টবি রেডফোর্ড: বাংলাদেশের হাই পারফরম্যান্স কোচ।
টবি রেডফোর্ড: বাংলাদেশের হাই পারফরম্যান্স কোচ।ছবি: প্রথম আলো
বিসিবির চাকরি নিয়েই বড় আশা দেখান হাই পারফরম্যান্স দলের কোচ টবি রেডফোর্ড। কাজ শুরু করেন টেস্ট ব্যাটসম্যান তৈরির লক্ষ্য নিয়ে। দায়িত্ব নেওয়ার পর গত চার সপ্তাহে দেখেছেন জাতীয় দলে খেলা আফিফ হোসেন, মোহাম্মদ নাঈম, সাইফ হাসানসহ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের ব্যাটসম্যানদের। কদিন আগে দেশে ফিরে যাওয়ার আগে প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেডফোর্ড জানিয়েছেন খেলোয়াড়দের সম্পর্কে তাঁর পর্যবেক্ষণ-

চার সপ্তাহের মতো কাজ করলেন ক্যাম্পে। মূলত কোন বিষয়গুলো নিয়ে কাজ হয়েছে?

টবি রেডফোর্ড: আমাদের মনোযোগ ছিল মূলত লাল বলে। লম্বা সময় ধরে খেলা, শট নির্বাচন, অফ স্টাম্পের বলে ভালো খেলা, কোনটা খেলবে, কোনটা ছাড়বে সিদ্ধান্ত নেওয়া-এসবই ছিল ক্যাম্পের শুরুর কাজ।

তৌহিদ হৃদয়কে অনেক সময় দিয়েছেন। তাঁকে কেমন মনে হয়েছে?

রেডফোর্ড: হৃদয় সব সংস্করণেই ইনিংসের মাঝে খুব ভালো খেলে। মিডিয়াম পেস ও স্পিন ভালো খেলে। কবজির মোচড়ে এক-দুই নিতে পারে, এটাই তার শক্তি।

প্রস্তুতি ম্যাচে আকবরের ব্যাটিংয়ে কিছু কৌশলগত পরিবর্তন দেখা গেছে। তাঁর সঙ্গে কী ধরনের কাজ হয়েছে?

রেডফোর্ড: খুব ভালো সেশন করেছিলাম আকবরের সঙ্গে। আমরা ওর ট্রিগার মুভমেন্ট নিয়ে কথা বলি। সে ক্রিজে আটকে যাচ্ছিল। আমরা একটু পরিবর্তন এনেছি যেন সে সামনে ও পেছনে নড়াচড়া করতে পারে। তার শেখার আগ্রহ অনেক। খুব দ্রুত শিখতেও পারে। আমাদের সেশনের দুই দিন পরেই সে বড় সেঞ্চুরি করে বসে।

শাহাদাত হোসেন ছিলেন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। হাই পারফরম্যান্সে এসে ওপেনার হয়ে গেলেন কীভাবে?

রেডফোর্ড: প্রথম নেট সেশনে দেখেই মনে হয়েছে, বাকিদের তুলনায় কৌশলগতভাবে শাহাদাত এগিয়ে। একদম আদর্শ যাকে বলে। ওর মধ্যে একজন উঁচু মানের ওপেনারের গুণ আছে। আমি একদম শুরুতেই এহসানকে (কোচ জাফরুল এহসান) বলেছি, এই ছেলেকে ভবিষ্যতের টেস্ট ওপেনার মনে হচ্ছে। কেন এমন একটা ছেলেকে আপনি মিডল অর্ডারে রেখে নষ্ট করবেন?

তানজিদ হাসান প্রায় সব ম্যাচেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন। তাঁকে কেমন দেখলেন?

রেডফোর্ড: ছোট ছেলে, বিশাল দেহী নয়। কিন্তু ও এত জোরে আর এত নিখুঁত শট খেলে! ওর মতো শারীরিক গড়নের কাউকেই আমি এভাবে বল মারতে দেখিনি। সব কিন্তু ক্রিকেটীয় শটই। অথচ বল ওর ব্যাট থেকে যেন উড়াল দেয়। সাদা বলে সে বিধ্বংসী।

default-image
বিজ্ঞাপন

কিন্তু তাঁর তো দ্রুত ৩০-৪০ করে আউট হওয়ার প্রবণতা আছে। শট নির্বাচনে সমস্যা নিশ্চয়ই?

রেডফোর্ড: শুধু তানজিদ নয়, সবাইকেই এ ব্যাপারে বলা হয়েছে। শট খেলা কঠিন নয়। তবে সঠিক সময়ে সঠিক শট খেলা কঠিন। ম্যাচগুলো মনে হয়েছে সে বুঝেশুনেই খেলছে। যেটা তার মারার বল, সেটা কিন্তু গ্যালারিতে যাচ্ছে। যখন মারার বল পাচ্ছে না, তখন এক-দুই নিচ্ছে। এই অভ্যাসটা ধরে রাখতে হবে।

লাল বলের ওপেনার হতে পারবেন তানজিদ?

রেডফোর্ড: অবশ্যই। কেন নয়! সে আগ্রাসী, এটা কোনো সমস্যা নয়। মানসিকতাই আসল। আমি ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টির বিশেষজ্ঞ তৈরি করতে আসিনি। আমার কাজ ভালো ব্যাটসম্যান তৈরি করা, যারা সব জায়গায় সফল হবে।

মাহমুদুল হাসানও তো দারুণ প্রতিভা। কিন্তু হাই পারফরম্যান্সের ম্যাচগুলোতে রান পাননি...

রেডফোর্ড: নেটে, বোলিং মেশিনের সামনে ওকে দারুণ লেগেছে। কিন্তু কীভাবে জানি ম্যাচে এলেই আউট হয়ে যায়! অসাধারণ প্রতিভা। তার খেলা দেখতেও দারুণ। খেলাতে কোনো সমস্যা নেই। সেই শট নির্বাচনের কথাই আসে।

আফিফ, নাঈম ও সাইফদের কেমন দেখলেন। তিনজনই তো জাতীয় দলে খেলে ফেলেছেন...

রেডফোর্ড: ওদের প্রায় সবাই-ই দেখেছি গার্ড নিচ্ছে লেগ স্টাম্প অথবা মিডল-লেগে। আমি তাদের জিজ্ঞেস করলাম, ‘বোলাররা কোন স্টাম্পে বেশি বল করবে?’ ওরা বলল, ‘অফ স্টাম্প ও অফ স্টাম্পের বাইরে।’ তারপর জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘কেন তাহলে মিডল-লেগে গার্ড নিচ্ছ?’ ওরা বলল, ‘আমি জানি না। সব সময় তো এটাই করে এসেছি।’ দেখছেন তো সমস্যাটা কোথায়? স্মিথ, কোহলি, স্টোকসদের দেখুন; বল ছাড়ার সময় ওদের মাথা থাকে অফ স্টাম্পে। যেন সহজেই বাইরের বল ছাড়তে পারে। যখনই আমি নাঈম, সাইফদের গার্ড বদলে মিডল-অফ স্টাম্পে আনলাম, তখনই সবকিছু বদলে গেল। আর আফিফ আমাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নিকলাস পুরানের কথা মনে করিয়ে দেয়। এত সুন্দর বল হিটিং সামর্থ্য খুবই কম দেখা যায়।

আপনার বেশ কিছু পুরোনো ছাত্র এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে নিয়মিত। বিসিবি হাই পারফরম্যান্স দল থেকেও নিশ্চয়ই বেশ কয়েকজনকে বাংলাদেশ দলে দেখতে চাইবেন...

রেডফোর্ড: কেন নয়! ২০১০–এর দিকে যাদের সঙ্গে কাজ করেছি, তাদের অনেকেই এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে। জেসন হোল্ডাররা এখনো আমাকে মেসেজ করে টুকটাক তথ্য নেয়। এখান থেকেও আশা করি তাই হবে। কেউ কেউ খুব দ্রুতই সুযোগ পাবে আশা করি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাফল্য এখানেও চাই।

মন্তব্য পড়ুন 0