বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

দল ঘোষণা তো হলো। কিরগিজস্তান সফরে দলের লক্ষ্য কী থাকবে?

জেমি ডে: র‌্যাঙ্কিংয়ে ১০০ (কিরগিজস্তান ১০১ ও ফিলিস্তিন ১০২) এর আশপাশে থাকা দুটি দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি আমরা। সব কটি ম্যাচই জিততে চাই। তবে বাস্তববাদী হতে হবে। আমি মূলত দেখতে চাই আমাদের খেলোয়াড়েরা তাদের চেয়ে ভালো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কতটা লড়াই করতে পারে। সাফের জন্য সেরা ২৩ জন খেলোয়াড় নির্বাচন করাই আমার লক্ষ্য।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভালো পর্যায়ে খেলা প্রবাসী খেলোয়াড়দের বিবেচনা না করে দলে ডাকা হয়েছে রাহবার ওয়াহেদ খান ও তাহমিদ ইসলামকে। তাদের তো ভালো পর্যায়ে খেলার তেমন অভিজ্ঞতা নেই...

জেমি: সুযোগ না দিলে তারা অভিজ্ঞ হতে পারবে না। এটা ‘উইন–উইন সিচুয়েশন’। ওরা ভালো খেললে দলের শক্তি বাড়বে। ভালো না খেললে ফিরে যাবে। কিন্তু তাদের নিয়ে আগেই যে সমালোচনা হচ্ছে, এটা ঠিক নয়। ওরা পেশাদার পর্যায়ে না খেললেও যেখানে খেলছে, সেখানকার ফুটবল বাংলাদেশের চেয়ে ভালো। আমরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে খেলা প্রবাসী বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের ওপর চোখ রাখছি। প্রাথমিক তালিকায় আরও তিনজন প্রবাসীর নাম থাকলেও ও পাসপোর্ট জটিলতায় এবার তাঁদের নেওয়া যায়নি।

শক্তি বাড়ানোর জন্য প্রবাসীদের সুযোগ দেওয়াটা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু প্রবাসীদের নেওয়ার কারণ কি স্থানীয় পর্যায়ে মানসম্মত খেলোয়াড় না থাকায়?

জেমি: আমি এখানে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে আছি। স্থানীয় সব সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়কেই দেখা হয়েছে। কিছু নতুন খেলোয়াড় উঠে আসছে। সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের দুজন খেলোয়াড়ের কথা বলব। বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা নিজেদের সর্বোচ্চটাই দিচ্ছে এবং আমাদের কিছু অর্জনও আছে। কিন্তু আপনাকে দলের উন্নতির আরও উপায় খুঁজতে হবে। বেশি খেলোয়াড় দেখে সেখান থেকে সেরাটা বেছে নিতে হবে। প্রবাসী খেলোয়াড়দের অনেক দেশই দলে নিচ্ছে।

কিন্তু এতে তো স্থানীয় খেলোয়াড়দের মানসিকতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে...

জেমি: হ্যাঁ, খেলার সুযোগ কমে যাচ্ছে বলে কিছু খেলোয়াড় মন খারাপ করতে পারে। কিন্তু বাইরে থেকে খেলোয়াড় এসে যদি দল ভালো হয়, আমরা ট্রফি জিতি, তখন আর তাদের মন আর খারাপ থাকবে না। স্থানীয়দের নিয়ে সেরা দল গঠন করা গেলে সেটাই সবচেয়ে ভালো। আবার যদি স্থানীয় ও প্রবাসীদের মিলে ভালো দল গঠন করা যায়, সেটাও ভালো।

default-image

ডেনমার্ক থেকে এসে জামাল ভূঁইয়া বাংলাদেশের অধিনায়ক হয়েছেন। ফিনল্যান্ডপ্রবাসী তারিক রায়হান কাজীও জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন। স্থানীয় ফুটবলারদের সঙ্গে তাঁদের কি পার্থক্য দেখেন?

জেমি: ওরা কৌশলগতভাবে অনেক এগিয়ে। ওরা খুব ছোটবেলা থেকে ভালো সুযোগ-সুবিধার মধ্যে অনুশীলন করেছে। ভালো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলে বেড়ে ওঠায় নিজেরাও ভালো হয়েছে। বাংলাদেশের ফুটবলারদের জন্য এটা অনেক কঠিন। ছোটবেলায় তারা অনুশীলনের ভালো সুযোগ পায় না। আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি করতে বাংলাদেশের উচিত ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

দলে প্রথাগত নম্বর ‘নাইন’ রাখেননি। লিগে স্থানীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ গোল করা সুমন রেজা, জুয়েল রানা, মোহাম্মদ জুয়েলদের কি সুযোগ দেওয়া যেত?

জেমি: দলে ফরোয়ার্ড হিসেবে মতিন মিয়া, রাকিব হোসেন, সাদ উদ্দিনরা আছে। ফরোয়ার্ডে খেলার মতো আরও আছে বিপলু, ইব্রাহিম, সুফিল। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তারা সবাই পরীক্ষিত। লিগে সুমন, জুয়েলরা ভালো খেলেছে সত্যি। কিন্তু ঘরোয়া ফুটবলের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলের পার্থক্য অনেক। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো করে এমন ফরোয়ার্ডদেরই দলে নিয়েছি।

default-image

এএফসি কাপে বসুন্ধরা কিংসের পারফরম্যান্স কেমন দেখলেন?

জেমি: বসুন্ধরা খুবই ভালো খেলেছে। তাদের দুর্ভাগ্য। শেষ ম্যাচে ১১ জনের বিপক্ষে ১১ জন নিয়েই খেলতে পারলে হয়তো জিততে পারত। বসুন্ধরায় বিদেশিরাই গোল করছে, ম্যাচ জেতাচ্ছে। স্থানীয় খেলোয়াড়েরা শুধু তাদের সহযোগিতা করার জন্য মাঠে নামছে, এদিকটাতে একটু বদল এলে ভালো লাগবে। স্থানীয়রা প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলেছে। তবে তারা আরও গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারলে ভালো হতো।

সাক্ষাৎকার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন