিত।

প্রশ্ন: আপনার গোল্ডেন বুট জেতার সম্ভাবনা নিয়ে কী বলবেন?

কেন: স্ট্রাইকার হিসেবে আমার কাজই গোল করা। গোল করতে পারলেই আমি খুশি। এই অনুভূতিটা ভাষায় বোঝানো যায় না। স্বাভাবিকভাবেই, বিশ্বকাপেও যত বেশি সম্ভব গোল করতে চাই। তবে মাঠে নেমেই তো সব সময় গোল করা যায় না। তাই দলের প্রয়োজনে অন্য যেকোনোভাবে অবদান রাখতে পারাও গুরুত্বপূর্ণ। আমার খেলার ধরনও এমনই। প্রতিপক্ষের অর্ধে বল ধরে রেখে সতীর্থদের উঠে আসার সময় করে দেওয়া, নিচ থেকে খেলা গড়ে দেওয়া, গোল করার মতো আরও ভালো অবস্থায় আছে এমন সতীর্থকে পাস দেওয়া...এসব চেষ্টা আমার সব সময়ই থাকে। আমি বেশি গোল করতে পারলে আমাদের আরও দূরে যাওয়াটা সহজ হবে। আমি তো সেটাই চাই। সব সময়!

একনজরে

পুরো নাম

হ্যারি এডওয়ার্ড কেন

জন্ম: ২৮ জুলাই ১৯৯৩

জন্মস্থান: ওয়ালথামস্টো, ইংল্যান্ড

পজিশন: স্ট্রাইকার

ক্লাব: টটেনহাম

পেশাদার ফুটবল শুরু: ২০০৯

জাতীয় দলে অভিষেক: ২০১৫

ম্যাচ: ২৩

গোল: ১২

ক্লাব ক্যারিয়ার

ম্যাচ: ২৭৮

গোল: ১৫৬

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন