জিতলেই শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা কিংসের আরও কাছে চলে আসত শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। কিন্তু পরশু প্রিমিয়ার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শেখ জামালের গোল বাতিল করেন রেফারি জালাল উদ্দিন। এ নিয়ে চলছে তীব্র বিতর্ক। শেখ জামাল রেফারিদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তুলেছে।
default-image

শেখ জামাল ক্লাবের দাবি, তাদের ন্যায্য গোল থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এটা নিয়ে কী বলবেন?

জালাল উদ্দিন: ওটা গোল ছিল না। আমি কোনো ভুল করিনি। কিন্তু এই গোল নিয়ে এখন পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হয়েছে। ফেসবুকে আমাকে নিয়ে ট্রল করা হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হচ্ছে। আমিও তো এই সমাজের একজন। আমারও পরিবার, আত্মীয়স্বজন আছে। ওদের সামনে আমি ছোট হয়ে যাচ্ছি।

কিন্তু ভিডিও রিপ্লে দেখে মনে হয়েছে ওটা গোলই ছিল?

জালাল উদ্দিন: দেখুন, আমি তপু (বসুন্ধরা কিংসের ডিফেন্ডার তপু বর্মণ) ও জোবের ঠিক পেছনেই ছিলাম। জোবে ডান হাত দিয়ে তপুর বাঁ কাঁধে ও পেটের বাঁ দিকে ধাক্কা দিয়েছে। তপু যেহেতু দক্ষিণ দিকে মুখ করে যাচ্ছিল, তখন বাঁ দিকে কেউ যদি আঘাত করে, তাহলে পশ্চিম দিকের কেউ দেখতে পারবে না। জোবে যে ডান হাত ব্যবহার করেছে, তা কেউ দেখতে পায়নি। ওর শরীরের কারণে ওই দিকটা ব্লক হয়ে গেছে। যারা উত্তর ও দক্ষিণ দিকের গ্যালারিতে ছিল, ওরা বুঝতে পারবে। ওদের খুব কাছে থাকার কারণে এটা আমার পক্ষে দেখা সম্ভব হয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিম দিকে বসে যারা খেলা দেখবে, তাদের জন্য এটা বুঝতে পারা কঠিন। যারা গোলপোস্টের পেছনের দিকে বসেছিল, তারা আংশিক দেখতে পাবে।

default-image

আপনার বিরুদ্ধে অনেকে অভিযোগ করছে, বসুন্ধরা কিংসকে সুবিধা দিতেই এভাবে বাঁশি বাজিয়েছেন?

জালাল উদ্দিন: কোনো ক্লাব কর্মকর্তার হুমকি বা টাকাপয়সা দেওয়ার লোভে আমি বাঁশি বাজাই না। উত্তরাধিকার সূত্রে বাবার অনেক সম্পদ পেয়েছি। এ ছাড়া ভালো একটা চাকরি করছি (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক)। আমি কারও পক্ষে কখনোই বাঁশি বাজাই না। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আইনের মধ্যে থেকেই বাঁশি বাজাই।

ফেসবুকে আমাকে নিয়ে ট্রল করা হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হচ্ছে। আমিও তো এই সমাজের একজন। আমারও পরিবার, আত্মীয়স্বজন আছে। ওদের সামনে আমি ছোট হয়ে যাচ্ছি।
জালাল উদ্দিন, বাংলাদেশের রেফারি
বিজ্ঞাপন

ফুটবলপাড়ায় এমনও গুঞ্জন, বসুন্ধরা কিংস বিমানে করে রেফারিদের বিভিন্ন ভেন্যুতে নিয়ে যায়, উপহার দেয়। এ ব্যাপারে আপনি কী বলবেন?

জালাল উদ্দিন: এটা শুধুই একটা গুঞ্জন। আমার জানামতে কোনো রেফারিই বায়াসড (পক্ষপাতিত্বমূলক হয়ে) নন।

ওই ম্যাচের গোল বাতিলের পর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করেছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। বাফুফে থেকে কি আপনাকে জবাবদিহি করার জন্য ডেকেছিল?

জালাল উদ্দিন: আমিও শুনেছি এই গোল নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেছে। কাল বাফুফেতে রেফারিজ কমিটির সভা ছিল। সেখানে আমাকে ডাকা হয়নি। এই গোলের অন্য অ্যাঙ্গেল থেকে পাওয়া একটা ভিডিও আমার হাতে এসেছে। আমি এটা নিয়ে রেফারিজ কমিটির সামনে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু জাকির ভাই (বাফুফের রেফারিজ কমিটির চেয়ারম্যান জাকির হোসেন) আমাকে আসতে নিষেধ করেছেন। বলেছেন, যেহেতু তোমাকে ডাকা হয়নি, আসার দরকার নেই। কিন্তু আমি সঠিক তথ্য সবার সামনে তুলে ধরতে চাই।

কাল সংবাদ সম্মেলনে শেখ জামাল ক্লাবের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মনজুর কাদের বলেছেন, রেফারিরা নিরপেক্ষভাবে বাঁশি বাজাতে পারছেন না। কতখানি সত্য এটা?

জালাল উদ্দিন: শেখ জামাল আজ রেফারিং নিয়ে অনেক কথা বলছে। কিন্তু ওই দিন (২ ফেব্রুয়ারি) যখন সাইফ স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে শেষ সেকেন্ডে পেনাল্টি পেল, তখন তো কোনো কথা বলেনি ওরা। কারও পক্ষে গেলে তখন সেটা সমস্যা নয়, বিপক্ষে গেলেই রেফারিদের নিয়ে সমালোচনা। আমরা সব সময় নিরপেক্ষভাবেই বাঁশি বাজাই।

অনেকে তো বিদেশি রেফারি দিয়ে লিগ চালানোর কথাও বলছেন।

জালাল উদ্দিন: একটা মৌসুম খেলা চালালেই ক্লাবগুলো বুঝবে ‘কত ধানে কত চাল’। এর আগেও ঢাকার ফুটবলে বিদেশি রেফারি এসেছে। কিন্তু ওরা দুইটা খেলাও চালাতে পারেনি।

দেশের ফুটবলে ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) প্রযুক্তি আনার পক্ষে অনেক ক্লাব মত দিচ্ছে।

জালাল উদ্দিন: এটা সময়ের দাবি। আমরা এখনো অন্যদের চেয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে আছি। খেলা নির্ভুলভাবে চালাতে হলে প্রযুক্তির বিকল্প নেই।

বিজ্ঞাপন
সাক্ষাৎকার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন